join facebook page

Showing posts with label daily nayadiganta (Abokash). Show all posts
Showing posts with label daily nayadiganta (Abokash). Show all posts

Wednesday, 16 December 2015

১৮-১০-২০১৫ অবকাশে

হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি

সোহানুর রহমান অনন্ত

একটা সময় গ্রামের বাড়িগুলোতে কিংবা পথের পাশের তালগাছের দিকে লক্ষ করলেই চোখে পড়ত বাবুই
পাখির বাসা। সকাল থেকে সাঁঝের বেলা পর্যন্ত চলত
তাদের বাসা তৈরির কারুকাজ। ধরে নেয়া হয় যে বাবুই পাখির মতো করে এমন নিখুঁত বাসা তৈরির কাজ আর কোনো পাখি করতে পারে না। বৈচিত্র্যের দিক থেকে এই পাখির বাসা কেবল দৃষ্টিনন্দনই না, বরং আর্কিটেকচারাল দিক থেকেও নিখুঁত। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে এর টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো। কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটি পড়েননি এমন মানুষ পাওয়া যাবে না একটিওÑ
‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,
কুঁড়েঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে...।’
কবির স্বাধীনতার সুখ কবিতাটি আজো উদাহরণ হিসেবে মানুষ ব্যবহার করলেও সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।
গ্রামে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে গেলেও বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা চোখে পড়ে না।
দিনে দিনে মানুষ বাড়লেও কমছে পশু-পাখির সংখ্যা। অসচেতনতা, পাখি শিকার এবং আবাসনব্যবস্থার
কারণে গাছ কেটে ফেলার কারণে গ্রামবাংলার
এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ
বিলুপ্তির পথে।
বাবুই পাখিকে মূলত শিল্পীপাখি বলা হয়। এরা
আকারে ছোট হলেও খুব চতুর ও বুদ্ধিমত্তার সাথে
বাসা তৈরি করে। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু
তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করে বাবুই পাখিরা।
সে বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত। প্রবল
ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাসা বানানো
জন্য খুবই পরিশ্রম করে এরা। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। এরপর উঁচু তালগাছ, নারিকেল বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে।
বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাক্সিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে পুরুষ বাবুইয়ের সময় লাগে চার দিন। কেননা তখন পুরুষ বাবুই মহা আনন্দে বিরামহীন কাজ করে।
স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণভাবে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেয়ার সাথে সাথেই পুরুষ বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক সঙ্গীকে। পুরুষ বাবুই এক মওসুমে ছয়টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘরসংসার করতে পারে ছয় সঙ্গীর সঙ্গে, তাতে স্ত্রী বাবুইয়ের না নেই।
স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর তিন সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা ছেড়ে উড়ে যায়।
বাবুই সাধারণত তিন প্রজাতির হয়ে থাকে, দেশী বাবুই (Ploceus philippinus), দাগি বাবুই (Ploceus manyar), বাংলা বাবুই (Ploceus bengalensis), তাও আজকাল দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এরা কেবল বাসা তৈরি করেই থেমে নেই। রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়।
বাবুই পাখি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামের তালগাছের পাতায় পাতায় বাবুই পাখির বাসা ঝুলে না থাকলে যেন গ্রামের সৌন্দর্যই থাকে না। কিন্তু হালসময়ের চিত্র একেবারে ভিন্ন। বাবুই পাখির সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ। কারণ বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু, রেণু প্রভৃতি খেয়ে জীবনধারণ করে। ফসলি জমিতে অতিরিক্ত বিষ প্রয়োগের কারণে বিপণœ পাখির তালিকায় উঠে এসেছে বাবুইয়ের নাম।
দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা এতটাই কমে যাচ্ছে হয়তো অদূরভবিষ্যৎতে বাবুই পাখি চোখেই পড়বে না। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ঐক্য। পাখি শিকার এবং অকারণে গাছ কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা সচেতন হলে প্রকৃতির কোনো কিছুই আর হারিয়ে যাবে না। া
ংৎধহড়হঃড়লঁমধহঃড়ৎ@মসধরষ.পড়স

Tuesday, 11 August 2015

09-05-2015 Abokash-a

প্রাণের শহর

সোহানুর রহমান অনন্ত

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনাগোনা। বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাস। ব্যস্ত এই ঢাকা এখন মানুষের প্রাণের শহর। চাকরির খোঁজে অথবা যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ এখন ছুটে আসে ঢাকায়। ৪০০ বছরের পুরনো প্রিয় নগরী।
এই নগরীতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দিন দিন বড় বড় দালানের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে নীল আকাশ। নেই খেলার মাঠ কিংবা বুকভরে নিঃশ্বাস নেয়ার মতো জায়গা। সারাণই মানুষের কোলাহলে পরিপূর্ণ আজকের ঢাকা। সকাল থেকে রাত, আবার রাত থেকে সকালÑ সারাণই মানুষের পদচারণায় মুখরিত ঢাকার পথঘাট। প্রাণের নগরী ঢাকাও তাই ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য, সৌন্দর্য।
পুরান ঢাকায় এখনো কিছু রীতিনীতি চললেও নতুন ঢাকায় এসব একদম চলে না। যে যার মতো ব্যস্ত, কারো সাথে কারো কথা বলারও সুযোগ নেই। মানুষের চাপ বাড়ছে; তাই বাড়ছে যানজট, বাড়ছে বাড়িভাড়া। নানামুখী কষ্ট, তবুও মানুষ ঢাকার পানেই ছুটে আসছে। ঢাকার ছেলেমেয়েরা মাঠে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলে না, তারা কম্পিউটারে বাসে খেলে। গাছ কিংবা পাখির কলতান কবেই মরে গেছে। আগের ঢাকা আর এখনকার ঢাকার মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঢাকার নামকরণের সঠিক ইতিহাস নিয়ে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে। কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ওই এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল, তাই রাজা মন্দিরের নাম রাখেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী গড়ে ওঠা শহরটি এখন অনেক বড়। প্রাচীন এই শহরজুড়ে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী মসজিদ রয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকা বিশ্বের দরবারে ‘মসজিদের শহর’ হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু আমাদের এ গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এক দিনে গড়ে ওঠেনি।
অসংখ্য মসজিদের শহরে এই ঢাকা ঐতিহ্যকে বহন করেই চলেছে। পুরান ঢাকার ৬ নম্বর নারিন্দা রোডে এখনো গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকার সর্বপ্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত নারিন্দা বিনত বিবির মসজিদ। জানা যায়, এখানে বসবাসকালীন আরাকান আলীর মেয়ে বিনত বিবির আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাকে এই মসজিদের পাশেই সমাধিস্থ করা হয় এবং পরবর্তীকালে আরাকান আলীর মৃত্যু ঘটলে তাকেও এখানেই কবর দেয়া হয়। পরবর্তীকালে বিনত বিবির নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়। মসজিদের দেয়ালে একটি
কালো পাথরে এই ইতিহাস ফারসি ভাষায় খোদাই করা আছে।
এ ছাড়া ঢাকায় রয়েছে বেশ কিছু দার্শনিক স্থান। আহসান মঞ্জিল জাদুঘর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানে প্রতিদিন ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। ঐতিহ্যের আরেক সাী বিউটি বোর্ডিং। বাংলাদেশের অনেক প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গায়ক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, চিত্রশিল্পী, চিত্রপরিচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হতো বিউটি বোর্ডিং। অনেক বড় বড় ব্যক্তি এখানে যাতায়াত করতেন। বিউটি বোর্ডিংয়ের ক্যান্টিনে বসেই প্রতিদিন চায়ের কাপের সাথে আড্ডার ঝড় তুলতেন নির্মলেন্দু গুণ, শহীদ কাদরী, কবি শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ ও শামসুল হকের মতো কবি-সাহিত্যিকেরা। বিউটি বোর্ডিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রহøাদ সাহা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।
প্রহাদ সাহার বড় মেয়ের নামে বোর্ডিংটির নামকরণ করা হয় বিউটি বোর্ডিং। এ ছাড়া আরো রয়েছে ঢাকা জাদুঘর, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হলসহ আরো অনেক ঐতিহাসিক স্থান।
ঢাকা শহরে মানুষ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে এই শহর। এখন থেকেই সচেতন না হলে অদূরভবিষ্যতে ঢাকায় বসবাস করা মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠবে। সেই সাথে যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে তাহলে হতাহতের সংখ্যা অনেক গুণ ছাড়িয়ে যাবে। তাই প্রিয় শহর ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এবং নিজেরা বাঁচতে হলে এখন থেকেই নিয়ম মেনে চলতে হবে।
আমরাই পারি আমাদের শহরকে সুন্দর করে তুলতে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে



02-08-2015 Abokash-aবন্ধু দিবস

সোহানুর রহমান অনন্ত

ন্ধু খুব ছোট একটি শব্দ অথচ এর গভীরতা অনেক বেশি। বন্ধু এমন একজন মানুষ, যে মুখ দেখেই মনের কথা বুঝতে পারে।
বন্ধু মানে দুষ্টামি, খোঁচা দিয়ে কথা বলা; তারপর মিষ্টি একটা মেসেজ দিয়ে অভিমান ভাঙানো। এক কথায় বলতে গেলে আত্মার কাছাকাছি যে বাস করে, সেই আত্মার বন্ধু বা স্বজন। বন্ধুত্বের জন্য চাই সুন্দর একটি মন, যে মন দিয়ে একজন আরেকজনকে বুঝতে পারবে। সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকবে।
বন্ধু শব্দের মাঝে মিশে আছে যেন নির্ভরতা আর বিশ্বাস। যে কথা বাবা-মা, ভাইবোন কিংবা স্বামী-স্ত্রীকে বলা যায় না, সে কথা অনায়াসে বন্ধুকে বলা যায়। অনেক সময় অনেক কষ্টের কথা বন্ধুর কাছে বলে হালকা হওয়া যায়। নেয়া যায় বন্ধুর থেকে ভালো পরামর্শ। একজন ভালো বন্ধু কেবল বন্ধুই নয়, ভালো অভিভাবকও বটে। বন্ধু আর বন্ধন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন বন্ধুর জন্য আরেকজন জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারে।
বন্ধুত্ব কখন কিভাবে হয়ে যায় তা বলা মুশকিল। ছেলেবেলা থেকে শুরু করে সব বয়সেই কোনো না কোনোভাবে আমরা কারো সাথে বন্ধুত্ব করছি। হতে পারে সে ছেলে কিংবা মেয়ে অথবা বয়সে আপনার চেয়ে ছোট কিংবা বড়। ব্যস্ততার কারণে কিংবা অন্য কারণে হয়তো অনেকেই হারিয়ে যায় কিংবা যোগাযোগ করা হয় না। তার মাঝেও কিছু বন্ধু থাকে, যারা কখনো হারিয়ে যায় না। তারা সব সময় আপনার ভালোই চায়। বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়।
শতকষ্টের মধ্যেও আপনার মুখে হাসি ফোটায়। পাকাপোক্ত বন্ধনের ভিত্তিই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব মানেই যেন হৃদয়ের সবটুকু আবেগ নিংড়ে, ভালোবাসা দিয়ে মন খুলে জমানো কথা বলা। বন্ধুর জন্য গেয়ে ওঠাÑ পুরো পৃথিবী এক দিকে আর আমি অন্য দিক... সবাই বলে করছি ভুল আর তোরা বলিস ঠিক... বন্ধু বুঝে আমাকে...।
রোববার বিশ্ব বন্ধু দিবস। প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববার দুনিয়াজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশেও পালিত হবে বিশ্ব বন্ধু দিবস। বন্ধুত্বের জন্য যদিও আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন হয় না, তবুও এই একটি দিন কাছের কিংবা দূরের সব বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে পারেন। তাদের ফেসবুকে কিংবা মোবাইলে অথবা কার্ডে শুভেচ্ছা পাঠাতে পারেন। যদিও বর্তমানে শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় কার্ডের প্রচলন হারিয়ে যেতে বসেছে। তার পরও বন্ধু দিবসের কার্ড তুলে দেবেন বন্ধুর হাতে বন্ধু।
পাশাপাশি ফুল, চকোলেট, অন্যান্য উপহারসামগ্রী দেবেন কেউ কেউ। আসুন, একটু জেনে নেয়া যাক কবে কিভাবে এই বন্ধু দিবস চালু হলো।
১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালনের প্রথা চালু হয়। ইতিহাস মতে, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। হত্যার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এর পর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর ল্েয আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বন্ধু দিবস। পৃথিবীর অনেক দেশেই পালন করা হচ্ছে এ দিনটি। বন্ধু দিবসে তাই সব বন্ধুকে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

Sunday, 26 July 2015

Aj 28-06-2015 Abokah-a

নয়নাভিরাম নিঝুমদ্বীপ

সোহানুর রহমান অনন্ত

সুন্দরের এক অপূর্ব লীলাভূমির নাম নিঝুমদ্বীপ। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক সম্পদ আর অপার সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে জেগে ওঠা দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ। আয়তনে খুব বড় না হলেও প্রকৃতি তার নিজ হাতে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে দ্বীপটিকে। জোয়ার-ভাটার এই দ্বীপের এক পাশ ঢেকে আছে সাদা বালুতে, অন্য পাশে সৈকত। খোলা মাঠ, বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ যেন দিগন্তে গিয়ে মিশে গেছে। চোখ জুড়ানো নকশিকাঁথার মতো বিছিয়ে থাকা সবুজ ঘাসের ওপর হরিণের ছোটাছুটি দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এই বনে সরকারি হিসাবে প্রায় ৪০ হাজারের মতো হরিণ আছে। জানা যায়, ১৯৭৮ সালে এ দ্বীপের কেওড়া বনে ছেড়ে দেয়া হয় চার জোড়া চিত্রা হরিণ। তার থেকেই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে হরিণের সংখ্যা। মায়াবী হরিণের পাল যে রঙ-তুলিতে আঁকা শিল্পীর হাতের ছবি। দ্বীপের বন ও ফসলের মাঠে ঘুরে বেড়ায় হরিণের দল। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত হাজার হাজার পাখির কারণে এখানে রীতিমতো পাখির মেলা বসে যায়, পুরো দ্বীপ তখন পাখির রাজ্যে পরিণত হয়। অন্যান্য সময় বনের কিচিরমিচির পাখির শব্দ, আর ভেসে আসা বাতাসে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাইবেন প্রকৃতির মাঝে। সাদা বালুতে ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়ার বিচরণ। যে সাদা ক্যানভাসে আঁকা প্রকৃতির অপূর্ব এক ছবি। নিঝুমদ্বীপ একটি ছোট্ট দ্বীপ। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত নিঝুমদ্বীপ। এক দিকে মেঘনা নদী আর তিন দিকে বঙ্গোপসাগর ঘিরে রেখেছে। নিঝুমদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মাইলের পর মাইল জুড়ে কেওড়া বন আর সেই বনের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চিত্রা হরিণ। জানা যায়, ১৯৪০-এর দশকে এই দ্বীপটি আস্তে আস্তে জেগে ওঠে। কেওড়া-গেওয়া বনে সমৃদ্ধ সুন্দর একটি দ্বীপ। ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর দুর্যোগকবলিত এক জাহাজ থেকে ভেসে আসে দ্বীপে কয়েক বাক্স কমলা। চরে কমলা পড়ে থাকতে দেখে জেলে ও রাখালেরা এ দ্বীপের নাম রাখে কমলার চর। তবে নিঝুমদ্বীপের পূর্ব নাম ছিল চর-ওসমান। জানা যায় ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন এই নামেই এর নামকরণ হয়েছিল। পরে হাতিয়ার সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম কালাম এই নাম বদলে নিঝুমদ্বীপ নামকরণ করেন। সেই থেকে নিঝুমদ্বীপ হিসেবেই এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিল না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিল। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি নিঝুমদ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুমদ্বীপে আসে। অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এ দ্বীপের মাটি চিকচিকে বালুকাময়, তাই জেলেরা নিজ থেকে নামকরণ করে বালুর চর। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালুর ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেও ডাকত। বর্তমানে নিঝুমদ্বীপ নাম হলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বা বাল্লারচর বলেই সম্বোধন করে। নিঝুমদ্বীপের বর্তমান আয়তন প্রায় ৯২ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তর অংশে রয়েছে বন্দরটিলা। দ্বীপের ৭০ ভাগ মানুষ মৎস্যজীবী ও ৩০ ভাগ কৃষিজীবী। গভীর সমুদ্র ও নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছধরে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বসবাসকারীরা থাকে আতঙ্কিত। তবুও জীবিকার টানে তাদের গভীর সমুদ্রে পারি জমাতে হয়। দ্বীপের চতুর্দিকে বিশাল মৎস্যভাণ্ডার। নানা রকম মাছ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। তবে বর্ষার সময় সবচেয়ে বেশি মাছ ধরা পড়ে। বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলারে করে এসে জেলেরা এই দ্বীপের চার পাশ ঘিরে মাঝ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে। নিঝুমদ্বীপ দিনের আলোয় যতটা সুন্দর রাতের নিস্তব্ধতায় ততটাই আকর্ষণীয়। চন্দ্রালোকে জোয়ার-ভাটায় এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এক স্বর্গীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে। জ্যোৎস্নার আলোয় বেলাভূমিতে সাগরের ফেনীল ঊর্মীমালা আছড়ে পড়ার অপূর্ব দৃশ্য কাউকে আলোড়িত না করে পারে না। সাদাটে রুপালি অর্ধেক চাঁদের আলো যে এতটা সুন্দর হতে পারে, তা হয়তো নিঝুমদ্বীপে না গেলে বুঝতেই পারবেন না। দ্বীপের দণিপ্রান্ত থেকে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। নিঝুমদ্বীপে খালগুলোর মধ্যে চৌধুরীর খাল, পটকাখালী খাল, সোয়ানখালী খাল, ডুবাই খাল, ধামসাখালী খাল, ভট্রোখালী খাল, কাউনিয়া খাল, লেংটা খাল। খালের জলে হরিণের পানি পানের দৃশ্য এবং পাখিদের স্নান করা ইত্যাদি পর্যটকদের রোমাঞ্চিত করবে। সে দৃশ্য স্বচে না দেখলে কল্পনা করাও অসম্ভব। সমুদ্র পাড়ে ১২ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত, সৈকতে এরা ভ্রমণবিলাসীদের মনে আনন্দ ছড়ায়। শীতের মওসুমই হচ্ছে নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময়। কেননা এ সময় সাগর শান্ত থাকে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিঝুমদ্বীপের খ্যাতি দিনকে দিন বেড়েই চলছে। যাতায়াত ব্যবস্থাও এখন সহজ হয়ে যাওয়ায় নিঝুমদ্বীপ এখন পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি চাইলে নিঝুমদ্বীপে যেতে পারেন। আর উপভোগ করতে পারেন অপার সৌন্দর্যে ঘেরা নিঝুমদ্বীপকে

Monday, 1 June 2015

Aj 24-05-2015 Abokash-a

মানবপাচার

সোহানুর রহমান অনন্ত

একজন মানুষের স্বপ্ন অনেক বড় হয়। তার এই স্বপ্নের মাঝে থাকে তার পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে যখন নিজেই পড়ে যান জীবন মরণের মাঝখানে ঠিক তখনই সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। সাগরের প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে দূরে সরে যায়। এটা কোনো উপন্যাসের ভূমিকা নয়, বাস্তব। এভাবেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া অনেক বাংলাদেশী ভাসছে সাগরের জলে। দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টাকালে সাগরে ভেসে বেড়ানো কিংবা জঙ্গলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করার কথা এখন সবার মুখে মুখে। মানবপাচার করে অনেক পাচারকারী আবার কোটিপতি বনে গেছেন। গরিবের সরলতার সুযোগ নিয়ে দালালেরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা, যা দেখার কেউ নেই। ভালো উপার্যনের আশায় সমুদ্রপথে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে। কিন্তু শুরু যতটা না সুন্দর হয় শেষটা হয় তার চেয়েও কঠিন। তারা জানে না এটা খুবই দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রা। যখন এই চিরসত্যটি তারা বুঝতে পারেন তখন আর ফেরার পথ নেই। মানবপাচারে জড়িত রয়েছে রোহিঙ্গাসহ তিন শতাধিক স্থানীয় ও বহিরাগত দালাল। এমনটা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। হঠাৎ করে গণমাধ্যমে বিষয়টি চলে আসায় বিভিন্ন দেশের প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সমুদ্রে ভেসে থাকা বিভিন্ন নৌকায় আটকে পড়াদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বাংলাদেশী। দালালদের খপ্পরে পড়ে তাদের জীবন প্রদীপও নিভতে বসেছে। নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেও অনেকে, উদ্ধাদের কোনো ব্যবস্থা নেই। এর কিছুদিন আগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে মারা যান অনেক অবৈধ অভিবাসী। সেই ঘটনার পর ইউরোপীয় দেশগুলো নড়েচড়ে বসে। তারা এগিয়ে আসে মানবপাচার বন্ধে এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। অর্ধেক বাংলাদেশী হলেও বাকি অর্ধেক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা বাঙালি। দেশটিতে বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, লুণ্ঠনসহ নানা নির্যাতন চালিয়ে আসছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধরা। নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে অন্যান্য দেশে। জানা যায়, বিদেশগামী এসব মানুষকে প্রায়ই আটকে রেখে পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে পাচারকারীরা। না খেয়ে বন্দী অবস্থাতেই অনেকে মারা যায়। এভাবেই পাচারকারীরা নাকের ডগায় বসে সাধারণ মানুষের জীবনকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের মতে, জানুয়ারি থেকে মার্চে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বঙ্গোপসাগর থেকে যাত্রা শুরু করেছে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার উদ্দেশে। দিন দিন এর হার বেড়েই চলছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রয়েছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার জন্য তারা বিদেশে পাড়ি জমান অবৈধ পথে। তাদের ধারণা, উন্নত কোনো একটি দেশে যেতে পারলে তাদের জীবনযাত্রা পাল্টে যাবে। দালালের খপ্পরে পড়ে অনেকেই বিক্রি কয়ে দেয় নিজের পৈতৃক সম্পত্তি। দালালের হাতে তুলে দেয় টাকা। ট্রলারে গভীর সমুদ্রে পাড়ি জমান। অনেক মানুষ একসাথে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। খাবার চাইতে গেলে উল্টো নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অর্থনৈতিক কারণে দেশান্তরী হওয়া এসব মানুষের তখন আর কিছুই করার থাকে না। আবার চালকহীন নৌযানে সাগরের বুকে মৃত্যুর দিন গুনছেন অনেকে।
মালাক্কা প্রণালী ও এর আশপাশে সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছেন হাজার হাজার বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম। অন্য দিকে ইন্দোনেশীয় সরকারের প থেকে গত সোমবার নৌকায় অবস্থানকারী শতাধিক বিদেশগামীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সীমান্তসংলগ্ন জঙ্গলে গোপন নির্যাতন শিবির ও বেশ কয়েকটি কবরের সন্ধান পায় দেশটির পুলিশ। সেই খবর পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে উঠে আসে মানবপাচারের ব্যাপারটি। এ ঘটনার পর থেকেই দেশটির আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী মানবপাচারের সাথে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। সাগরে ভাসমান এই মানুষের অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। খাবার-পানির অভাবে বেঁচে থেকেও তারা প্রায় মৃত্য। এসব মানুষকে উদ্ধার করতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন এবং দালালদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করা। অবৈধ পথে যাতে কেউ বিদেশ গমন করতে না পারে সে দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উপকূলীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত প্রতিটি মানুষের জীবনই মূল্যবা

Abokash 17-05-2015

বাঙালির প্রিয় মধুমাস

সোহানুর রহমান অনন্ত

বাঙালির মধুমাস জ্যৈষ্ঠ এসে গেছে। বাহারি রঙের ফলে ছেয়ে গেছে বাজারগুলো। গ্রামের হাটবাজারে এখন মিষ্টি ফলের গন্ধ। প্রচণ্ড গরমে রসাল ফল আপনাকে শুধু চাঙাই করবে না, নিমেষেই মনকে ভালো করে দেবে। ফল প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। ফল পছন্দ করে না, এমন মানুষ নেই বললেই চলে। বিভিন্ন জেলা ফলের জন্য বিখ্যাত হয়ে রয়েছে যুগ যুগ ধরে। সাধ্যের মধ্যে যে যার মতো ফল কিনে মনের তৃপ্তি মেটাচ্ছে। গ্রামের মতো শহরের বিভিন্ন জায়গায় দোকানিরা ফলের দোকান সাজিয়ে বসেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে মধুমাসের নানা জাতের ফল। দেশী ফলের পাশাপাশি অনেকে আবার বিদেশী ফল সাজিয়ে রেখেছেন। তবে দেশী ফলের কদর বিন্দুমাত্র কমেনি তাতে। মধুমাসের ফলগুলো হচ্ছে- আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস, কাঁচা তাল, জামরুল, তরমুজ, পেয়ারা, আতা, করমচা, জাম্বুরা, কাউফল, গোলাপজাম, কামরাঙা, লটকন, টেপাফল, তেঁতুল, গাব, নোনা, বেথুন, ডেউয়াসহ আরো কত কী!

বাঁশখালী, চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার চরাঞ্চল, পটিয়ার চক্রশালা, বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ি এলাকা, এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু পাহাড়ি অঞ্চলে তরমুজের চাষ হয়। এসব এলাকা থেকে পাইকারেরা নগরে সরবরাহ করেন তরমুজ। তারপর শুরু হয় বিক্রি। গরমে তরমুজের চাহিদাও অনেক। তবে মধুমাস বলতে গেলে আমের কথাই সবার আগে আসে। এরই মধ্যে বাজারে শোভা পাচ্ছে পাকা টসটসে আম। সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, নাটোর, ঈশ্বরদী থেকে গুটি আম, মোহনভোগ, গোপালভোগসহ বাহারি নামে বিভিন্ন আমে বাজার সয়লাব। ভারতীয় গুটি আম গোবিন্দভোগ, হিমসাগর পাওয়া যাচ্ছে বৈশাখের শুরু থেকেই। এ ছাড়া রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, লক্ষ্মণভোগ মধুমাসকে পরিপূর্ণ করবে। আর এর পরই আসবে সে অঞ্চলের ফজলি আম। একেকজনের পছন্দ একেক রকম। কেউ আম খেতে ভালোবাসে, কেউ আবার কাঁঠাল। পরিবারের কর্তাকে তাই বিপদে পড়তে হয়। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় জ্যৈষ্ঠ মাসে ফল সবচেয়ে বেশি হয়।

রসে টইটম্বুর মওসুমি ফলের ম ম ঘ্রাণে ভরে ওঠে ফলের আড়তগুলো। আবহমান বাংলার অনেক ঐহিত্য রয়েছে এই মধুমাসকে নিয়ে। মেয়ের বাবা রসাল ফল নিয়ে মেয়ে আনতে যান তার শ্বশুরবাড়ি। ফল দিয়ে মেয়ে-জামাই এবং পরিবারের অন্যদের দাওয়াত দিয়ে আসেন। জ্যৈষ্ঠ মাসে জামাই না এলে মধুমাসই পরিপূর্ণ হবে না, এমনটিই তাদের চিন্তাভাবনা। মেয়ের জামাই বেড়াতে এলে আম, দুধ, কাঁঠাল আরো কত কী খেতে দেন! ঝড় হোক আর রোদে মাঠঘাঠ শুকিয়ে যাক, আম-কাঁঠাল নিয়ে মেয়েবাড়িতে যেতেই হবে। এর সাথে গ্রামের অনেকটা সম্মানও জড়িয়ে থাকে। গ্রামের লোকজনের নিজেদের গাছ থাকায় খুব কম জিনিসই কিনে খেতে হয়। তার পরও যাদের নেই তারাও থেমে থাকে না। বাজার থেকে কিনে এনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে বসে। এই সময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও মওসুমি ফলের মেলা বসে। তখন মনে হয় বাংলার প্রকৃতি যেন সেজেছে রসের হাঁড়ি নিয়ে। তবে বিশেষ করে আমগাছে ঢিল দেয়া অথবা আম চুরি করা নিয়ে প্রত্যেক মানুষের জীবনেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। গ্রামের মতো রাজধানীতে মওসুমি ফলের মেলা বসে। বিশেষ করে আমের মেলা সবার দৃষ্টি কাড়ে।

অন্য দিকে রসাল লিচু দেখে লোভ সামলানো দায়। ছোট বড় সাইজের লিচুর দাম চড়া হলেও ক্রেতার সংখ্যা থাকে বেশি। কারণ, বছরের এই সময়টাতে কেবল এমন রসাল ফলের স্বাদ নেয়া যায়। মাগুরা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও ঢাকার অদূরের সোনারগাঁও অঞ্চলের লিচু অনেক আগে থেকেই বাজারে আসতে শুরু করে। ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে আনন্দ লণীয়। কারণ, বছরের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ফল বিক্রি হয়। দিনাজপুরের লিচু বাজারে আসতে একটু দেরি হয়। বড় সাইজের লিচুগুলোর বাজারে খুব কদর। তবে আম মোটামুটি পাওয়া গেলেও লিচু খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়। কারণ, সব ফলের চেয়ে লিচু আর আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। বাসস্ট্যান্ড কিংবা টারমিনালগুলোয় এসব ফল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বাজারের পাশাপাশি নগরীর অলিগলির মধ্যেও ঝুড়িতে করে অল্পদামে ফল বিক্রি হয়। গ্রীষ্মে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত জনসাধারণের প্রাণ জোড়াচ্ছে ফলগুলো। তবে যারা একেবারে নিম্নশ্রেণীর, তাদের জন্য মধুমাস অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতোই। বিশেষ করে পথশিশুরা মধুমাস থেকে বঞ্চিত হয়। তবে অনেক সমাজসেবী আবার দলবদ্ধ হয়ে পথশিশুদের মাঝে আম বিলিয়ে দিচ্ছে। এতে তাদের মাঝেও মধুমাসের এক অন্যরকম উৎসব সৃষ্টি হয়। এভাবে যদি আরো অনেকে এগিয়ে আসে, তবে হয়তো কাউকেই আর এই রসাল ফল খাওয়া থেকে বাদ পড়তে হবে না। এ মাসটি সবার প্রিয় মাস।

ফলকে অনেক দিন তরতাজা রাখার জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। এটি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যদিও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, তারপরও ফরমালিন দেয়া থেমে নেই। জানা যায়, কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় সংগ্রহ করে বাগানেই বিষাক্ত ইথিলিন দিয়ে পাকানো হয়। তবুও মধুফল বলে কথা। তাপদাহের যন্ত্রণায় জনমনে একটু শীতলতার পরশ ও প্রশান্তি মধুমাসের এই মধুফলে। তাই মানুষ খেয়ে যাচ্ছে তাদের প্রিয় মধুফল। তবে কিছু বিষয় ল করলে আপনি নিজেই ফরমালিনযুক্ত ফল শনাক্ত করতে পারবেন। বাজারে গিয়ে কিভাবে বুঝবেন ফলে ফরমালিন আছে কি না? প্রথমেই ল করুন আমের গায়ে মাছি বসছে কি না। কেননা ফরমালিনযুক্ত আমে মাছি বসবে না। আমটি যদি ফরমালিনমুক্ত হয় অবশ্যই তাতে মাছি বসবে। ল করুন আমের গায়ে সাদাটে ভাব আছে কি না, যদি থাকে তবে ভাববেন ফলটি ফরমালিনমুক্ত। কারণ ফলে যখন ফরমালিন দেয়া হয় তখন সেটি ঝকঝকে সুন্দর টসটসে দেখায়। একেবারে দাগহীন আম দেখলে কিনবেন না, কারণ গাছপাকা আমের ত্বকে দাগ পড়বেই। ওষুধ দিয়ে পাকানো হলে আমের শরীর হয় মসৃণ ও সুন্দর। আম নাকের কাছে নিয়ে ভালো করে শুঁকে কিনুন। গাছপাকা আম হলে অবশ্যই বোটার কাছে ঘ্রাণ থাকবে। ওষুধ দেয়া আম হলে কোনো গন্ধ থাকবে না কিংবা বাজে গন্ধ থাকবে। আম মুখে দেয়ার পর যদি দেখেন কোনো সৌরভ নেই কিংবা আমে টক-মিষ্টি কোনো স্বাদই নেই, বুঝবেন যে আমে ওষুধ দেয়া। আম কেনা হলে কিছুণ রেখে দিন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে না। গাছপাকা আম হলে গন্ধে ম ম করে চার পাশ। ওষুধ দেয়া আমে এই মিষ্টি গন্ধ হবেই না। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো যদি আপনি বুঝতে পারেন কিংবা জানতে পারেন কোনো বিক্রেতা ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রি করছে। তবে কাছের পুলিশকে জানান কিংবা মোবাইল কোর্টকে জানাতে পারেন; এতে সবাই উপকৃত হবে। মধুমাসের মধুর রসে বাহারি সব ফলের গন্ধ ঝরে, তাই ফলের রসে টইটম্বুর চার পাশ। জ্যৈষ্ঠ আসে ঘ্রাণের মধুমাসের সাজ। তাই মধুমাসের টসটসে ফলের রসে ভরে উঠুক সবার প্রাণ।
sranontojugantor@gmail.com

Tuesday, 12 May 2015

10-05-2015 অবকাশে মা দিবস স্পেশাল লেখা................

অফুরন্ত ভালোবাসায় মা

সোহানুর রহমান অনন্ত

মা ভালোবেসে আমাদের বড় করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তাকে ভালোবাসতে হবে সারা জীবন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি আমাদের অফুরান ভালোবাসা আর অশেষ শ্রদ্ধা। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত
মা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সব কষ্ট হাসিমুখে সয়ে যান, নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। সন্তানের সুখের জন্য নিজের সব সুখ বিলিয়ে দেন। আমরা প্রথম যে বুলি শিখি সেটাও মায়ের মুখ থেকে। পৃথিবীর কেউ আপনার মনের ভাষা বুঝতে না পারলেও মা আপনার মুখ দেখেই বলে দিতে পারবেন আপনি কষ্ট আছেন, না সুখে আছেন। আপনি যত বড়ই হন না কেন, মায়ের কাছে আপনি সেই ছোট শিশুর মতোই। আপনার বাড়ি ফিরতে দেড়ি হলে কিংবা ফোন বন্ধ থাকলে মায়ের চেয়ে বেশি কষ্ট আর কেউ পায় না। যখন আপনি দরজায় এসে দাঁড়াবেন মা-ই সবার আগে দৌড়ে গিয়ে বলবে খোকা এসেছিস, কত টেনশনে ছিলাম। মায়ের হাতের রান্না করা খাবার সব খাবারের ঊর্ধ্বে, যার কোনো তুলনা হয় না। আপনি হয়তো ভাবছেন মাকে শুধু নির্দিষ্ট একটা দিনে খুব বেশি ভালোবাসতে হবে কেন? মাকে তো প্রতিদিনই ভালোবাসা যায়, আলাদা করে একটি দিনের কী প্রয়োজন? প্রয়োজন আছে? এই ব্যস্ততম জীবনে সময়ের স্রোতে ভেসে হয়তো মাকে ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না। হয়তো মায়ের কী প্রয়োজন, তার শরীর ভালো কী খারাপ, তার কোনো খবর জানতে পারেননি। কিংবা আপনার মা হয়তো আপনার কাছে নেই অথবা বৃদ্ধাশ্রমে আপনার পথ চেয়ে চোখের পানি ফেলছে। তাই এই একটি দিন দুনিয়ার সব মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য উৎসর্গ করা হয়। হয়তো কখনো মাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারেননি আপনি তাকে কত ভালোবাসেন। বলতে পারেননি আপনার মনের জমে থাকা কষ্টের কথাগুলো। আর তাই মা দিবসে আপনি সারা দিন মায়ের সাথে কাটাতে পারেন। মায়েরা সব সময় সন্তানদের কাছে পেতে চায়। আপনি যদি মায়ের সাথে কিছুটা সময় কাটান, দেখবেন মা অনেক খুশি হবে। আর আপনার কাছেও বেশ ভালো লাগবে। যদি মা দূরে থাকে তবে ছুটে যান তার কাছে। চাইলে মাকে সারপ্রাইজও দিতে পারেন। আপনার এমন পাগলামো দেখে নিশ্চয়ই মা আনন্দিত হবেন। বিভিন্ন উপহার দিয়ে মাকে চমকে দিতে পারেন। কী উপহার দেবেন মাকে? ভিন্ন ধরনের কিছু দিতে চাইলে কোনো শিল্পীকে দিয়ে করিয়ে নিন মায়ের সুন্দর মুখের স্কেচ। চাইলে ফুল দিতে পারেন কিংবা একবাক্স চকোলেট। সুন্দর ফ্রেমের মধ্যে করে দিতে পারেন মায়ের কোনো সুন্দর মুহূর্তের ছবি আর যদি শাড়ি উপহার দিতে চান, তাহলে দেখুন মায়ের কোন ধরনের শাড়ি বেশি পছন্দ। আবার যদি মা বই পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে উপহার দিন মায়ের ভালো লাগে এমন কোনো বই। আর যদি মা গান শুনতে ভালোবাসেন, তাহলে কিনে ফেলুন তার পছন্দের গানের সিডি। নিতে পারেন মায়ের জন্য তার পছন্দের খাবারও। তবে মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় উপহার আর কিছুই নেই। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় সন্তানদের হারানোর পর জুলি ওয়ার্ড নামে এক মহিলা সব মাকে একত্র করেন এ জন্য যে, যাতে কোনো মায়ের সন্তান যেন অন্য মায়ের সন্তানদের হত্যা না করে। তিনি ৪ জুলাই মা দিবস পালনের প্রস্তাব রাখেন। তার প্রস্তাবনা বিবেচনা করে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ২ জুলাই আমেরিকার ১৮টি অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালন করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পরেই এই আয়োজন স্তিমিত হয়ে যায়। মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসেবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতেরো শতকের কথা। মায়ের সাথে সময় দেয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ। তবে মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটায় মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, মা নিয়ে এই দিনটি প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা
থেকে সূত্রপাত হয়। গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেলের উদ্দেশে পালন করা হতো একটি উৎসব। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯১২ সালে আনা জার্ভিস মাদারস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিযশেন (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) গঠন করেন। এমনকি তিনিই ‘মে মাসের দ্বিতীয় রোববার’ আর ‘মা দিবস’ এই দু’টি শব্দের বহুল প্রচারণা চালাতে সম হন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস। খুব ঘটা করে পালন করা হয় এই দিনটি। কার্ডের দোকানগুলোতে, মাকে নিয়ে তৈরি করা অনেক কার্ড দেখা যায়। মা দিবস হলো মায়ের সম্মানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য বছরের একটি বিশেষ দিন। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই উদযাপিত হয়ে আসছে এ দিবস। সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই মার্চ, এপ্রিল বা মে মাসেই বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। তবে মাকে ভালোবাসার জন্য ৩৬৫ দিনই মা দিবস। বিভিন্ন দেশে অনেক উৎসব থাকলেও মা দিবস খুব জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বা দেশগুলোতে ব্রিটিশ প্রথানুযায়ী মা দিবস পালন হয়ে থাকে। প্রতি বছর ২৭ মে বলিভিয়ায় মা দিবস পালন করা হয়। মা দিবসটি চীন দেশে আগে ততটা জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে চীনাদের মনেও এই দিনটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে। এখন খুব জাঁকজমকভাবেই সেখানে মা দিবস পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে ১৯২২ সালে আলভারো ওব্রেগন সরকার মা দিবসের প্রচলন করে। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ সারা বিশ্বের প্রায় ৬০টির মতো দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার একসাথে মা দিবস পালিত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরেই। আমাদের দেশেও মা দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশি। মাকে নানা রকম উপহার দেয়া, মাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি চোখে পড়ার মতো। যারা প্রবাসে থাকে তারা হয়তো মায়ের কাছে আসতে পারেন না কিন্তু ফোনে ঠিকই মায়ের সাথে কথা বলেন। এভাবেই মা দিবস প্রতিটি সন্তানের কাছে মায়ের ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে সব মা যে এই দিনে ভালোবাসা পাচ্ছেন, এমনটাও কিন্তু নয়। যে মায়ের ভাষায় কথা বলছি, সেই মা-ই হয়তো বৃদ্ধাশ্রমে সন্তানের অপেক্ষায় পথের দিকে চেয়ে থাকে। হয়তো ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে কোনো মা তাকিয়ে থাকে হাজারো লোকের ভিড়ে যদি সন্তানকে একনজর দেখা যায়। মা দিবসেও হয়তো বৃদ্ধাশ্রমে তাদের দিন কাটে অন্য আট দশটা দিনের মতো। সত্যি বলতে, মায়ের প্রতি আজো আমাদের ভালোবাসাটা একটু কাঁচা রয়ে গেছে। মা থাকতেও তাকে দূরে সরিয়ে রাখা অনেকটা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝার মতো। যার মা পৃথিবীতে নেই, সে যে কতটা অসহায় তার বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। আপনি ব্যবসায় লস করলে হয়তো, ভবিষ্যতে লাভবান হবেন। একটা চাকরি হারালে আরেকটা চাকরি পাবেন কিন্তু মা একবার জীবন থেকে হারিয়ে গেলে তাকে আর ফিরে পাবেন না। যদি সম্ভব হয় একটি দিনে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা মায়ের জন্য কিছু ফুল, ভালো কিছু খাবার নিয়ে তাদের সাথে সারা দিন কাটিয়ে দিন। নিঃসঙ্গ, অসহায় মায়েরা বহুদিন পর সন্তানদের দেখতে পেয়ে যে পরিমাণ খুশি হবেন, তাতে সারা বছর দেখা না করার কষ্টটা কিছুণের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তবে মাকে পাশে রাখা, তার সেবা করাই আমাদের কর্তব্য। মোটা মোটা বই পড়ে হয়তো আমাদের মাথাও একসময় মোটা হয়ে যায়, তাই মায়ের কথা ভুলে যাই খুব সহজে। তাই কৃত্রিমতা নয়; ভালোবাসতে হবে হৃদয়ের একান্ত গহিন থেকে। ভালোবাসতে হবে এক দিনে জন্য নয় বরং প্রতিদিন ও সার্বণিকভাবে। যেভাবে মা ভালোবেসে আমাদের বড় করে তুলেছেন ঠিক সেভাবেই তাকে ভালোবাসতে হবে সারা জীবন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি আমাদের অফুরান ভালোবাসা আর অশেষ শ্রদ্ধা
abokash...........3-5-2015

Tuesday, 31 March 2015

আজ ০৮-০৩-২০১৫ দৈনিক নয়াদিগন্তে অবকাশ পাতায় আমার লেখা বসন্ত নিয়ে

এখন বসন্ত

সোহানুর রহমান অনন্ত

প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপ পায় বসন্ত এলে। শীতে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বসন্তের ছোঁয়ায় সেজে ওঠে অপরূপ সাজে। পাতা ঝরার দিন শেষে গাছের ডালে ডালে উঁকি দেয় নতুন কচি সবুজ পাতা। প্রকৃতির মাঝে রঙ মাখাতে ব্যস্ত থাকে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

বসন্ত মানেই শীতের আনুষ্ঠানিক বিদায়। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা আয়োজনের মাঝে বরণ করে নেয় এর প্রথম দিনটিকে। পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে তরুণ, আর বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় ফুল এবং কপালে টিপ পরে তরুণীরা। হাতে থাকে বাহারি রঙের চুড়ি। আর সেই রঙের ছোঁয়ায় প্রতিটি পথ যেন ছন্দময় হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে প্রেমপাগল মন যেন বসন্তকে নিয়েই স্বপ্ন দেখেছে। বসন্তের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যায় না গ্রাম্যজীবনও। আমের মুকুলের সৌরভে আর পিঠাপুলির মিষ্টিঘ্রাণে গ্রামে বসন্তের আমেজ একটু বেশিই ধরা পড়ে। বসন্তকে তারা আরো নিবিড়ভাবে বরণ করে। বসন্তের প্রথম দিনটি আমার পয়লা ফাল্গুন উৎসব হিসেবে পালন করি। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। এর পর তিনি নতুন বছরকে কেন্দ্র করে সবার জন্য ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। বাঙালিদের প্রাণের উৎসব। এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালি সত্তা। ১৯৫২ সালের ৮ ফাগুন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পলাশরাঙা দিনে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন রফিক, বরকতসহ আরো অনেকে। আর এই বসন্তেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। তাই প্রত্যেক বাঙালির মনে গেঁথে আছে এই বসন্ত।
প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপ পায় বসন্ত এলে। শীতে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বসন্তের ছোঁয়ায় সেজে ওঠে অপরূপ সাজে। পাতা ঝরার দিন শেষে গাছের ডালে ডালে উঁকি দেয় নতুন কচি সবুজ পাতা। প্রকৃতির মাঝে রঙ মাখাতে ব্যস্ত থাকে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া। প্রিয়ার মনের মতোই যেন সবুজে ভরে ওঠে অরণ্য। যত দূর চোখ যায়, কেবল সবুজ আর সবুজ। বসন্ত শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও দোলা দেয়। বসন্ত মানে মনের পূর্ণতা, নিবির এক আকাক্সার মিলন। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে বহুদূর হেঁটে যাওয়া। চোখে চোখ রেখে, কল্পলোকের ছবি আঁকা। বসন্তের রঙ মনকে আনমনা করে দেয়। কোকিলের কুহুকুহু সুর যেন বিষের বাঁশির মতো বেজে ওঠে বিরহী হৃদয়ে। কনকনে ঠাণ্ডা না থাকলেও মাঝে মাঝে শীতল হাওয়া শরীর জুড়িয়ে দিয়ে যায়। শহরে এর প্রভাব তেমন না দেখা গেলেও গ্রামে এর সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। বসন্ত এলেই গ্রামের হাটে মেলা বসে। যাত্রাপালা অথবা সার্কাস পার্টি আসে দূর-দূরান্ত থেকে। বসন্ত প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই তাকে বলা হয় ঋতুরাজ। কত শত কবিতা, গান কবিরা লিখে গেছেন এই বসন্ত নিয়ে, তার কোনো হিসাব নেই। প্রেমিকার মিষ্টি হাসির মতোই বসন্ত আলোড়ন তোলে, ঢেউ তোলে মনের সমুদ্রে, শিহরণ জাগায়। সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে শিশিরের অলঙ্করণ নজর কাড়ে। মেঘমুক্ত আকাশে ওড়ে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। শেষ রাতে শোনা যায় টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ। প্রকৃতির সাথে সাথে বসন্তে জেগে ওঠে প্রতিটি প্রাণ, আর হারিয়ে যেতে চায় অজানার মাঝে। া
sranontojugantor@gmail.com


আজ ০৮-২-২০১৫ দৈনিক নয়াদিগন্তের অবকাশে আমার লেখা

ঘুরে আসুন কুয়াকাটা
সোহানুর রহমান অনন্ত

ঘুরে বেড়ানো পছন্দ করে না, এমন মানুষ পাওয়া যাবে না একটিও। সবাই কম-বেশি ঘুরতে পছন্দ করে। বিভিন্ন জায়গায়, কাছে কিংবা দূরে, মানুষ হারিয়ে যেতে চায় অজানার মাঝে। শীত এমনই একটি ঋতু, যে ঋতুতে ঘুরেফিরে মানুষ বেশ স্বাছন্দ্য বোধ করে। আর তাই আপনি চাইলে চলে যেতে পারেন বাংলাদেশের দণি প্রান্তে সাগরকন্যা খ্যাত অপরূপ এক জায়গা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। সুন্দর পরিবেশ এবং সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য দেখে মনটাকেও চাঙ্গা করতে পারেন প্রতি মুহূর্তে। শীতে আপনার প্রতিটি সময়ই কাটবে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের মাঝে। জীবনের ব্যস্ততা ছেড়ে কিছুণের জন্য হলেও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে পারবেন। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার মতো জায়গা দ্বিতীয়টি আর নেই। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। শীতে তাই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে কুয়াকাটাতে।
১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্র সৈকতে বেশির ভাগ জায়গায় নারকেলগাছের সারি, যার অপরূপ দৃশ্য আপনার দৃষ্টি কারবে সহজে। শীতল বাতাস, আর জলের কলতান আপনার মনোজগতে ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভিন্নমাত্রা তৈরি করে। এ ছাড়া সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে আছে জেলেপল্লী। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা বসবাস করে এই পল্লী। তাদের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম এই মাছ ধরা। শুঁটকি পল্লী নামেও জায়গাটি বেশ খ্যাত। বিভিন্ন সময় ধরে সাগর থেকে ধরে আনা মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। তারপর সেগুলো বিক্রি করা হয় খদ্দেরের কাছে। শুঁটকিপল্লীর কাছাকাছি গেলেই বাতাসে ভেসে আসা শুঁটকির গন্ধই জায়গাটির পরিচয় করিয়ে দেয়। ভালো মানের শুঁটকি তাই সব সময় কিনতে পাওয়া যায় এখানে। এ ছাড়া গঙ্গামতির জঙ্গল
পূর্ব দিকে গেলেই চোখে পড়ে। দূর থেকেই চোখে পড়ে নানা রকম গাছে ভরা জঙ্গল। এই জঙ্গলেই পাখি, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী বসবাস করে। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য আর পাখির কলতান আপনাকে মুগ্ধ করবে। স্থানীয় লোকজন গজমতির জঙ্গল বলেও এই বনকে ডেকে থাকে। আরো আছে ফাতরার বন, পশ্চিম পাশের নদীর পার হলেই ফাতরার বন শুরু, তেমন কোনো হিংস্র প্রাণীর বসবাস নেই, চাইলেই আপনি তাই যেতে পারেন সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে। এ ছাড়া কাঁকড়ার দ্বীপ, ক্রাব আইল্যান্ডে স্পিডবোটে করে যেতে পারেন। আরো আছে কেরানিপাড়া, যেখানে গেলে আপনি রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন দেখতে পারবেন। মনোরম ও সুন্দর কারুকার্যের কাপড় আপনার দৃষ্টি কারতে সম। তাদের বানানো চাদরও অনেক বিখ্যাত। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো কুয়াকাটার কুয়া। কথিত আছে, এই কুয়ার নাম অনুসারেই এই জায়গার নাম রাখা হয় কুয়াকাটা। ১৯৭৮ সালে বর্মি রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করেন।
কোনো পথ না পেয়ে রাখাইনরা নতুন জায়গার সন্ধান করতে থাকে এবং চলার পথে এ জায়গাটির খোঁজ পায় এবং এখানে বসতি শুরু করে। আস্তে আস্তে তারা জায়গাটি বাসযোগ্য
করে গড়ে তোলে। মিষ্টিপানির প্রয়োজনে একটি কুয়া খনন করেন এবং এরপর থেকেই আস্তে আস্তে জায়গাটির নাম কুয়াকাটা হয়ে যায়। প্রাচীন এই কুয়াটি
রাখাইনদের বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই অবস্থিত। অনেকেই সেখানে ভিড় করেন কুয়াটিকে এক নজর দেখার জন্য।
অপরূপ সুন্দরের লীলাভূমি এই সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যার সৌন্দর্য শুধু দেশের মানুষই না, বিদেশীদেরও মুগ্ধ করে। বিভিন্নভাবে নদীপথ কিংবা
সড়কপথ হয়ে আপনি কুয়াকাটায় যেতে পারবেন। সেখানে থাকা-খাওয়ার মনোরম পরিবেশের হোটেলও রয়েছে। তাই হাতে কিছু সময় নিয়ে
রিয়ে যেতে পারেন সৌন্দর্যের মাঝে।
বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন সব ব্যস্ততাকে ঝেড়ে ফেলে। সাগরকন্যার প্রকৃতির মাঝে
আপনার প্রতিটি মূহূর্তই কাটবে আনন্দের মাঝে

আজ ০৮-২-২০১৫ দৈনিক নয়াদিগন্তের অবকাশে জীবনের বাঁকে বাঁকেতে আমার লেখা> যদিও অনাকাঙ্খিতভাবে লেখকের নামটা ভুল দিয়ে ফেলেছে।

জীবনের বাঁকে বাঁকে
রিক্ত জীবন

এসএসসির আগের কথা। আমরা তখন জাকির স্যারের কাছে কোচিং করতাম। আমাদের একই ব্যাচে ছিল মোনালিসা। মোনালিসা এত বেশি সেজে আসত যে আমরা ওকে মেকাপ সুন্দরী বলতাম। মাঝে মাঝে খুব রেগে যেত, যদিও রাগটা বেশিক্ষণের নয়। বারটা ঠিক মনে নেই, একদিন বৃষ্টিমুখর দিনে নোমানের সাইকেলের পেছনে বসে কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম। আমার হাতে ছাতা, নোমান চালাচ্ছিল। হঠাৎ দেখলাম মোনালিসা একা একা ভিজে কোচিংয়ে যাচ্ছে। আমি নোমানকে সাইকেল থামাতে বললাম। নোমান সাইকেল থামাতেই আমি ছাতা নিয়ে মোনালিসার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল মোনালিসা। আমি নীরব কণ্ঠে বললাম, তুই এমন করে বৃষ্টিতে ভিজলে ঠাণ্ডা লাগবে তো। মোনালিসা আমার দিকে তাকিয়ে এক টুকরো হাসি দিলো। বৃষ্টির জলে কাজল ধুয়ে গেছে, সাদামাটা চোখ দু’টি আমার দিকে তাকিয়ে। দু’জন পাশাপাশি হাঁটছি, সামনে একটি কসমেটিকের দোকানে কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ালাম। বৃষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মোনালিসা কিছু চুড়ি নেড়ে চেড়ে দেখছিল।
আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তোর কাছে বিশ টাকা হবে?। হবে, কেন? চুড়ি কিনব। আমি পছন্দ করে দিই?। হেসে বলল দে। সেই দিনটার কথা আমি কখনোই ভুলতে পারব না। এর পর থেকে মোনালিসা কেমন যেন হয়ে গেল। আগের মতো সেজে কোচিংয়ে আসে না। আড়চোখে দেখি ও আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখে চোখ পড়লে মিটি মিটি হাসে। কোচিংয়ের শেষ দিন আমাকে বলল, তোকে কিছু কথার বলার ছিল। কিন্তু আমি ব্যস্ততা দেখিয়ে আর শুনিনি। পরীক্ষা শেষ হলো, আবার একদিন দেখা হলো মোনালিসার সাথে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমরা এই এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কেন? বাবার ট্রান্সফার হয়েছে। তোকে একটা কথা বলার ছিল। কেন যেন সেদিনও শুনতে পারিনি ওর কথাটা। তারপর আর ওর সাথে দেখা হয়নি। একদিন বিকেলে মোনালিসার বান্ধবী মৌ এসে একটা খাম দিয়ে যায় আমায়। মোনালিসা দিয়েছে। খুলে দেখি বিশ টাকার একটা নোট, তার মধ্যে লেখা, ‘এই লেখাটা যখন তুমি পড়বে, তখন তোমার থেকে আমি অনেক দূরে। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম, বাসি, এবং বেসে যাবো।
তুমি সবই বুঝতে কেবল আমার মনের ভাষাটুকু বুঝলে না। ভালো থেকো, তোমার ভালো থাকাটা অনেক জরুরি’, ইতি মোনালিসা। এরপর আর কখনো মোনালিসার সাথে আমার দেখা হয়নি। তবে সেই বিশ টাকার নোটের চিঠিটা আজো রয়ে গেছে স্মৃতি হয়ে। রয়ে গেছে অবেলার রিক্ত অনুভূতিটা। মাঝে মাঝে নিজেকেই প্রশ্ন করি, কেন মোনালিসার কথাগুলো বুঝতে পারলাম না। উত্তর মেলে না, জানি এর উত্তর কোনো দিনও মিলবে না। া

আজ ০৮-২-২০১৫ দৈনিক নয়াদিগন্তের অবকাশে আমার লেখা

বন্ধুত্ব চিরদিন
সোহানুর রহমান অনন্ত

‘বন্ধ’ু, খুব ছোট একটি শব্দ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার মাঝে কখনো না কখনো, এই শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত হই। আমাদের ভালো মন্দের অনেকটা জুড়ে রয়েছে এই বন্ধু। একজন ভালো বন্ধু শুধু বন্ধুই না ভালো একজন অভিভাবকও বটে। বন্ধু হলো সে যে চোখ দেখেই মনের কথা বলে দেয়। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

‘পুরো পৃথিবী এক দিকে আর আমি অন্য দিক, সবাই বলে করছি ভুল আর তোরা বলিস ঠিক...বন্ধু বোঝে আমাকে’। এমন শত শত গান রয়েছে বন্ধু নিয়ে। ‘বন্ধ’ু খুব ছোট একটি শব্দ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার মাঝে কখনো না কখনো, এই শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত হই। বন্ধুর সাথে এমন অনেক কিছুই শেয়ার করা যায়, যা বাবা মায়ের সাথে কিংবা স্বামী স্ত্রীর সাথে শেয়ার করা যায় না। আমাদের ভালো মন্দের অনেকটা জুড়ে রয়েছে এই বন্ধু নামের মানুষটি। একজন ভালো বন্ধু শুধু বন্ধুই না ভালো একজন অভিভাবকও বটে। বন্ধু হলো সে যে চোখ দেখেই মনের কথা বলে দেয়। বিপদের দিনে হেসে বলে, এত চিন্তা করিস না, আমি তো আছি। যখন খুব আপনজনরা পাশ থেকে হারিয়ে যায়, এক টুকরো মেঘের মতো তখন যে মানুষটি পাশে এসে দাঁড়ায় সেই বন্ধু। দুষ্টুমি এবং নানা রকম কথা বলে যে হাসিয়ে দেয়, সেই তো বন্ধু। বন্ধুত্বের কোনো পরিসীমা নেই। বন্ধুত্বের বৈশিষ্ট্য এত বেশি যে লিখে শেষ করা যাবে না। শুধুই যে পরিচিত মানুষই বন্ধু হয়, এমন কিন্তু নয়। অনেক অচেনা মানুষও ভালো বন্ধু হতে পারে। প্রতিটি মানুষ একজন ভালো বন্ধু আশা করে, হোক সে মেয়ে কিংবা ছেলে। আর সৃষ্টি চক্রের অসীম রহস্যের জন্যই মানুষ হয়তো এক সময় সেই বন্ধুকে খুঁজেও পায়। ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা একটা জিনিস। প্রকৃত বন্ধুরা, কখনো হারিয়ে যায় না। তবে ব্যস্ততার কারণে অনেক বন্ধুই হয়তো যোগাযোগ রাখতে পারে না। তার মানে এই নয় যে, বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। বন্ধুত্ব অদৃশ্য এক বন্ধন, যা সহজে ছিন্ন করা যায় না। ভালোবাসার মানুষ একজন হলেও ভালো বন্ধু একাধিক হতে পারে। স্কুলজীবন থেকেই মূলত বন্ধুত্বে প্রবণতা আমদের মাঝে দেখা যায়। হোক সে ছেলে বন্ধু কিংবা মেয়ে বন্ধু (যদিও অনেকের আবার এই বিষয়টা নিয়ে মতপাথ্যর্ক রয়েছে)। একজন ছেলে আরেকজন মেয়ে ভালো বন্ধু হতেই পারে। বন্ধুত্ব যেমন বয়স বিচার করে হয় না। তেমনি মেয়ে কিংবা ছেলে এটা বিচার করেও হয় না। একজন ভালো বন্ধু যে-কেউ হতে
পারে। যে অভিমান করলে হাসাবে আবার সারাটা জীবন বন্ধু হয়ে পাশে থাকবে। বন্ধুর সাথে যতই ভুল বোঝাবুঝি হোক না কেন, এক নিমিষেই ঠিক হয়ে যায়। রাগ হয়ে অনেক সময় বলে ফেলি, তুই আর আমার সাথে কথা বলবি না, কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, কথা না বলে থাকাই যায় না। বন্ধুত্বের টান অনেক বেশি। যা হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও অনুভব করা যায়। কারো হয়তো বাল্যবন্ধু কারো আবার ভার্সিটি কিংবা কর্মজীবনের বন্ধু। সৃষ্টির অদ্ভুত নিয়মে যা আজো একইভাবে হয়ে এসেছে। একজন মানুষ আরেকজন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করবে। মাঝে মাঝে বন্ধুদের খুব মিস করি আমরা। চলতি পথে অনেক পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে স্বস্তি পাই, অনেক বেশিই ভালো লাগে। সত্যিকার বন্ধুত্ব সব কিছুর ঊর্ধ্বে, অমূল্য সম্পদের মতো। যা হারাতে দেয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যে ভুলটা আমরা সচরাচর করি তা হলো, বন্ধু থাকতে অনেক সময় তার মূল্য বুঝি না, হারিয়ে গেলে ঠিকই বুঝতে পাই। তাই বন্ধুত্বের সম্পর্ক কখনো নষ্ট করা ঠিক নয়।

Wednesday, 4 February 2015

৫ জানুয়ারি ২০১৫, রবিবার, > daily nayadiganta Abokash patay

রহস্যে ঘেরা সুইসাইড ফরেস্ট
সোহানুর রহমান অনন্ত

জাপানের ওয়াকিগহারা এমন একটি বন যেখানে মানুষ যায় কেবল সুইসাইড করতে। এটি সি অব ট্রিজ অথবা গাছের সমুদ্র নামেও পরিচিত। সেখানে সুইসাইডের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, সুইসাইড ফরেস্ট নামে এই বনটি বেশি পরিচিত। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত পৃথিবীর রহস্য আজো রহস্যই রয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত এই মহাবিশ্বে এমন অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে, বিজ্ঞান যার ব্যাখ্যা সহজে দিতে পারে না। সারা জীবন খুঁজেও কিছু উত্তর আমরা পাই না। বন বলতেই আমরা প্রকৃতির সুন্দর লীলাভূমিকে বুঝি। যেখানে গেলে মানুষ বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে। ক্ষণিকের জন্য হলেও জীবনের ব্যস্ততাকে ভুলে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই বনই যদি হয় জীবন ত্যাগ করার অন্যতম স্থান, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে? কথাগুলো কাল্পনিক নয়, জাপানের ওয়াকিগহারা এমন একটি বন যেখানে মানুষ যায় কেবল সুইসাইড করতে। এটি সি অব ট্রিজ অথবা গাছের সমুদ্র নামেও পরিচিত। অবশ্য সেখানে সুইসাইডের সংখ্যা এতই বেশি যে, সুইসাইড ফরেস্ট নামে বনটি বেশি পরিচিত। জাপানিদের মতে, এই বনে যে একবার প্রবেশ করে সে আর কখনো ফিরে আসে না। যারা হতাশা নিয়ে বেঁচে আছে কিংবা প্রতিনিয়ত কষ্টের মাঝে দিন কাটাচ্ছে, তারাই এই বনে যায় সবার অজান্তে আত্মহত্যা করার জন্য। ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গড়ে প্রতি বছরই ১০০ জন ব্যক্তি এই বনে এসে আত্মহত্যা করে। ২০০২ সালে এই বনে ৭৮টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। দিন দিন মৃতের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। বনের ভেতর গেলেই চোখে পড়ে মৃত মানুষের অসংখ্য হাড় অথবা গাছের সাথে ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মৃতদেহ। এভাবেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মাঝে এক অপার রহস্যের কেন্দবিন্দুতে রূপ নেয় বনটি। কী আছে এই বনের মধ্যে, যে কারণে সেখানে একবার গেলে মানুষ জীবনের মায়া ভুলে যায়? এর সঠিক উত্তর আজো কেউ দিতে পারেনি। যদিও বনটির প্রবেশমুখে বড় সাইনবোর্ডে লেখা আছেÑ ‘জীবন এখানেই শেষ নয়, আরেকবার চেষ্টা করে দেখুন’। ‘একবার হেরে যাওয়া মানে চিরদিনের জন্য হেরে যাওয়া নয়’। তবুও আত্মহত্যার মিছিল কমেনি। ৩৫ বর্গকিলোমিটারের এ জঙ্গলটির রহস্যের কোনো কূলকিনারা আজো মানুষ বের করতে পারেনি। জাপানিদের মতে, এ বনে প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায় এবং যে একবার ভেতরে যায় তাকে আর ফিরতে দেয় না। তবে বিজ্ঞানের ভাষায় এ বনটি একেবারে সুমসাম, সারাণ নীরবতা বিরাজ করে। তাই এ জায়গা আত্মহত্যার জন্য আদর্শ স্থান ভেবেই সেখানে মানুষ আত্মহত্যা করতে যায়। প্রতি বছর এই বন থেকে শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯৭০ সালে পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়, যাদের কাজ মৃতদেহগুলো খুঁজে বের করা এবং যারা আত্মহত্যার জন্য আসে, তাদেরকে অনুৎসাহিত করা। জঙ্গলের ভেতরে বিভিন্ন গাছে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো। আত্মহত্যার জন্য স্থানটি বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন ব্রিজ। এই জঙ্গল নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে অনেকেরই ধারণা, ওই জায়গাটি নিয়ে লেখা একটি উপন্যাস থেকে উৎসাহিত হয়ে এটা করে থাকতে পারে মানুষ। তবে এটা মানতে নারাজ বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ। হিসাব মতে, এখানে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় মার্চ মাসে। এর বেশির ভাগই হয় ফাঁসিতে ঝুলে কিংবা মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনে। এই বনের রহস্য আজো রহস্যই রয়ে গেছে। এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি।

Wednesday, 17 December 2014

Aj 14-12-14 daily nayadiganta Abokash

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
সোহানুর রহমান অনন্ত

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাংলাদেশ যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে মেধা ও মননে, সে জন্য বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছিল জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। আসন্ন পরাজয়ের প্রতিহিংসা আগাম চরিতার্থ করতে তারা বেছে নিয়েছিল ঘৃণ্য এই কৌশল। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত আজ ১৪ ডিসেম্বর। গভীর বেদনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক দুই দিন আগে আসে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আমরা স্মরণ করি জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, স্বাধীনতাসংগ্রা
মের সূচনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত যাদের আমরা হারিয়েছি। এই হারানোর তালিকা একেবারে ছোট নয়। আবার সে রাতে আমরা যাদেও হারিয়েছি তাদের অনেকেই নিখোঁজ। পরে তাদের লাশও পাওয়া যায়নি। বহু বছর তারা বেঁচে আছেন না মরে গেছেনÑ তা-ও জানা ছিল না। আমরা এই দিনে হারিয়েছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, জহির রায়হান, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা, সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, নিজামুদ্দীন আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, নাজমুল হক, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, সুরকার আলতাফ মাহমুদ, সাহিত্যিক সেলিনা পারভীন, দানবীর শিানুরাগী রণদাপ্রসাদ সাহা, গোবিন্দচন্দ্র দেব প্রমুখ। পাকিস্তান বিজয়ের ঠিক দুই দিন আগে আমাদের জাতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করে। এই দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরতি। মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে, ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে। কিন্তু কেন এই নির্মম হত্যাকাণ্ড? কারণ তারা জানত তাদের চরম বিপর্যয় আসন্ন, তারা দাঁড়িয়ে আছে পরাজয়ের কিনারে, তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে যায় চোখ বেঁধে, সবাইকে হত্যা করে তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে হত্যা করার পাশবিক আনন্দ লাভ করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ঘটনাটির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, দেশেরই কিছু মানুষ তা ঘটানোর েেত্র মূল ভূমিকা পালন করে। বলার অপেক্ষা রাখে না দেশদ্রোহীদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্তানি হানাদারদের পে এতটা ব্যাপক এবং ল্যভেদী হত্যাযজ্ঞ চালানো সম্ভব ছিল না। শহীদুল্লাহ কায়সারের মতো সাংবাদিক-সাহিত্যিক আমরা আর কোথায় পাবো? কে আর আমাদের উপহার দিতে পারবেন সারেং বউ বা সংশপ্তক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সাহিত্যভারতী খেতাব পেয়েছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। একই বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার পাশার কবিতা ছাপা হয়েছিল বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায়। রাইফেল রোটি আওরাত নামে যে উপন্যাস তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ই লিখেছেন, তার কি কোনো তুলনা হয়? এরাই ছিলেন আমাদের জাতির গৌরব, মেধাবী মানুষ, সবচেয়ে যোগ্য পেশাজীবী। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ লেখক, কেউ সাংবাদিক। আলতাফ মাহমুদের মতো সুরকার, গণসঙ্গীতশিল্পী, যিনি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুর দিয়েছিলেন, তার বিকল্প কোথায়? কোথায় বিকল্প পাবো দানবীর শিানুরাগী রণদাপ্রসাদ সাহার? জহির রায়হানের জীবন থেকে নেয়া ছবিটিই বলে দেয় কতটা মেধাবী ছিলেন তিনি। তাই ১৪ ডিসেম্বর মানেই বিশাল এক শূন্যতা। যে শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। এ ছাড়া আছে গোবিন্দচন্দ্র দেব, ডা. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ডা. আজহারুল হক, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, হাজারও নাম। একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন, আর তাদের মধ্যে অনেককেই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তালিকা ধরে। সবচেয়ে বড় কথা তারা জাতির শ্রেষ্ঠসন্তানদের শুধু মেরেই শান্ত হয়নি। বরং তাদের মেরে ফেলার আগে যে নির্যাতন করা হয় তা গা শিউরে ওঠার মতো। এসব নির্যাতনের অনেক গল্পই হয়তো আমাদের অজানা। তাদের পরিবার আজো সেই নির্যাতনের মর্মব্যথার কথা ভুলতে পারে না। ভুলতে পারার কথাও না। আমাদের হাজারও বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী হারানোর তি আমরা আজো অনুভব করি, সে অভাব পূরণ হওয়ার নয় জানি। আমাদের যে এতটা বছর লেগে যাচ্ছে উন্নতির সিঁড়িতে পা রাখতে, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড তার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগ আজ আমাদেরও জেগে ওঠার হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্ম শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করে সামনে এগিয়ে যাবে, এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার। া - See more at: http://www.dailynayadiganta.com/details.php?nayadiganta=OTM3MjE%3D&s=MjI%3D&c=NzY%3D#sthash.zagZg2FH.dpuf

07-12-2014 daily nayadiganta abokash-a amar lakha

Monday, 1 December 2014

Aj 30-11-2014 daily nayadiganta Abokash_a amar lakha

বিশ্বের সেরা বিষধর সাপ
সোহানুর রহমান অনন্ত

সাপ নিয়ে আমাদের যতটা না কৌতূহল, তার চেয়ে বেশি ভয়। পৃথিবীতে বছরে প্রায় এক লাখ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়। প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে বিশ্বে। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত





বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ পৃথিবীময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বিশেষ করে এন্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই জলে-স্থলে কম-বেশি সাপের বসবাস রয়েছে। অন্যান্য প্রাণী থেকে সাপ কিছুটা ভিন্ন স্থান দখল করে আছে তাদের বিষের কারণে। ছোট থেকে শুরু করে বড় যে রকম সাপই হোক না কেন, প্রচণ্ড সাহসী মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে এক মুহূর্তে। সাপ নিয়ে আমাদের যতটা না কৌতূহল, তার চেয়ে বেশি ভয়। বিভিন্ন রকম সাপ আমাদের চোখে পড়ে। তার মধ্যে এমনও কিছু সাপ আছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য, রঙ ও বিষের কারণে অন্যতম। পৃথিবীতে বছরে প্রায় এক লাখ মানুষ সাপের দংশনে মারা যায়। প্রায় ৬০০ প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে বিশ্বে। আজ তেমনই কিছু বিষধর সাপের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো।



১. স্থল তাইপেন (Inland Taipan)



বিশ্বের বিষধর সাপ হিসেবে স্থল তাইপেন শীর্ষে রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Oxyuranus microlepidotus. এ সাপটি দেখতে হালকা বাদামি রঙের। গোখরো সাপের চেয়েও এর বিষ ৫০ গুণ বেশি বিষাক্ত। এই সাপ অস্ট্রেলিয়ায় বেশি চোখে পড়ে। হিংস্র সাপটি এক ছোবলে প্রায় ১১০ মিলিগ্রাম বিষ নির্গত করতে পারে। এই সাপের কামড়ে একটি মানুষের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে ৪০-৪৫ মিনিটই যথেষ্ট।



২. টাইগার সাপ (Tiger Snake)



টাইগার সাপ লম্বায় ৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটি বিষধর সাপের মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে আছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Notechis scutatus। নদী, সমুদ্র, বিশেষ করে উপকূলীয় স্থান এরা পছন্দ করে। এর গায়ের রঙ হালকা কালচে বাদামি ও ডোরাকাটা। এর বিষ রক্ত ও মস্তিষ্ক অকার্য করে দেয়ার মতা রাখে।



৩. ডেথ অ্যাডার (Death Adder)



আপনি যদি বনজঙ্গলে শিকার করতে পছন্দ করেন, তাহলে ডেথ অ্যাডার সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতে হবে। কেননা, সাপটি গাছের আড়ালে শিকারের আশায় লুকিয়ে থাকে। হুট করে আপনি যদি ওর সামনে পড়েন তাহলেই হয়েছে। মুহূর্তেই আপনার ওপর আক্রমণ করে বসবে। সাপটি দেখতে যতটা শান্ত, মূলত এটি ততটা শান্ত নয়। এর গায়ের রঙ লাল ও হুলুদ মিশ্রিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : Acanthophis antarcticus.



৪. ডেজার্ট হর্ন



ভাইপার ডেজার্ট হর্ন ভাইপার মূলত ছদ্মবেশী সাপের মধ্যে অন্যতম। এ সাপের দুই চোখের ওপর দুটো ছোট ছোট শিং থাকে। এরা কোনাকুনিভাবে লাফিয়ে উঠে কামড়ে ধরতে পারে। শিকার করার জন্য এরা ছদ্মবেশ ধরে। কিন্তু তার মধ্যে যদি কোনো মানুষ সামনে পড়ে যায়, তাহলে ভয় না পেয়ে উল্টো আক্রমণ করে বসে। মধ্যপাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় এই সাপ বেশি চোখে পড়ে।



৫. ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক



অত্যন্ত বিষধর এই সাপ বাড়ির আনাচে-কানাচে বা মাঠঘাটে থাকে। ইঁদুরের লোভে প্রায়ই এরা বের হয় এবং শিকার করার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। এদের কামড় অত্যন্ত ভয়াবহ।



৬. চাপুল আইল্যান্ডের কালো টাইগার সাপ (Chappell Island Black tiger snake)-এর নাম কালো টাইগার হলেও মূলত এর রঙটিই শুধু কালো। এর শরীরে বাঘের মতো কোনো ডোরাকাটা দাগ নেই। বিষধর এ সাপের বৈজ্ঞানিক নাম : Notechis serventyi. সাপটি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে এবং উপকূলীয় স্থানে বেশি বসবাস করে। এরা লম্বায় ছয় ফুটের মতো হয়।



৭. গোয়ার্ডার (Gwardar)



দুর্ধর্ষ ও আক্রমণাত্মক সাপ হলো গোয়ার্ডার। এর গায়ের রঙ বাদামি বর্ণের। এর বসবাস অস্ট্রেলিয়ায়। বিষধর সাপের মধ্যে গোয়ার্ডার অন্যতম। একটি গোয়ার্ডার এক ছোবলে প্রায় ৩ মিলিগ্রাম বিষ ছাড়তে পারে, যা রক্ত ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়ার মতা রাখে। বৈজ্ঞানিক নাম : Pseudonaja nuchalis।



৮. জংলি গোখরা (Forest Cobra)



গোখরা সাপ বনজঙ্গলে থাকতে পছন্দ করে। এরা লম্বায় অনেক বড় হয় এবং বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। এরা সহজেই এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলাফেরা করতে পারে। এদের ফণা সব সাপের চেয়ে বড়। এরা খুব বড় শিকার করতে পারে। গোখরা সাপ একবার কামড়ে ধরলে সহজে ছাড়ে না। এটি তেমন দ্রুতগামী সাপ নয়। বনজঙ্গলেই এদের বেশি চলাফেরা। তবে ভালো খবর হলো, গোখরা সাপের বিষ স্নায়ুরোগ আলঝেইমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত এবং বিশ্বের অনেক দেশে গোখরা সাপ চোখে পড়ে। া

Thursday, 27 November 2014

আজ ০৯-১১-১৪ দৈনিক নয়াদিগন্তের অবকাশে আমার লেখা

শীতে কোথায় বেড়াবেন
সোহানুর রহমান অনন্ত

আমরা ভ্রমণ বলতেই কক্সবাজার বুঝি। কিন্তু আপনি হয়তো জানেনই না আপনার জেলাতেই আছে দেখার মতো অনেক কিছু। তাই অনেক কম খরচে কাছের জায়গাটাই ঘুরতে পারেন পরিবার-পরিজন নিয়ে।



লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত





শীত মানেই ঘুরে বেড়ানোর এক উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই সময়টা সবচেয়ে উপযুক্ত। ছেলেমেয়ের স্কুল-কলেজের পরীক্ষাও শেষ হয়ে যায়। তাই কিছুটা অবসরও পাওয়া যায়। সারা বছর বিভিন্ন কাজের চাপে জীবন যখন একঘেয়েমি হয়ে আসে। মন চায় একটু ভিন্নতা। তাই শীত এলেই বেরিয়ে পড়েন ভ্রমণপিপাসুরা। ঘুরে বেড়ানো এক ধরনের শখ। আবার ডাক্তারি মতে, নির্দিষ্ট সময় পরপর সব মানুষেরই বেড়ানো উচিত। এতে শরীর-মন উভয়ই ভালো থাকে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন সহজ হয়ে যায়। অনেক কিছু জানা হয়ে যায়। এ কারণে বছর শেষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা
ন আয়োজন করে শিক্ষাসফরের। অনেকে ভ্রমণের জন্য স্থান নির্ধারণে বিপাকে পড়েন। কোথায় যাবেন? কেন যাবেন? কিভাবে যাবেন? এ প্রশ্নই যেন ঘুরপাক খায়। এ ছাড়া আমাদের দেশে কোথায় কোনো দর্শনীয় স্থান আছে তা-ও ভালোভাবে জানা হয়ে ওঠে না। তাই দেখা হয় না অনেক কিছুই। কিন্তু স্বল্প খরচে এই শীতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন আপনার পছন্দের স্থানে। ঘুরে বেড়ানোর জন্য আগে যা প্রয়োজন তা হলো, মানসিক প্রস্তুতি। আবার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারটাও মুখ্য। কেউ সাগর পছন্দ করেন তো কেউ পছন্দ করেন পাহাড়। কেউ আবার প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ঝুঁকে যান। আসলে বেড়ানোর আনন্দ হচ্ছে নিজের ওপর। সব কিছুই আপনাকে মুগ্ধ করবে যদি আপনি সেভাবেই প্রস্তুতি নেন। আমাদের দেশেই দেখার মতো অনেক কিছু আছে। যদিও আমরা ভ্রমণ বলতেই কক্সবাজার বুঝি। কিন্তু আপনি হয়তো জানেনই না আপনার জেলাতেই আছে দেখার মতো অনেক কিছু। তাই অনেক কম খরচে কাছের জায়গাটাই ঘুরতে পারেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। উন্নত বিশ্বে তো শিক্ষার্থীরা সামার ভ্যাকেশনে পার্টটাইম জব করে শুধু ভ্রমণের জন্য। যদিও আমাদের দেশে এই সংস্কৃতিটা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বই পড়ার ক্ষেত্রেও আমরা তাই অনেক পিছিয়ে। তাদের দেশে ভ্রমণ মানেই জ্ঞান আরোহণ। এ ছাড়া বেড়ানোর সময় তারা প্রচুর বই সাথে নিয়ে যায়। তবে আমাদের দেশেও এখন সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে। জ্ঞান আরোহণের জন্য আমরাও বদলে যাচ্ছি সময়ের সাথে।



বাংলার সব জেলাই সুন্দর। একেবারে ছবির মতো। কিন্তু নানান ব্যস্ততার মাঝে ঘুরে বেড়ানো আর হয়ে ওঠে না। যদিও বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায় ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা বেড়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পেলে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। তবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমরা বিশ্বের কাছে আমাদের পর্যটন শিল্প সেভাবে তুলে ধরতে পারিনি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার আমাদের দেশেই অবস্থিত। কিন্তু এই শীতে বেড়াবেন কোথায়? একেবারে পরিচিত বেশি ভ্রমণের স্থান কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি বা সিলেট। কিন্তু এ ছাড়া বাংলাদেশে দেখার মতো অনেক জায়গা আছে। এখানে তুলনামূলক কম পরিচিত বেড়ানোর স্পটের তালিকা দেয়া হলোÑ



নারায়ণগঞ্জের দর্শনীয় স্থান



বাংলার তাজমহল, সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর, রূপগঞ্জ রাজবাড়ী।



মুন্সীগঞ্জের দর্শনীয় স্থান



ইদ্রাকপুর দুর্গ, প্রাচীন বৌদ্ধবিহার।



মানিকগঞ্জের দর্শনীয় স্থান



বালিয়াটি জমিদারবাড়ী



নরসিংদীর দর্শনীয় স্থান



উয়ারী বটেশ্বর, লটকন বাগান।



গাজীপুরের দর্শনীয় স্থান



ভাওয়াল রাজবাড়ি, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, সফিপুর আনসার একাডেমি, জাগ্রত চৌরঙ্গী।



কিশোরগঞ্জ দর্শনীয় স্থান



ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ী, দিল্লীর আখড়া, শোলাকিয়া ঈদগাহ ও হাওর অঞ্চল।



ময়মনসিংহের দর্শনীয় স্থান



কাজী নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল, শিমলা দারোগাবাড়ি, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাদুঘর, সোমেশ্বর বাবুর রাজবাড়ি, কিশোর রায় চৌধুরীর ভবন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আলেক জান্ডার ক্যাসেল, আনন্দমোহন কলেজ, দুর্গাবাড়ী, কেল্লা তাজপুর ইত্যাদি।



টাঙ্গাইলের দর্শনীয় স্থান



রসনাবিলাসীদের জন্য উপভোগ্য সুস্বাদু চমচম (পোড়াবাড়ি), আতিয়া মসজিদ, শাহ্ আদম কাশ্মিরির মাজার- দেলদুয়ার, পরীর দালান, খামার পাড়া মসজিদ ও মাজার- গোপালপুর, ঝরোকা, সাগরদিঘি, পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, বঙ্গবন্ধু সেতু, এলেঙ্গা রিসোর্ট, যমুনা রিসোর্ট।



শেরপুরের দর্শনীয় স্থান



মধুটিলা ইকোপার্ক, গজনী ইকো পার্ক, ঘাগড়া লঙ্কার মসজিদ, রাজার পাহাড়, নাকুগাঁও স্থলবন্দর, বারোমারী ধর্মপল্লী, নকলার নারায়ণখোলা বেড়শিমুলগাছ, ঝিনাইগাতীর মরিয়মনগর ধর্মপল্লী, আড়াইআনি জমিদারদের শীষ মহল।



জামালপুরের দর্শনীয় স্থান



দেওয়ানগঞ্জ সুগার মিলস, লাউচাপড়া পিকনিক স্পট, গান্ধী আশ্রম, দারকি, যমুনা ফার্টিলাইজার।



নেত্রকোনার দর্শনীয় স্থান



এঁকেবেঁকে কংশ ও সোমেশ্বরী নদী, বিজয়পুর চিনামাটি পাহাড়, রানীখং মিশন, টংক শহীদ স্মৃতি সৌধ, কমলা রানী দীঘির ইতিহাস, সাত শহীদের মাজার, কলমাকান্দা, হজরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র:)-এর মাজার শরীফ, সুসং দুর্গাপুরের জমিদারবাড়ি, টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ, সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রাশমণি স্মৃতিসৌধ, কথাসাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কমপ্লেক্স, নলিয়া জোড়বাংলা মন্দির।



ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান



মথুরাপুরের দেউল, কবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি।



গোপালগঞ্জ দর্শনীয় স্থান



বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ, কোর্ট মসজিদ, বিলরুট ক্যানেল, কোটাল দুর্গ, বহলতলী মসজিদ।



শরীয়তপুরের দর্শনীয় স্থান



ফতেহজংপুর দুর্গ, মুঘল আমলের বিলাসখান মসজিদ, মহিষের দীঘি, দণি বালুচর মসজিদ, হাটুরিয়া জমিদারবাড়ি, মানসিংহের বাড়ি।



রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান



পদ্মাতীরে নির্মিত শাহ মখদুমের মাজার, পুঠিয়া রাজবাড়ি, শিবমন্দির, বড়কুঠি, গোবিন্দ মন্দির, গোপাল মন্দির, দোলমঞ্চ, লালকুঠি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শিরোইল মন্দির, বরেন্দ্র জাদুঘর, বাঘমারা রাজবাড়ি, ভুবনেশ্বর মন্দির, রাধাকৃষ্ণের ঝুলন মন্দির ইত্যাদি।



চাঁপাইনবাবগঞ্জের দর্শনীয় স্থান



নুসরাত শাহ্ নির্মিত সোনা মসজিদ, ঐতিহাসিক কানসাট। এ ছাড়া মহানন্দা নদী পার হওয়ার পরই পথের দুই ধারে তরুণ বাহারি আমের বাগান।



পাবনার দর্শনীয় স্থান



কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেনের বাড়ি, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন সেতু, ঈশ্বরদী ইপিজেড, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল এবং ডাল ও আখ গবেষণা কেকোর্ট বিল্ডিং, অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম, জোড়বাংলা, বিখ্যাত মানসিক হাসপাতাল, রায় বাহাদুরের গেটসহ অনেক পুরনো কীর্তি।



সিরাজগঞ্জের দর্শনীয় স্থান



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচিহ্ন পড়েছে সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরের কাচারি বাড়িতে। সিরাজগঞ্জের বড় আকর্ষণ যমুনা সেতু, বাণীকুঞ্জ, সিরাজীর মাজার, লোহারপুল, মক্কা আউলিয়া মসজিদ, নবরতœ মন্দির, শিবমন্দির জয়সাগর, মহাপুকুর আখড়া, এনায়েতপুর পীর সাহেবের মসজিদ। মিল্কভিটা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তের ইকোপার্ক, বাঘাবাড়ী বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বাঘাবাড়ী নদীবন্দর।



নওগাঁর দর্শনীয় স্থান



বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য পতিসর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, গদ্দল মহাবিহার, পতœীতলায় অবস্থিত দিব্যক স্মৃতিস্তম্ভ, নসরত শাহ নির্মিত কুশুম্বা মসজিদ, করোনেশন থিয়েটার, অনিমেষ লাহিড়ীর বাড়ি, পালবংশের স্মৃতি বহনকারী সাঁওতালপাড়া।



নাটোরের দর্শনীয় স্থান



চলনবিল, চলনবিল জাদুঘর, হাইতি বিল, নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন, দয়ারামপুর রাজবাড়ি, লালপুরের বুধপাড়া কালীমন্দির।



বগুড়ার দর্শনীয় স্থান



ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দভিটা, বেহুলা লখিন্দরের বাসরঘর। জয়পুরহাটের দর্শনীয় স্থান



আছরাঙ্গা দিঘি, লাকমা রাজবাড়ি, হিন্দা কসবা শাহী মসজিদ, শামুকখোল গ্রামতেলাল।



রংপুরের দর্শনীয় স্থান



কারমাইকেল কলেজ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, মীরগঞ্জের দীঘি, লালবিবির সমাধিসৌধ, ফকিরনেতা মদিনীর কবর ও মোগল আমলের মসজিদ, মহীয়সী বেগম রোকেয়ার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, শানবাঁধানো দীঘি, পীরগঞ্জের নীল দরিয়ার বিল, তারাবিবির মসজিদ, গঙ্গাচরার কুঠিপাড়ায় নীলকুঠি, পীরগাছায় দেবী চৌধুরানীর রাজবাড়ি, ইটাকুমরার শিবেন্দ্র রায়ের রাজবাড়ি।



লালমনিরহাটের দর্শনীয় স্থান



তিস্তা ব্যারাজ, তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আংগরপোতা ছিটমহল, বুড়িমারী স্থলবন্দর, তিস্তা রেল সেতু।



ঠাকুরগাঁওয়ের দর্শনীয় স্থান



জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ, রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি, হরিণমারীর আমগাছ, রাউতনগর সাঁওতাল পল্লী, গোরকুই কূপ।



পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান



বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া, রকস মিউজিয়াম, মির্জাপুর শাহী মসজিদ আটোয়ারী, ভিতরগড় মহারাজার দীঘি, সমতল চা বাগান, দেবীগঞ্জের মহারাজার দীঘি ও ভিতরগড় দুর্গানগরী, আটোয়ারীর মির্জাপুরের ইমামবাড়া এবং তেঁতুলিয়ার জেলা পরিষদ ডাকবাংলো।



নীলফামারীর দর্শনীয় স্থান



সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ, দুন্দিবাড়ী স্লুইস গেট, নীলফামারী জাদুঘর, নীলসাগর, হরিশচন্দ্রের পাঠ, ধর্মপালের গড়, কুন্দপুকুর মাজার, ময়নামতির দুর্গ, ভীমের মায়ের চুলা ইত্যাদি।



কুড়িগ্রামের দর্শনীয় স্থান



চিলমারীর বন্দর, সাতভিটায় পাখির ভিটারাজারহাট, উলিপুরের মুন্সীবাড়ি, চান্দামারী মসজিদ, বঙ্গসোনাহাট ব্রিজ। া

আজ ০৯-১১-১৪ দৈনিক নয়াদিগন্তের অবকাশে আমার লেখা

হেমন্তে নবান্ন উৎসব
সোহানুর রহমান

হেমন্তকে হচ্ছে শীতের পূর্বাভাস। ছয় ঋতুর এই দেশে প্রত্যেকটি ঋতুই আলাদা আলাদা রূপ বহন করে। এর মধ্যে হেমন্ত একেবারেই ভিন্ন একটি ঋতু। এর মাঝে যেমন বর্ষার লাবণ্যতা নেই, তেমনি নেই বসন্তের মতো বাহারি রূপ। হেমন্তের রঙ ধূসর। সাধারণত হেমন্তে দেখা যায় অখণ্ড নীল আকাশ। ভোরের নরম আলোয় টুপটাপ শিশির ঝরার শব্দ। মিষ্টি সোনালি রোদে মাঠজুড়ে আলো আঁধারের লুকোচুরি। দুপুরের রোদের স্নিগ্ধতা, সন্ধ্যায় বাঁশঝাড়ে পাখির কলকাকলি ভিন্নমাত্রার সৃষ্টি করে। কবির ভাষায় বলতে গেলে, হেমন্ত প্রিয়ার বাধনহারা চুলের মতোই উদাসীন। তাই একে বলা হয় অনুভবের ঋতু।



হেমন্তের আকাশ মেঘমুক্ত থাকে, তাই রাতের বেলা জ্যোৎস্নামাখা আকাশটা একেবারেই অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি করে। গরমের তীব্রতা কমে গিয়ে শীত পড়তে শুরু করে। সকালবেলা দূরের গ্রামগুলো কুয়াশায় ঢেকে যায়। গাছিরা খেজুরগাছের মাথায় নরম অংশ কেটে প্রস্তুত রাখে রস সংগ্রহ করার জন্য। এ ছাড়া পাখিদের মিষ্টি সুর মন জুড়িয়ে দেয়। এক সময় বাংলা বছর শুরু হতো হেমন্ত দিয়ে। কারণ ধান কাটার হিসেব ঠিকমতো রাখতেই বাংলা মাসের সূচনা হয়েছিল। হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা হয়। কৃষাণীরা নিজ আঙিনা লেপেপুঁছে পরিষ্কার করে নতুন ধান তোলার জন্য। কৃষকের চোখে নতুন ধানের রঙিন স্বপ্ন। কার্তিকের পর আসে সার্বজনীন লৌকিক উৎসব নবান্ন। বাড়িতে বাড়িতে রাতজেগে ধান নেয় কৃষক ও কৃষাণীরা। গোলা ভরে ওঠে নতুন ধানে। এ সময় তারা স্থানীয় বিভিন্ন গান করে থাকে। গান আর ধান নেয়ার শব্দ, দূর-দূরান্ত থেকে শোনা যায়। নতুন চালের ফিরনি-পায়েশ অথবা ীর তৈরি করে পাড়া-প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়স্বজনকে খাওয়ানো হয়। বাড়িতে বাড়িতে তখন নতুন চালের মিষ্টি গন্ধ। নবান্নে জামাতাকে নিমন্ত্রণ করা হয়। মেয়েকেও ‘নাইওর’ আনা হয়। গ্রাম্যজনপদে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় নবান্নের ধান তোলার মাধ্যমে। এ সময় গ্রামের পথে-প্রান্তরে অনেক রকম মেলা বসে, দূর-দূরান্ত থেকে সার্কাস পার্টি আসে, হয় যাত্রাপালা। দেশীয় নৃত্য, গানবাজনাসহ আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এ ছাড়া লাঠিখেলা, বাউলগান, নাগরদোলা, বাঁশি, শখের চুড়ি ইত্যাদি চোখে পড়ে। এ ঋতুতে ফোটে গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি, দেবকাঞ্চন, রাজ অশোকসহ নানা জাতের ফুল। হেমন্ত বাংলা সাহিত্যের বিরাট একটি জায়গা দখল করে রেখেছে। যুগে যুগে কবিরা হেমন্ত ঋতু নিয়ে অনেক গান-কবিতা রচনা করে গেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সুফিয়া কামাল, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, গোলাম মোহাম্মদ এবং আরো অনেকে। এর মধ্যে কবি সুফিয়া কামালের ছড়া-কবিতা (হেমন্ত) প্রায় সবার মুখে মুখে শোনা যায়। সবুজ পাতার খামের ভেতর, হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে কোন্ পাথারের ওপার থেকে, আনল ডেকে হেমন্তকে? হেমন্ত আমাদের গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। হেমন্ত এলে প্রকৃতি ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্যে সাজে। া
Aj 16-11-2014 daily nayadiganter Abokash-a amar lakha

তারুণ্যের ক্যারিয়ার কলসেন্টার
সোহানুর রহমান অনন্ত

বর্তমান সময়ে চাকরি পাওয়া অনেকটা প্রতিযোগিতার মতো। এখানে যে যত বেশি নিজের যোগ্যতা ও মেধাকে কাজে লাগাতে পারবে, চাকরির দৌড়ে সে তত এগিয়ে থাকবে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কোন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করব সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে
ভুগি। আর এ কারণেই অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না বা দেরি করে ফেলি। আপনার ল্য ঠিক রাখতে পারলে চাকরি পাওয়া তেমন কঠিন ব্যাপার নয়। নিজেকে মেলে ধরতে পারলে চাকরিই আপনাকে খুঁজে নেবে। বর্তমান তরুণ-তরুণীদের মাঝে স্মার্ট ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে কল সেন্টারে ক্যারিযার গড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন খুব সহজেই। পেশা হিসেবে কলসেন্টারের জবকে দারুণভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এখানে চাকরি করতে হলে যে আপনাকে অনেক সুন্দরী হতে হবে এমন কিন্তু নয়। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারা, ভালো ইংরেজি জানা, নিজেকে সব সময় পরিপাটি রাখা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করতে পারলেই আপনার জন্য এ পেশা মোটেও কষ্টের নয়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কল সেন্টার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সুন্দর একটি মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি খুব সহজেই আপনি এ কাজটি করতে পারেন। তাই ছাত্রছাত্রীরা কলসেন্টারে জব করে এগিয়ে যেতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। বাংলাদেশে কলসেন্টারের ক্যারিয়ার সম্ভাবনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে কলসেন্টার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছেন এই পেশা থেকে। তবে এটা মনে রাখা উচিত, কলসেন্টার সত্যিকার অর্থেই অনেক বড় কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং সব েেত্রই। আর তাই আস্তে আস্তে কলসেন্টারের প্রয়োজনীয়তা সবাই বুঝতে পারছেন। উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এর ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে ভালো। কলসেন্টার সাধারণত ২৪ ঘণ্টাই সার্ভিস দিয়ে থাকে। কায়েন্টদের বিভিন্ন তথ্য দেয়াই হচ্ছে এই কলসেন্টারের ল্য। এখানে সব শ্রেণীর শিতি জনগোষ্ঠীই যুক্ত হতে পারবে। কলসেন্টারে আবার পার্টটাইম চাকরি করারও ব্যবস্থা রয়েছে। পার্টটাইম এবং ফুল টাইম দুটোর জন্য আলাদা আলাদা সেলারি স্কেল রয়েছে। ফুলটাইম ডিউটির জন্য ন্যূনতম ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা আর পার্টটাইম ডিউটির জন্য ন্যূনতম ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। তবে আপনি কাজ ভালো করলে সেলারি অনেক সময় এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এই পেশায় আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশী কোম্পানিগুলোতেও ভালো বেতনে চলে যেতে পারেন। তবে সব কথার মূলকথা হলো, কাজটাকে ভালোবেসে করতে হবে। কলসেন্টার হতে পারে শিতি তারুণ্যের স্মার্ট ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। তাই এখানে ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনাও অনেকটা বেশি। বিভিন্ন জায়গায় কলসেন্টারের



ট্রেনিং দিয়ে থাকে। ট্রেনিং শেষ করে আপনিও চলে আসতে পারেন কলসেন্টারের চ্যালেঞ্জিং পেশায়। া