join facebook page

Showing posts with label daily ittafaq-ar fun magazine thatta. Show all posts
Showing posts with label daily ittafaq-ar fun magazine thatta. Show all posts

Wednesday, 28 September 2016

২৯-৬-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকে.....

এই গরমে ঠাণ্ডা থাকতে
গরম দিন দিন বেড়েই চলছে, তাই আপনার মানসিক-শারীরিক অবস্থা—দুটোই ঠাণ্ডা রাখা প্রয়োজন। কীভাবে এই গরমেও কুল থাকবেন সেটাই জানাচ্ছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

ফেসবুক ওয়াল ঠাণ্ডা রাখুন
যেহেতু ফেসবুকে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে তাই সবাই যদি নিজের প্রোফাইল পিক আর কাভার পিকে বরফের ছবি দেয় তাহলে পুরো ওয়ালজুড়ে বরফ আর বরফ দেখা যাবে। ফিলিংস পুরাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। মানসিক শান্তি তো বটেই বারবার দেখার কারণে ঠাণ্ডায় কাঁপুনি ধরে যাওয়ারও চান্স আছে। চাইলে ফটোশপে নিজের ছবি বরফের পাহাড়ে বসিয়ে দিতে পারেন এতে ঠাণ্ডা ভাবটা আরও দ্রুত চলে আসবে।



মাথায় খাবার রেখে
মাথায় বেশ কিছু ধান, গম রেখে দিন; এবার হাঁটতে থাকুন। দেখবেন পাখিরা সেই খাবার খাওয়ার জন্য আপনার মাথার উপর উড়াউড়ি করছে। আর পাখার ঝাপটানির বাতাসে আপনার শরীর-মন দুটোই ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। তবে টাকলু মাথার কেউ এই কাজ করতে যাবেন না, শেষে ঠোকর খেয়ে হাসপাতালে চলে যেতে পারেন।



ওয়াটার পোস্টার
ঘরের দেয়ালে পানির পোস্টার লাগিয়ে দিন। ঘরে ঢুকলেই যেন মনে হয় সাগরে নেমেছেন। সেই সাথে ঘরে হালকা সাউন্ডে পানির শব্দ বাজিয়ে দিন কল কল কললললল কল কল। দেখবেন কী যে ঠাণ্ডা লাগা শুরু হয়েছে! না লাগলে অবশ্যই আমরা দায়ী না।

ঠাণ্ডা কাপড় পরে
যার ঘরে এসি নেই তার ঘরে ফ্রিজ-ই সবকিছু। আর তাই কিছুক্ষণ পর পর কাপড় ডিপ ফ্রিজে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে বের করে পরে ফেলুন, পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। এভাবে মাঝে মাঝে করলেই দেখবেন গরম বলে কিছু নেই, পুরো শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা।



লতা-পাতা সাথে রাখুন
গাছের লতা-পাতা শরীরে পেঁচিয়ে রাখুন, যেহেতু প্রকৃতি বলতেই আমাদের অনুভূতি শীতল হয়ে যায় সুতরাং আপনি শতভাগ ঠাণ্ডা ফিলিংস নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন। অন্যদিকে ডিজিটাল টারজান খেতাবটাও পেয়ে যেতে পারেন এই সুযোগে।



কুল পাউডার
কুল পাউডার গায়ে মাখলে শরীর ঠাণ্ডা হয়। যারা টাক মাথার অধিকারী তারা এই গরমে বাইরে কুল পাউডার নিয়ে বের হতে পারে। গরম লাগলেই মাথায় পাউডার মারুন, সব কিছু ঠাণ্ডা। তবে নিজের চেহারা ভুলেও আয়নায় দেখবেন না, জ্ঞান হারাতে পারেন।

২৯-৬-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকে.....

মৌসুমী ফল with ফরমালিন



চলছে ফলের মৌসুম। সেই সাথে ফরমালিনের কিঞ্চিত্ ভয়, চলুন দেখি ফলের বাজারের কী অবস্থা? সাথে আছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

ফরমালিনের বিকল্প এমন স্প্রে তৈরি হতেই পারে

কী ব্যাপার তোমার আমের গা থেকে কাঁঠালের গন্ধ আসতাছে কেন?

স্যার মনে হয় স্প্রে করার সময় ভুল কইরা ফেলছি, লইয়া যান এক দামে দুই ফলের স্বাদ পাইবেন।



কথার প্যাঁচে আটকে যেতেই পারেন

তুমি বললা লিচু একেবারে রসগোল্লার মতো মিষ্টি, এখন দেখতাছি পুরাই টক, ধান্দাবাজি শুরু করছ?

আপনি তো দেখতাছি পুরাই আবুল, রসগোল্লা কি চিনি ছাড়া মিষ্টি হয় নাকি, লিচুর সাথে চিনি মিক্স করে খাইয়া দেখেন হাছা কইছি না মিছা কইছি।

ফরমালিন যুক্ত ফল দিয়ে হতে পারে ছিনতাই

সবকিছু বাইর কর কইতাছি নইলে কিন্তু ফরমালিন দেওয়া ফল তোরে যাইত্তা খাওয়াইয়া দিমু...

ওরে বাবারে... আন্ডারওয়্যার ছাড়া সব লইয়া যান, তবুও এই ফল খাওয়াইয়েন না।



ফল আছে আরও অনেক

বুঝলে নাতি আমাদের সময় একেবারে ফ্রেশ ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়া যেত, আফসোস তোমাদের সময়...

আমাদের সময়ও তো ফরমালিনমুক্ত ফল পাওয়া যায়, এই যেমন ধরেন পরীক্ষার ফল।

৬-৩-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকের ঠাট্টায়... রম্য.বিশুদ্ধ নারীপ্রীতি.....

বিশুদ্ধ নারীপ্রীতি

সোহানুর রহমান অনন্ত


১

আমার এক কাছের বন্ধু এসে বলল, ‘দোস্ত নতুন বিয়ে করেছিস, ভাবির হাতের রান্না খাওয়াবি না?’ কথাটা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, ‘বন্ধু, তোর ভাবি তো এখনো তেমন রান্না করতে শেখেনি, বরং আমরা কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে নিই।’ বন্ধু নাছোড়বান্দা। না, আমার বউয়ের হাতেই রান্না খাবে। কী আর করা, বিকেলে বন্ধুকে নিয়ে বাসায় এলাম। আমার বউকে বললাম, ‘আমার খুব কাছের বন্ধু তোমার হাতের রান্না খাবে বলে এসেছে।’ এতটুকু বলতেই বউ আমার রান্না করা নিয়ে বেশ এক্সসাইডেট হয়ে গেল। মেয়েরা এমনই, একটু প্রশংসা পাওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। তারপর সেই রবীন্দ্রনাথের বাণী ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’, মানে মেকআপ নেওয়ার মতো বউ আমার রেসিপির সব বই রান্না ঘরে নিয়ে একটার পর একটা আইটেম রান্না করছে। এদিকে আমার বন্ধু বেচারার তো ক্ষুধায় পেটের মধ্যে ঠাডা পড়ার মতো অবস্থা। একটু পরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ভাবি মনে হয় অনেক আইটেম করছে। মামুলি কিছু রান্না করলেই তো হতো।’ আমি হেসে জবাব দিলাম, ‘খাওয়াতে যখন চাইছে, তখন আর না করে কী লাভ। একটু অপেক্ষা কর, ঠিকই খাবার চলে আসবে।’ কিছুক্ষণ পর আমার বউ এসে বলল, ‘একটু দেরি হয়ে গেল, নাও সবাই বসে পড়।’ আমার বন্ধুটি হাত ধুয়ে খেতে বসে পড়ল। মুরগির তরকারি দিয়ে সাদা ভাত। প্রথম লোকমা মুখে দিতেই বেটা কেমন হ্যাং হয়ে গেল। বিষয়টা খেয়াল করে বললাম, ‘কোনো সমস্যা বন্ধু?’ বোধকরি বেচারা বিপদে পড়েই বলল, ‘কই না তো। খাবার তো ফ্যান্টাস্টিক ফাইন হইছে। ভাবির হাতে তো জাদু আছে।’ এই বলে বাকি ভাতটুকু গিলতে লাগল। বউ আমার ব্যাপক খুশি, বন্ধু রান্নার প্রশংসা করায়। আমি একটু মুরগির তরকারি টেস্ট করেই বুঝলাম কাম সারছে। তরকারি তো না যেন লবণের খনি। আমার বন্ধুটি কীভাবে যে বাকি রান্নাগুলো খেল সেটা ভাবতে গেলেও আমার মস্তিষ্কে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়। খাওয়া শেষে আমায় বলল, ‘দোস্ত, মনে হয় দুই নম্বর সিগন্যাল হইছে, ওয়াসরুমটা কোনদিকে?’ দেখিয়ে দিলাম, কারণ এটাই আপাতত ওর স্থায়ী ঠিকানা। হলোও তাই, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বন্ধু মহাখালী ডায়রিয়া হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হলো। বেচারাকে এরপর যতবার বলেছি, ‘চল, তোর ভাবী নতুন একটা রেসিপি করে তোকে খাওয়াবে।’ খেয়াল করেছি, ওর চোখে পেত্নী দেখার মতো আতঙ্কের ছাপ পড়েছে। খাওয়া তো দূরের কথা, আমার বাড়ির আশপাশে আর সে আসে না ভুল করেও।



২

সেদিন আবুলকে নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য কয়েকটা প্যান্ট কিনব। লোকাল বাসে বসে আছি। এমন সময় একটা মেয়ে উঠল দৈনিক বাংলা থেকে। বন্ধু আমার তখন যায় যায় অবস্থা। আমাকে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘তুই একটু দাঁড়িয়ে যা, মেয়েটি আমার পাশে বসুক।’ আমি রেগে বললাম, ‘দূর বেকুব, বন্ধুর চেয়ে অচেনা মেয়েটি বেশি আপন হয়ে গেল?’ বন্ধু আমার উপরের পকেটে একটা দশ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে বলল, ‘আর একটা কথাও বলিস না, ঘুষের কসম!’ বন্ধুর নারীপ্রীতির কারণেই আমাকে শেষ পর্যন্ত সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে যেতে হলো। আর মেয়েটি বসল আমার সিটে। মনে মনে আবুলকে দাড়ি-কমা ছাড়া গালি দিচ্ছি। বিধি বাম আবুলের জন্য, শাহবাগ যেতেই শুনলাম মেয়েটি ওয়াক... ওয়াক... করে উঠল; বাকি দৃশ্য দেখতে গিয়ে আমার নিজেরই মৃগী রোগ উঠে গেল! মেয়েটি আবুলের গায়ের উপর বমি করে দিয়েছে। বেচারা আবুল সিট থেকে উঠতে গিয়েও পারল না। পুরোই কার্টুন হয়ে বসে রইল। এমন অবস্থায় হাসব না কাঁদব ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। বাস থেকে নেমে পাবলিক টয়লেটে ঢুকিয়ে বেটাকে পরিষ্কার করলাম। মার্কেটে যাওয়া ক্যানসেল, বন্ধুকে বুঝালাম নারীপ্রীতি আসলেই ভালো না। বুঝল কি না কে জানে। না বুঝলেও আমার কিছু করার নেই। অনেক রাত করে বাড়ি ফেরার সময় দেখি, একজন বাড়ির পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। প্রথমে ভাবলাম চোর। আজকাল সুড়ঙ্গ খুড়ে ব্যাংক লুট হচ্ছে, বাড়িতেও নিশ্চয় লুটপাট চলতে পারে। পিছন দিক থেকে গিয়ে দিলাম কয়েকটা কিল বসিয়ে। পড়ে তাকিয়ে দেখি মঈন কাগু। ঘটনাক্রমে জানতে পারলাম, বউ শার্টে লম্বা চুল পেয়েছে তাই ঘরের দরজা বন্ধ। সেজন্যই মঈন কাগু সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। কয়েকটা সান্ত্বনার কথা বলে আমিও বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম। মনে মনে ভাবলাম, নারীদের এত ভয় পাওয়ার কী আছে? সবই কপাল, নইলে এমন বেকুব পুরুষদের চেহারা আমার দেখতে হয়। ঘরে ঢুকতেই দেখি বউ আরাম করে সিরিয়াল দেখছে খাটে শুয়ে শুয়ে। আমাকে দেখেই বলল, ‘মশারি টানাও।’ আমি কিঞ্চিত্ বাঁকা হয়ে বললাম, ‘পারব না।’ এটা শোনার পর বউয়ের চেহারা এমন হলো যে আর একটু হলো বোম হয়ে ফেটেই যেত। রিমোটটা মাথায় পড়ার আগেই বললাম, ‘ইয়ে মানে আমিই তো টানাব, চিন্তা করো না তুমি।’ বুঝলাম, বিশুদ্ধ নারীপ্রীতি আমাকেও পেয়ে বসেছে। খামোখাই পাবলিকের দোষ দিই!



৩

সবশের্ষ যে বন্ধুটির কথা বলব, ওর নাম সোহাগ। নারীদের কথা শুনলেই কেমন যেন বাংলা ছবির হিরো হিরো ভাব নেয়। সেদিন আমাকে এসে বলল, ‘দোস্ত কাজী অফিসে যেতে হবে।’

‘কেন?’

‘এক বান্ধবী বিয়ে করবে, আমরা সাক্ষী।’

‘পালিয়ে বিয়ে?’

‘হু।’

‘এইসব কেসে ঝামেলা হয়।’

‘দূর বেটা কীসের ঝামেলা, চল তো।’

গেলাম কাজী অফিসে। কবুল বলার কিছু আগেই জানতে পারলাম মেয়ের বাবা দলবল নিয়ে আসছে আমাদের প্যাঁদাতে। এই কথা শুনে কাজী বেটা জানালা বরাবর লাফ দিয়ে পালাল। মেয়ের বয়ফ্রেন্ড আর আমিও দিলাম লাফ। কিন্তু আমার সেই বন্ধু রয়ে গেল অতিরিক্ত নারীপ্রীতি আছে বলে। পড়ে জানতে পাড়লাম প্যাঁদাতে নয়, তারা বিয়ে পড়াতেই এসেছিল। এবং কাউকে না পেয়ে আমার সেই বন্ধুটির সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেওয়া হলো নতুন কাজী এনে। সবই নারীপ্রীতির কল্যাণে...

http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/tahtta/2016/03/06/106122.html

৬-৩-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকের ঠাট্টায়....টি ২০ আইডিয়া

এশিয়া কাপ ধামাকা



চলছে এশিয়া কাপ। চলুন দেখি, এর পাশাপাশি আর কী কী খেলা চলছে পাবলিকের মধ্যে। সঙ্গে আছেন সোহানুর রহমান অনন্ত ও কার্টুন এঁকেছেন রবিউল ইসলাম সুমন

ঘুমের মধ্যেও ছয় সেলিব্রেশন করলে এমন হতেই পারে—

কী ব্যাপার আবুল সাহেব, আপনার মাথায় এমন বড় সাইজের আলু হইল কেমতে, কাউরে গুঁতা মারছেন নাকি?

গতকাল রাইতে ঘুমের মইধ্যে ভুল করে ‘ছয়’ বলে চিক্কার মাইরা উঠতেই বউ রেগে রিমোট দিয়ে এমন বাড়ি দিল যে সাথে সাথে আলু ডেলিভারি হয়ে গেল!

টাইগার বাঁশ আনলিমিটেড চলছে

দোস্ত, তুই হুট করে বাঁশের ব্যবসা চালু করবি বলে চিন্তা করলি... ঘটনা তো কিছুই বুঝতাছি না?

টাইগাররা যেমনে বিপক্ষ দলকে বাঁশ দিতাছে তাতে এই ব্যবসা করলে রাতারাতি লাখপতি হওয়ার চান্স আছে বন্ধু।

সবাই কিন্তু খেলা দেখতে

যায় না

তোরা ফ্যামেলির সবাই তো খেলা দেখতে মাঠে যাস... নিশ্চয় তোরা খেলাপ্রেমী?

খেলা দেখতে যাই কে কইল, আমরা তো পাত্রী খুঁজতে যাই, আব্বার একটা ম্যারেজ মিডিয়া খুলার ইচ্ছা আছে কিনা।

চিক্কর শুনে কানে তুলা দিলে তো এমনই হবে

কন কি কাগু? আপনার ঘর থেইক্কা সব কিছু চোরে নিয়া গেছে আপনি কিছুই টের পেলেন না!

বদমাইশ পোলাপান ছয় হলেই যেমনে চিল্লাইয়া উঠে, তাই কানে তুলা দিয়া একটু ঘুমাইতে গেছিলাম, এই সুযোগে...

সিম্পল টিপস্

বিপক্ষ দলের ব্যটসম্যানরে কীভাবে সহজে আউট করা যায় বলে তুই মনে করিস?

এইটা তো খুবই ইজি, বলের উপর সানি লিওনের ছবিযুক্ত স্টিকার লাগাইয়া বল করলেই দেখবে কেমনে পানির মতো উইকেট পড়া শুরু করছে!

সেলফি রোগী

একটু আগে না দেখলাম তুই টিভির সামনে বসে খেলা দেখার ছবি আপলোড করলি, তাইলে আমার কাছে কোন টিম জিতল এটা জানতে চাস কেন?

খেলা দেখছি কে বলল, আমি তো টিভির সামনে সেলফি তুলছি, ফেসবুকে আপলোড করার জন্য!

http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/tahtta/2016/03/06/106130.html

Wednesday, 2 March 2016

দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় ২৮-২-২০১৬ ধন্যবাদ sanu khan ভাইকে....ইনবক্স করার জন্য

আজ ১৪-২-২০১৬ ইত্তেফাকের ঠাট্টার কাল্পনিক ঠাট্টারুদের ভালোবাসা দিবস....কেউ সেন্সলেস হয়ে গেলে আমি দায়ী নই

ঠাট্টারুদের ভালোবাসা দিবস
ভালোবাসা দিবস আসে যায়, কিন্তু কেউ কি জানেন, ঠাট্টারুদের ভালোবাসা দিবস কীভাবে কাটে? তার-ই কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরেছেন হালের বিখ্যাত কল্পমস্তিষ্কের অধিকারী সোহানুর রহমান অনন্ত

সাইফুল ইসলাম জুয়েল

আমার সহজ-সরল ভাইটার মাথায় ভালোবাসার ভূত চেপেছে। গোপনে শোনা গেছে, তিনি এখন ফেয়ার অ্যান্ড বাবলি ক্রিম মাখেন তরুণীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। ভালোবাসা দিবসেও প্রেমিকা খোঁজার কাজটা অব্যহত থাকবে বলে গুজব নিউজ জানিয়েছে। সুতরাং বলাই যায়, তার ভালোবাসা দিবস খোঁজাখুঁজির মধ্যেই কাটবে।

রবিউল ইসলাম সুমন

দেশের এই একটি মাত্র ব্যক্তি যিনি নিজের ও সবার স্বাস্থ্য ভালো রাখার দায়িত্ব নিয়েছে। মানে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং এঁকে পাবলিককে দিন দিন হাসির রোগী বানিয়ে ফেলছেন। ভালোবাসা দিবসেও এমন একটা স্ট্যাটাস দেবেন যে হাসতে হাসতে পাবলিকের দাঁত খুলে পড়বে। সুতরাং সুমন ভাই ভালোবাসা দিবসেও সবাইকে হাসির মাঝে রাখবেন বলে জাতি মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।

ইকবাল খন্দকার

ইকবাল ভাই ভুলেও ভালোবাসা দিবসের দিন বাসা থেকে বের হবেন না। কারণ তার এত এত ফ্যান যে রাস্তায় বের হলেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরতে পারে। শেষে কোনো রাজনীতিবিদের চোখে পড়লে দেখা যাবে তাকে রাজনীতির মাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন! তখন সেখানেই লেখালেখির ইতি ঘটে যাবে।

জগলুল হায়দার

ছড়ার এই মহারাজা সেদিন এতটাই চাপে থাকবেন যে পাঠকের অনুরোধে সেদিন মুখ দিয়ে ছড়া বলতে বলতে, মুখ ব্যথা হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই ব্যথার বড়ি সঙ্গে রাখবেন। এবং ছড়ায় ছড়ায় সবার সঙ্গে ভাব আদান-প্রদান করবেন।

শরীফ বিল্লাহ

এই ভাইজান তো এমনিতেই ভালোবাসায় টইটম্বুর। তার জন্য তো আর এক্সট্রা ভালোবাসা দিবস লাগে না। এরপরও তিনি ভালোবাসা দিবসে যথারীতি আমজনতাকে খাইয়ে বিল দেওয়ার গুরু দায়িত্বটা নেবেন। সুতরাং, ‘কেউ ফ্রি খাইতে চাইলে চামে খাইয়া লইতে পারেন এই দিনে’।

শামসুল হক শামস

এই ভাইজান এমনিতেই ব্যাপক বিনোদন ফ্রি ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। ইদানীং আবার ফেস পাউডারও মাখা শুরু করছেন। মনে হয় মডেল হওয়ার ইচ্ছা আছে। যাই হোক, ভাইজানের মনে হয় ভালোবাসা দিবসটা একটু ভালোই কাটবে। কারণ ফেস পাউডারের কল্যাণে হয়তো কোনো তরুণী ইনবক্সে প্রপ্রোজ করে বসতে পারে। সুতরাং, ‘লাগে রাহো’।

সোহেল রানা

ভাইজান খুব হাসেন, কিন্তু আম-আদমিদের হাসাতে পছন্দ করেন বেশি। যেহেতু তিনি হাসেন কম, তাই ভাবছেন তার স্বাস্থ্য খারাপ? আরে ভাই না, তিনি তো ব্যাপক স্বাস্থ্যের অধিকারী, কম হাসলেও খান বেশি। চেহারা মাশাল্লাহ। আর তাই ভাই আপনার প্রতি একটা অনুরোধ ভালোবাসা দিবসের দিন ঘর থেকে বাইরে যাবেন না। রাস্তায় আগত তরুণীরা আপনার প্রেমে পড়ে সেন্সলেস হয়ে যেতে পারে।

সোহেল নওরোজ

একজন ভালো মনের অধিকারী আমার এই কবি বন্ধুটি। তিনি গোপনে একাধিক প্রেম করলেও চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই। ইনবক্সে কত মেয়ে যে তাক ‘হায় হ্যান্ডসাম’ বলে মেসেজ করে তা গুনতে গেলে ইহকাল শেষ। তাই এই ভাইটার ভালোবাসা দিবস যে চাঙা যাবে সেটা চোখ ট্যারা করেই বলে দেওয়া যায়।

ইয়াসিন খন্দকার লোভা

ইনি ডায়েট কন্ট্রোলে আছেন বেশ কয়েকটা ছ্যাঁকা খেয়ে। ছ্যাঁকা বলতে রান্না করতে গিয়ে ছ্যাঁকা খাওয়া আরকি। এই ভাইটার ভালোবাসা দিবস ছ্যাঁকা খাওয়ার মাঝেই কাটতে পারে। তাই ভাইটাকে টিপস দিই, এই দিন অন্তত রান্নাঘরে যাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে আমাকে সঙ্গে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবেন, ‘বিলটা আপনিই দিয়েন সমস্যা নাই’।

বিশ্বজিত্ দাস

স্যার তো সবাইকে আনলিমিটেড ভালোবাসেন। মনে হয় স্যারের কাছে ভালোবাসার খনি-টনি আছে। তাই চিন্তা করে দেখলাম, ভালোবাসা দিবসের দিন স্যারকে বলব কিছু ভালোবাসা ট্রান্সফার করেন, নইলে এইদিন ফতুর হয়ে যাওয়ার চান্স আছে।

মোহাম্মদ আলী জনি

কোন মেয়ে সুন্দর বলছে খোদা জানে, এই ভাইটা তার প্রোফাইল পিক চেঞ্জই করে না। হয়তো বেশি লাইক করে সেই পার্বতীকে। ভালোবাসা দিবসে ওবামা থেকে শুরু করে সবার দাবি প্রোফাইল পিকে ডাবল ছবি দেখতে চাই। অথাত্ আপনি এবং সে।

ফরিদুল ইসলাম নির্জন

ইনি তো প্রেমিক পুরুষ। প্রতিদিনই ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করেন। মানুষের থাকে ভুড়ি ভুড়ি টাকা আর তার আছে ভুড়ি ভুড়ি গার্লফ্রেন্ড। পাঠক এবার বুঝতেই পারছেন ভালোবাসা দিবসে তার অবস্থা কেমন হতে পারে।

রফিকুল ইসলাম কামাল

এই ভাইটা তো সুপারস্টার, একাধিক প্রেম করার অভিজ্ঞতা আছে। যেমন চেহারা, তেমন লেখালেখি। সুতরাং এমন আদমির প্রেমিকা যে ডজনে ডজনে থাকবে সে ব্যাপারে আমি স্বপ্নেও নিশ্চিত। ভালোবাসা দিবসটা একটু দৌড়ের ওপর কাটলেও ব্রেকআপ হওয়ার চান্সও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সোহানুর রহমান অনন্ত

তিনি একাধিক প্রেমিকার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া কথা বলে নিজেই নিখোঁজ হয়ে যাবেন। কারণ ভালোবাসা দিবসে তার অফিস ফুল দিবস খোলা।

নাইমুর লিখন

ইনি হচ্ছেন বর্তমান সময়ের রোমিও। মাঝে মাঝে ডুয়েল ছবি দিয়ে হিট হয়ে যান। তবে ভালোবাসা দিবসের দিন ডুয়েল ঘুরতে গিয়ে ভাইটা কোন টাইপের দৌড়ানি খায় কে জানে। কারণ পিরিতের পেত্নীরা যদি দেখে ফেলে তাহলে তো ম্যানহলে গিয়েও পালানোর সুযোগ থাকবে না।

৩১-১-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকের ঠাট্টায়

পাগল, ছিনতাইকারী ও জনৈক প্রেমিক

সোহানুর রহমান অনন্ত


আমি বরাবরই আড্ডাপ্রিয় মানুষ। রাত জেগে আড্ডা মারি, আমাদের টপিকের শেষ নেই। প্রেম, বিরহ, খাওয়া-দাওয়া সবই থাকে। একদিন আড্ডা দিতে দিতে অনেক রাত হয়েছে। বাসায় ফেরার সময় পাখিটার ফোন। ধরতেই বলল, আমাকে তার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে, এখনই। ‘এত রাতে?’ ‘কেন রাতে কি দেখতে ইচ্ছে করতে পারে না?’ ‘আলবত্ পারে... একশ তিনবার পারে। আমি আসতাছি...।’ ঘটনা টাং টাং... যেতেই হবে। পাখিটার বাড়ি পাড়ার শেষ প্রান্তে, এই দিকটা সন্ধ্যার পরেই কেমন ঝিম মেরে যায়। দু-একটা নেড়ি কুকুর ছাড়া পাবলিকের দেখা পাওয়াটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। তবুও সাহস করে গেলাম, প্রেমিকার দেখতে চাওয়া বলে কথা। শীতটা ভালোই পড়তে শুরু করেছে। পাখিটার বাসার সামনে যেতেই দেখি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। মুখে মুচকি হাসি। আমিও হাসলাম। পাখির মুখে হাসি অফ আমার মুখেও অফ। কী ব্যাপার বুঝে ওঠার আগেই পাখি কিছু একটা বুঝাতে চাইল। আমি আবার অদৃশ্য ভাষায় বিশেষজ্ঞ। অনেকটা ‘মাথা আছে মগজ নাই’-এর মতো। ভালো করে বুঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। হঠাত্ মনে হলো পোড়া গন্ধ আসছে, তাকিয়ে দেখি আমার পাঞ্জাবিতে কে যেন আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পাশে ফিরে দেখি ট্যারা পাগলা। ট্যারা পাগলার পাগলামি নিয়ে ব্যাপক ঘটনার কথা কানে এসেছে। ডরে আমি লাফিয়ে উঠলাম। ট্যারা পাগলা বলল, ‘কীরে, লাফাছ কেন? একটু আগুন পোহাইতাছি।’ বুঝতে পারলাম আর কিছুক্ষণ থাকলে দুগ্ধ হয়ে প্রেমসহ স্বর্গবাসী হতে হবে। তাই দিলাম খিচ্চা দৌড়, ট্যারা পাগলাও আমার পিছনে দিলো দৌড়। কোনোরকম দৌড়ে একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকলাম। ট্যারা পাগলা কোনদিক গেল, মালুম করতে পারলাম না। গলিটা বেশ অন্ধকার। ফিসফিস করে নিজে নিজেকে বললাম, ‘শালার সব রাইখা এমন অন্ধকার গলিতে একলা আইসা ঢুকলাম!’ ঠিক তখনি পাশ থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘একলা কোথায়, আমরা তো আছি!’ আমি তো ভূত ভেবে হূদয় অ্যাটাক খেয়েছিলাম আরেকটু হলে। একজন লোক আমার সামনে এসে বলল, ‘ভাইজান মনে হয় অফসাইডে ঘুরতাছেন, ব্যাপার না, আমরাও অফসাইডের পাবলিক।’ ‘মানে?’ ‘বেকুব নাকি, আমরা হইলাম বিশুদ্ধ ছিনতাইকারী, এখন কুইকলি যা আছে বাইর কর।’ আমি আমতা আমতা করে বললাম, ‘ভাই, পকেটে একটা মোবাইল ছাড়া কিছু নাই।’ আরেকজন এসে বলল, ‘ওস্তাদ হালায় মনে হয় চাপা খিলাইতাছে, বরফ দেওয়া পানি গায়ে ঢাইলা দিই?’ ‘না, আগে ওর তল্লাশি নিয়া দেখ।’ একজন এসে আমার সবকিছু চেক করে বলল, ‘ওস্তাদ মোবাইল ছাড়া কিছু নাই।’ ‘ঠিক আছে সেইটাই নিয়া ব্যাটারে বিদায় কর।’ আমি বললাম, ‘ভাই, একটা ইচ্ছা ছিল।’ ‘কী?’ ‘মানে চাইছিলাম আপনাদের সাথে একটা সেলফি তুলতে।’ ‘সেইটা আবার কী?’ ‘ফটো... মানে জীবনেও ছিনতাইকারীর কবলে পড়ি নাই তো তাই...।’ পাশে থাকা একজন বলল, ‘ভাই একটু খাড়ান, ফেয়ার অ্যান্ড বাবলি ক্রিমটা মুখে লাগাইয়া লই।’ কী মাখল খোদা জানে। ‘ঠিক আছে তুলেন।’ ‘এই অন্ধকারে সেলফি তুলুম কেমতে, তার চেয়ে গলির থেকে বাইরে যাই।’ পাশে থাকা চামচাটা বলল, ‘ওস্তাদ ঠিকই তো কইছে... চলেন... একটা লুক-এর দরকার আছে না।’ গলি থেকে বের হয়ে ছিনতাইকারী আর আমি একসঙ্গে সেলফি তুলতে লাগলাম। হঠাত্ মনে হলো পোড়া পোড়া গন্ধ আসছে। তাকিয়ে দেখি ছিনতাইকারীদের লিডারের লুঙ্গিতে ট্যারা পাগলা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মুহূর্তে সব গোলমাল লেগে গেল। লিডার বলল, ‘ছিনতাইয়ের গুষ্টি কিলাই। জলদি পালা, নইলে আন্ডারওয়্যারে আগুন লাগিয়ে দিব।’ ছিনতাইকারীরা দৌড়াতে লাগল। আমিও ডরে দৌড় দিলাম। পেছনে ট্যারা পাগলা দৌড়াচ্ছে। আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে কে ছিনতাইকারী কে পাগল বোঝা মুশকিল। কোনোরকম দৌড়ে একটা পাবলিক টয়লেটে গিয়ে লুকালাম। জানে বাঁচলাম, কে জানে ছিনতাইকারী ব্যাটাদের আন্ডারওয়্যার ঠিক আছে কি না!
৩১-১-২০১৬ দৈনিক ইত্তেফাকের ঠাট্টায়

অপ্রকাশিত ছিনতাইয়ের ঘটনা
সোহানুর রহমান অনন্ত

আনারকলির ভূতটা এখনো নামেনি মুকিত ভাইয়ের মাথা থেকে। সারাক্ষণ তিনি মজনুর মতো একই নাম জপে। আমাকে বলল, ‘কিছু একটা বুদ্ধি দে, কী করা যায়?’ আমি বললাম, ‘ভাই দামি একটা গিফট কেনেন বাণিজ্য মেলা থেকে। মেয়েরা গিফট পেলে গলে যায়।’ মনে হলো মুকিত ভাইয়ের বুদ্ধিটা পছন্দ হয়েছে। ‘কিন্তু টাকা?’ আমি বললাম, ‘ভাই, টাকা তো অনেক লাগব।’ মুকিত ভাই বলল, ‘এক কাম করি চল, কাউকে মুরগি বানাই।’ ‘মানে?’ ‘রিয়েল ছিনতাই।’ ‘বলেন কী ভাই, আমগো একটা সুনাম আছে। পাবলিক দেখে ফেললে?’ ‘আরে ব্যাটা আমগোরে চিনলে তো তারপর... শোন মাঙ্কি টুপি পরে আমরা ছিনতাই করুম। দেশে এত বড় বড় ছিনতাই হইতাছে, আমরা তো করব মিনি ছিনতাই। আর প্রেমের জন্য সাতখুন মাফ, তুই জানস না?’ ‘ওকে ভাই। আপনি গুরু মানুষ, যা বলবেন সেটাই হবে।’ করিমকে কথাটা বলতেই হেঁচকির ব্যারাম উঠে গেল। পানি খেয়ে বলল, ‘ভাই আপনার না কাঁপুনি রোগ আছে?’ ‘ধুর ব্যাটা, ইজ্জত তো নিহত করে দিলি। আমি তো সিরিয়াস মানুষ। আজ রাতেই অপারেশন হবে।’

কথামতো রাতে আমরা মাঙ্কি টুপি পরে রাস্তার মোড়ে দাঁড়ালাম। একটু পরেই একজনকে আসতে দেখে সামনে এগিয়ে গেলাম। করিম ছুরি বের করে ধরল। মুকিত ভাই ওর কানের নিচে থাপ্পর মেরে বলল, ‘ব্যাটা উল্টো ধরেছিস কেন? ঠিক করে ধর।’ আমি বললাম, ‘কী আছে বাইর কর।’ অন্ধকার, তাই ভালো করে লোকটার চেহারা দেখতে পাইনি। লোকটা এবার পেছন থেকে রামদা বের করে বলল, ‘এই লও এইডা আছে।’ ভালো করে চেয়ে দেখি কান পাকা মুজিব। মুকিত ভাই তো কাঁপতে কাঁপতে পড়ে গেল ডরে। আরেকটু হলে আমিও সেন্সলেস হয়ে যেতাম। যাউগ্গা তা হইনি। তবে ঝেড়ে দৌড় দিলাম। করিমও তাই করল। ছিনতাই গেল ভেস্তে। এসব আমাদের দিয়ে হবে না। পরের অনেক ঘটনা অনেক লম্বা, বলে শেষ করা যাবে না। তবে ‘ছিনতাইকারী’ শোনার পর আনারকলি মুকিত ভাইয়ের সঙ্গে ব্রেকআপ করে দেয়। আহারে এই শীতেও মুকিত ভাইয়ের বিয়েটা হলো না। আফসোস।


একটি ব্যর্থ নির্বাচনী প্রচারণার কাহিনি
l সোহানুর রহমান অনন্ত l



১.

প্রেমে পড়লে মানুষ দার্শনিক কিংবা কবি হয়, কিন্তু আমাদের মুকিত ভাই হয়েছে বাচাল। একেবারে বিশুদ্ধ বাচাল যাকে বলে। কাউকে পেলেই তার ‘অক্সিজেন’ কলির কথা বলে। কলি কে সেটা একটু পড়ে বলছি। এলাকায় যেহেতু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই বাউণ্ডুলে গ্রুপেরও একটা দায়িত্ব আছে। পকেট যেভাবে মরুভূমির মতো শুকিয়ে থাকে তাতে ভেবেছিলাম, পকেট ছাড়াই প্যান্ট-শার্ট পড়ব। কিন্তু যেহেতু প্রার্থীর প্রচারণা চালাতে হবে তাই আপাতত সে সিস্টেমে যাচ্ছি না। এলাকার এক বড় ভাই পৌর মেয়র পদে দাঁড়িয়েছেন। তার প্রচারণা করতে হবে আমাদের। মুকিত ভাইকে পাওয়া গেল স্কুলের সামনে। তার ইয়ে আবার স্কুলের টিচার। আমাদের দেখে মুকিত ভাই বলল, ‘কীরে, তোরা এমন শুঁটকির মতো শুকিয়ে যাচ্ছিস কেন?’ মামুন হেসে বলল, ‘ভাই পারসোনাল কথা, সেটা গোপনে বলা যাবে। এখন প্রচারণা তো করতে হবে। টাকা নিয়ে তো অর্ধেক খেয়ে ফেলেছি।’ মুকিত ভাই হেসে বলল, ‘স্কুলের আশপাশে প্রচারণা করলেই তো হয়।’ আমি বিরক্তি নিয়ে বললাম, ‘ভাই, প্রেমের ম্যানহল থেকে একটু বের হন। প্রচারণা না চালালে প্রার্থী আমাদেরকেই পোস্টার বানিয়ে ঝুলিয়ে দেবে।’ মুকিত ভাই মনে হলো কিঞ্চিত্ ভয় পেয়েছে। ‘ঠিকই কইছত কিন্তু আমার কলি...।’ ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনি এখনো গুহার মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন, আরে ভাই কলির ছবি আপনার মোবাইলে আছে না।’ ‘হুম।’ ‘তাহলে যখন মন পড়বে, ছবি দেখবেন। বাস্তব আর ছবির মধ্যে তফাত্ এতটুকুই। আপনি বাস্তবে ওর দিকে তাকালে রেড সিগন্যাল দেয় আর ছবিতে গ্রিন সিগন্যাল দেবে।’

মনো হয় প্যাঁচটা কাজে লেগেছে। মুকিত ভাই হেসে বলল, ‘চল তাহলে।’ বাউণ্ডুলে ক্লাবের সামনে মাইকিং করে চলছে প্রচারণা, অমুক ভাইয়ের চরিত্র বুড়িগঙ্গার পানির চেয়ে পবিত্র। আমরা জনে জনে খবর দিয়ে এক প্যাকেট করে লবণ গিফট দিচ্ছি, সাথে লিফলেট। মুকিত ভাইকে চিমটি দিয়ে মামুন বলল, ‘ভাই, মানুষ চা খাওয়ায়, টাকা দেয়, আর আমরা লবণ দিতাছি কেন?’ মুকিত ভাই হেসে বলল, ‘দূর বেকুব! কথায় আছে, যার নুন খায় তার গুণ গায়। পাবলিক আমাদের প্রার্থীর নুন খেয়ে প্রার্থীর গুণ গাইব, অন্যদিকে আমাদের প্রাথীও লবণ মার্কায় দাঁড়িয়েছে, কী বুঝলি!’ ‘ভাই আপনি তো মানুষ না।’ ‘কস কী, আমি তাইলে কী?’ ‘আপনি বুদ্ধির খনি।’

এরমধ্যে কলির বড় ভাই এসে বলল, ‘এখানে কি লবণের ফ্যাক্টরি খোলা হইছে নাকি?’ খেয়াল করে দেখলাম মুকিত ভাইয়ের হাঁটু কাঁপছে। আর একটু হলে কাঁপতে কাঁপতে পড়েই যেত। কোনো রকমে আমাকে ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। মামুন হেসে বলল, ‘ভাই আপনাকে এক প্যাকেট লবণ দিই।’ কলির বড় ভাই কষে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বেটা ফাউ লবণ দিলে ভালো কোম্পানির দিবি, এমন হোলসেল খোলা লবণ দিয়ে তো পাবলিকরে ডায়রিয়ার রোগী বানিয়ে দিবি নাকি!’ এবার মুকিত ভাই ডরে চিত্ হয়ে পড়ে জ্ঞান হারালেন।



২.

‘দিন দিন সবকিছু আধুনিক হচ্ছে, তাই প্রচারণাও হতে হবে আধুনিক। যে যত বেশি আধুনিক, পাবলিক তার প্রতি আকৃষ্ট হয় তত বেশি।’ বুদ্ধিটা মুকিত ভাইয়ের মাথা থেকেই বের হলো—প্যারাসুট দিয়ে উড়ে উড়ে প্রচারণা করবে। আমার মাথা থেকে কখনোই উদ্ভট বুদ্ধি বের হয় না। ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘যেকোনো একজন উড়ে উড়ে লিফলেট বিলাবে।’ আমি হেসে বললাম, ‘ভাই, আপনি সিনিয়র মানুষ, আপনিই শুরু করেন।’ ‘কিন্তু...।’ ‘আপনার কাছে আবার ‘কিন্তু’ বলে কিছু আছে নাকি! আপনি হলেন বাউণ্ডুলে ক্লাবের গর্ব।’ ‘ঠিক আছে তোরা যখন সাহস দিতাছত, আমিই রিক্সটা নিমু।’

ব্যাপক প্রস্ততি নিয়ে আমরা প্রচারণায় নেমে পড়লাম। বিপক্ষ দল নিশ্চয় এমন প্রচারণা দেখে আমাদের বুদ্ধির তারিফ করবে। মুকিত ভাই প্রথম দশ মিনিট ভালোই উড়ে উড়ে প্রচারণা করলেন। তারপরই শুরু হলো তার কাঁপাকাঁপি। ঘটনা বুঝে উঠার আগেই দেখলাম ভাই মধ্যাকর্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে নিচের দিকে লাফিয়ে পড়ছে। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে। প্রচারণা ভেস্তে গেল, মুকিত ভাই পড়ল ম্যানহলে। পরে জানা গেল, সকালে তিনি রাস্তার পাশ থেকে এক গ্লাস খেজুরের রস খেয়েছিলেন। ব্যস উপরে উঠতেই নেগেটিভ পজিটিভ এক হয়ে গেল!



৩.

পোস্টার লাগানোর জন্য তিনজন মিলে পুরো মহল্লা ঘুরে শেষ। অবশ্য মাঝে মাঝে চা বিরতি ছিল। একটা সময় কলিদের বাড়ির সামনে যেতেই মুকিত ভাই বেঁকে বসল—কলিকে এক নজর দেখবে। কিন্তু বললেই তো আর দেখা যায় না। কলির ভাই সিরিয়াস টাইপের লোক। মুকিত ভাইকে বাড়ির একশ গজ দূরে থাকার জন্য বলে রেখেছে। যত সমস্যা তত সমাধানও আছে। একটা আম গাছের ডাল কলির ঘরের জানালার পাশ দিয়ে চলে গেছে। আপাতত সেটাই এভারেস্ট জয় করার রাস্তা। মুকিত ভাই বুকে ফু দিয়ে মাঙ্কি টুপি পরে উঠে পড়লেন। আমরা মাঙ্কি টুপি পরে নিলাম, বলা তো যায় না—কে দেখে ফেলে আবার। শীতকাল তাই এমনিতেই গাছের ডালপাতা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তার ওপর মুকিত ভাইয়ের মতো কাতলা মাছের মতো একজন যদি গাছে ওঠে তাহলে তো ভূমিকম্প হয়ে যাওয়ার কথা। ডালের অর্ধেক যেতেই ক্যার ক্যার করে শব্দ হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণ। মানে ডাল ভেঙে মুকিত ভাই মাটিতে পড়েছে। এবার আর ম্যানহল নয়। পড়ল কুকুরের লেজের ওপর, তাত্ক্ষণিক ঘেউ ঘেউ শব্দ। কুকুর দিল মুকিত ভাইকে দৌড়ানি। আমরা দুজন কোনদিকে দৌড় দেব সেটা ভাবতে ভাবতেই মুকিত ভাই এসে বলল, ‘ক্যাবলার মতো দাঁড়ায় না থাইক্কা খিচ্চা দৌড় দে!’ মামুন বলল, ‘প্রচারণা?’ ‘প্রচারণার গুষ্টি কিলাই, চৌদ্দটা ইনজেকশন না খেতে চাইলে দৌড় দে।’ দিলাম দৌড়... একেবারে ভোঁ-দৌড় যাকে বলে। এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে হইচই পড়ে গেল। প্রেম মানুষকে কাছে টানে আবার প্রেম মানুষকে দৌড়ানি খাওয়ায়। ভাগ্য খারাপ হওয়ায় মুকিত ভাই কুকুরের কামড় খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। আর আমাদের প্রচারণাও সুইসাইড করল।

শীত এক্সক্লুসিভ
২০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
শীত তো এসে পড়ল, আর এই শীত আসায় চারপাশে আপনি কেমন দৃশ্য দেখতে পান, তারই আজাইরা গবেষণা করে ঠাট্টার পাঠকদের জন্য ফলাফল তুলে ধরেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত ও কার্টুন এঁকেছেন রবিউল ইসলাম সুমন

আপনাদের সবার মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে, তাহলে মনে হয় সত্যি শীত চলে আসছে।

আপনি কিঞ্চিত্ মিসটেক খাইছেন কাগু, আমরা তো এখানে ধূমপান উত্সব করতাছি।

বলেন কি, ভাই আপনার ঘরে কখনোই শীত অনুভব করেন না, কথাটা তো বিলিভ খাইতাছে না।

ঠিকই কইছি, ঘরে ঢুকতেই আমার বউ যেভাবে চিল্লাপাল্লা শুরু করে তাতে শীতের গুষ্টিও যদি থাকে, নিহত হইয়া যাইব।

তুই কইলি শীতের মধ্যেই দোকানদারকে টাকা পরিশোধ করে দিবি, কিন্তু তোর তো চাকরিই নাই।

দূর বেকুব পুরো শীতের সিজনই তো মাঙ্কি টুপি পরে বাইরে ঘুরুম—দোকানদারের বাপও চিনতে পারবে না।

ভাই শীত এলেই তো গোসল করতে হাঁটু কাঁপে, পানি দেখলেই দৌড় মারতে মন চায়, কোনো টিপস থাকলে দেন।

ঘুমের টেবলেট খাইয়া কাউকে দিয়ে গোসল করাতে পারেন, যেহেতু আপনার হুঁশই থাকবে না, দৌড় মারার কোনো চান্স নাই।

উনি এমন ড্যান্স করে কীসের উত্সব পালন করতাছে, নাচ দেইখা তো মাথা ঘুরান্টি মারতাছে, লটারি পাইল নাকি?

আরে না আসলে উনি হলো কৃপণ বাড়িওয়ালা, শীত আসাতে বিদ্যুত্ বিল, পানি কম খরচ হবে তো তাই ড্যান্স করে সেলিব্রেশন করতাছে।

ওই মিয়া আপনি এত রাতে কল করেছেন কেন, আপনি দেখেন নাই সেখানে লেখা আছে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কল করার সময়।

কী করুম ভাই, হঠাত্ কইরা শীতটা বেশি পইড়া গেল তাই ভাবলাম আপনাদের হট লাইনে ফোন করি, এতে যদি একটু গরম হওয়া যায়।

Wednesday, 16 December 2015

ফেসবুকের প্রভাব
০১ নভেম্বর, ২০১৫ ইং
ফেসবুকের প্রভাব
l সোহানুর রহমান অনন্ত l



বিয়ের আগে ও পরে

বিয়ের আগে সময় পেলেই ফেসবুকে উঁকিঝুকি, সুন্দরী মেয়ে দেখলেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো। জীবনে কবিতা না লিখলেও, দু-এক লাইন কবিতা লেখা। রাতের ঘুম হারাম করে চ্যাট-বালিকাকে খোঁজা, আরও কত কী! বিয়ের পর, বউয়ের ফেস দেখেই তো জীবন শেষ ফেসবুকে আর বসার সময় কই? তারপরও বসলেই অমুক-তমুক স্ট্যাটাস—আজ বউ এটা রেঁধেছে, বউয়ের সাথে অমুক জায়গায় ঘুরতে গেলাম, মশারি টানানো নিয়ে ঝগড়া করলাম... আরও কত কী!



চাকরি পাওয়ার আগে ও পরে

সারাক্ষণই হতাশামাখা স্ট্যাটাস। পারলে দিনে দশবার সুইসাইড করে এমন নোট লেখা। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে পায়ের জুতা শেষ, তার ছবি ফেসবুকে আপলোড দেওয়া ইত্যাদি। চাকরি পাওয়ার পড়ে অমুকের সাথে সেলফি, তমুকের সাথে ডিনার। আজ কাজ করতে করতে টায়ার্ড, হেনতেন কত কিছু যে সারাদিন ভরে দেয়।



প্রেমের আগে ও পরে

প্রেমের আগে সবকিছু শো করে রাখা। দিনভর সুন্দরী মেয়েদের আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো। ওয়ালজুড়ে রোমান্টিক কবিতা, আর কথায় ভরে থাকা। মেয়েদের চ্যাটে দেখলেই হায়-হ্যালো করা। আর প্রেম হয়ে গেলে সবকিছু ‘অনলি মি’ করে ফেলা। বলা তো যায় না... কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যদি সাপ বের হয়ে যায়। তাই বিকল্প আইডি খুলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



ধার নেওয়ার আগে ও পরে

টাকা ধার নেওয়ার আগে পারলে বন্ধুকে মাথায় তুলে রাখা। দিনে চারবার বন্ধুর খোঁজখবর রাখা, ফেসবুকে বন্ধু আমার বন্ধু লিখে স্ট্যাটাস দেওয়া। সুযোগ পেলেই বন্ধুকে নিয়ে টঙের দোকানে চা, সিঙ্গারা খেতে বসে পড়া। তার সেলফিও আপলোড করা হয়। আর টাকা ধার নেওয়া হয়ে গেলে। বন্ধুর ছায়া দেখলেই জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। পারলে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা ফেসবুকে বন্ধুকে গালমন্দ করা। বন্ধুর আইডিকে ব্লক মেরে চুপচাপ ঝিম মেরে থাকা হয়।

গলি গলি মে চোর হ্যায়
l সোহানুর রহমান অনন্ত l

‘প্রেমের জন্য নাকি মানুষ সাত সাগর পারি দিতে পারে। আর তুমি সাধারণ হিন্দি ভাষাটা শিখতে পারবে না? এতেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে—তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো!’ আমি থতমত খেয়ে বললাম, ‘আমি কুচকুচ হিন্দি ভাষা জানতা হুঁ। বাট বলতে কেমন চুলকানি লাগে।’ ‘চুলকানি লাগে না ছাই, তুমি একটা হনুমান। তোমার সাথে সম্পর্ক রাখাটাই বোকামি। আমার বান্ধবীর প্রেমিকরা কি সুন্দর হিন্দি ভাষায় চ্যাট করে, কথা বলে, ওহ নো। আজ থেকে নিয়মিত সিরিয়াল দেখবে, বুঝলে।’ ‘হু বুঝলাম।’ ‘আমি রাখছি... (টুট টুট টুট)।’

কান্তাকে নিয়ে বড্ড বিপদে পড়ে গেছি। মেয়েটা সারাদিন সিরিয়াল দেখে। সিরিয়ালে এতটা নেশাগ্রস্ত যে বাংলা কথা বলতে গেলে আজকাল ওর হাঁটু কাঁপে। যাই হোক, প্রেম টিকিয়ে রাখতে গেলে তো একটু ত্যাগ করতেই হবে। কিন্তু মেসে তো টিভি নেই, হিন্দি সিরিয়াল কোথায় দেখব? হঠাত্ জানালা দিয়ে চোখ যেতেই দেখলাম পাশের ফ্ল্যাটের ভাবি হিন্দি সিরিয়াল দেখছেন। যাক বাবা ভালোই হলো, জানালা দিয়ে বসে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর ভাবি দাঁত-মুখ খিঁচে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ওই মিয়া, তোমার মতলব তো ভালো মনে হচ্ছে না।’ আমি হেসে বললাম, ‘ইয়ে মানে ভাবি... হ্যাম তো থোরা হিন্দি সিরিয়াল দেখতাহু। আপনাকে বহাত আচ্ছা লাগতাছে।’ ভাবি আরও রেগে গিয়ে বললেন, ‘কী! আমার দিকে চোখ দেছ, ওই তুমি কই আছ, দেখো তোমার বউয়ের দিকে পাশের বাড়ির ব্যাচেলর পোলা নজর দিতাছে।’ তখনই পাশের রুম থেকে মোটা হাতির মতো একজন দৌড়ে এসে বললেন, ‘আইজকা ওর চোখে কাঠের চশমা পড়াইয়া দিমু, শালার (টুট টুট টুট) কই?’

আমি কোনোরকম জানালা বন্ধ করে বাসা থেকে পালালাম। কী যে করি, মাথায় ঢুকছে না। হঠাত্ মাথায় একটা বুদ্ধি এলো, আরে আমি হিন্দি ভাষার ওপর কোর্স করলেই তো কাম সাড়া। রাস্তার পাশে এদিক ওদিক তাকিয়ে কোর্স সেন্টার খুঁজতে লাগলাম। একজন আদমি এসে আমাকে বলল, ‘ভাই কিতা খুঁজেন?’ আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘হিন্দি ভাষা কোচিং।’ লোকটা বলল, ‘আছে তো, আমার লগে আসেন।’ লোকটার পেছন পেছন আমি যেতে লাগলাম। ঢাকায় এত ভদ্রলোক আছে চিন্তাই করা যায় না। লোকটা একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকিয়ে বলল, ‘ওস্তাদ, একটা ঠেলাগাড়ি পাইছি, হালায় অফসাইডে ঘুরতে ছিল।’ এমন সময় একজন মোটা তাড়া ভুঁড়িওয়ালা লোক এসে বলল, ‘কস কি! ওই বেটা, কী আছে বাইর কর? নইলে তোরে গুঁতা দিয়ে ওপরে পাঠাইয়া দিমু।’ আমি ভয় পেয়ে গেলাম। গলিতে কোচিং নয়, গালি গালি মে চোর হ্যায়! তাড়াতাড়ি মোবাইল, টাকা-পয়সা সব দিয়ে দিলাম। ‘এইবার দৌড় দে!’ আমি লোকটার কানে ফিসফিস করে বললাম, ‘ভাই প্রেম নিয়ে বড় যন্ত্রণায় আছি। আপনার তো সব পথ জানা আছে, কন তো হিন্দি ভাষা কোচিং কই পামু।’ ‘আবে হালায় কয় কী? কাইল্লা, ওরে একটা ফ্রি কিক মার তো।’ কোনোরকম দৌড়ে জান নিয়ে পালালাম।

বাসায় এসে দেখি রুমমেট সানি ফ্লোরে পড়ে কাতরাচ্ছে। কী হয়েছে জানতে চাইলে বলল, ‘পাশের বাড়ির ভাবির স্বামী এসে উত্তম-মধ্যম দিয়েছে।’ বুঝতে পারলাম আমাকে না পেয়ে ঝড়টা সানির ওপর দিয়েই গেছে। হিন্দি সিরিয়ালের যন্ত্রণায় ‘লাইফ’টা ‘জীবন’ হয়ে যাচ্ছে!



২.

আমার এক বন্ধু এসে বলল, ‘দোস্ত আমি তো বেদনায় আছি।’ ‘কেন, কী হয়েছে?’ ‘আর বলিস না, তোর ভাবি সারাক্ষণ সিরিয়াল দেখে, সেদিন খেতে বসে টিভির দিকে তাকিয়ে গরম ডাল প্লেটে না দিয়ে আমার হাতের ওপর ঢেলে দিয়েছে।’ ‘কস কী?’ ‘হু, বিপদে আছি বন্ধু।’

প্রমাণ দেখার জন্য বন্ধুর সাথে ওর বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখি, ভাবি আরাম করে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখছে। ঘরে ঢুকতেই পোড়া পোড়া গন্ধ নাকে এলো, মানে চুলার ওপর তরকারি পুড়ে শেষ। ঘটনা ভয়াবহ। আমি ভাবির কাছে গিয়ে বললাম, ‘ভাবি তরকারি মনে হয় পুড়ে যাচ্ছে। হুঁশ ফিরে পেল কি না কে জানে। কোনোরকম দৌড়ে গিয়ে চুলা বন্ধ করে আবার টিভির সামনে বসল। আমার বন্ধু এবার রেগে গিয়ে বলল, ‘সারাদিন বসে কেবল হিন্দি সিরিয়াল দেখো, তোমার বিরক্ত লাগে না?’ সাথে সাথে ঘরের মধ্যে ১৩ নম্বর বিপদ সংকেত দেখা দিল। চোখের পলকে টিভির রিমোট গিয়ে পড়ল বন্ধুর মাথায়। ‘অ্যাঁ’ করার আগেই ভাবি কয়েকটা কিল ঘুষি মেরে বলল, ‘আমার সিরিয়াল দেখা নিয়ে খোঁচা দিচ্ছ না? আইজকা তোমার এক দিন আর আমার যে কয় বছর লাগে...’ আমি কোনোরকমে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে পড়ে জান বাঁচিয়ে পালালাম। কিন্তু বাঁচতে আর পারলাম কই। বন্ধু এবার ধরে বসল, কিছু একটা বুদ্ধি বের করতে হবে আমাকেই। বুদ্ধি দিলাম—চোর দিয়ে টিভিটা চুরি করিয়ে ফেললেই কাম সারা। ব্যস দু’জন মিলে একজন চোর ঠিক করলাম। আমরা বাইরে পাহারা দেব আর চোর বেটা টিভি চুরি করবে। হিসেব মতো রাত দুটোর দিকে চোর ঢুকল চুরি করতে, এবার একটু শান্তি আসবে ঘরে। কিছুক্ষণ পর চোর টিভি নিয়ে এসে বলল, ‘ভাই, চলেন একটা সেলফি তুলি।’ ‘ধুর মিয়া, মশকারা কর।’ ‘না ভাই, এইটা হইলো অপারেশন সাকসেসফুল সেলিব্রেশন।’ বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘চল তুলি।’ চোর বেটা পকেট থেকে চায়না মোবাইল বের করল। তারপর সেটা চেপে ধরতেই এমন ফ্লাশ পড়ল যে আলোকিত হয়ে গেল আশপাশ। ঠিক তখন এলাকার নেড়িকুত্তাগুলো ঘেউ ঘেউ করে আমদের দিকে আসতে লাগল। চোর বেটা টিভি ফেলেই দৌড়, আমি আর বন্ধু দৌড়ে কোনোরকমে চৌদ্দটা ইঞ্জেকশন নেওয়া থেকে বাঁচলাম। এলাকার মধ্যে হইচই পড়ে গেছে—গলির মধ্যে এতক্ষণ চোর দাঁড়িয়েছিল! বন্ধুর নসিব খারাপ, টিভিটা আবারও ওর ঘরে গেছে। হিন্দি সিরিয়ালের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া হলো না। বড়ই পরিতাপ

ধৈর্য বাড়াতে হলে
০১ নভেম্বর, ২০১৫ ইং
ধৈর্য বাড়াতে হলে
আমাদের ধৈর্য নেই বললেই চলে তাই কি করলে ধৈর্য বাড়াতে পারবেন সেটাই জানাচ্ছে সোহানুর রহমান অনন্ত

পাবলিক টয়লেটে

লাইন ধরতে হবে

পাবলিক টললেট মানেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সকালবেলা পাবলিক টয়লেটের লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। লাইন যত বড় হবে ধৈর্যের ফল তত বৃদ্ধি পাবে। এতে আপনার ধৈর্য ভয়ানকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিটিভি দেখতে হবে

বিটিভি মানেই আজাইরা চিল্লা-পাল্লা, সরকারি ঢোল পেটানো। অমুক জায়গায় এত উন্নতি করেছে, তমুক জায়গায় সেটা করেছে, দেশ এখন লোডশেডিংমুক্ত ইত্যাদি। আপনার যদি হাই স্কেলের ধৈর্য না থাকে তাহলে বিটিভি আপনি দেখতেই পারবেন না। তাই আপনাকে বিটিভি দেখাতে হবে।

লোকাল বাসে চড়তে হবে

লোকাল বাসে, চিল্লা-পাল্লা, পায়ে পাড়া খেয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। কোনোভাবে সিটে বসা যাবে না। প্রয়োজন বাদুরের মতো ঝুলে ঝুলে যেতে হবে। এখানেও ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যাবে।

প্রেমিকার সাথে শপিং করতে হবে

প্রেমিকার সাথে শপিংয়ে যাওয়া মানে বড় মাপের ধৈর্যের পরীক্ষা দেওয়া। প্রথমত কেনাকাটার ঝামেলা, দ্বিতীয়ত মানিব্যাগকে আত্মহত্যা করতে দেখা, তৃতীয়ত কেনা মালামাল আবার বহন করা। এইসব কি সম্ভব ধৈর্য না থাকলে? তাই আপনাকে শপিংয়ে গিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে।

ফ্যান ছাড়া গরমে ঘুমাতে হবে

রাতে ঘুমাতে গেলে ফ্যান বন্ধ রেখে ঘুমাতে হবে। যত গরম পড়বে ধৈর্যের ফল তত ক্লিয়ার হবে। গরমের মধ্যে টিকে থাকতে পারলে। বুঝতে পারবেন আপনার ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সো, এটাও ধৈর্যের বড় প্রমাণ দেবে।

Saturday, 3 October 2015

13-09-2015 Ittafaq-er fun magazine thattay

ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হওয়ার কারণ
আইডিয়া সোহানুর রহমান অনন্ত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ইং
l
আঁকা রবিউল ইসলাম সুমন l

আপনি না বললেন ভোটের পর ডোবা সংরক্ষণ করবেন, এখন আপনিই সেটা ভরাট করে পাঁচ তলা বাড়ি বানাইতাছেন?

চিন্তা কইরা দেখলাম এইসব ডোবায় মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ভরাট করে ফেললাম। আমি তো আবার আপনাগো ভালোটাই চাই।

আব্বা বিয়া তো আরও দুইদিন পর। এখনি আমরা বরযাত্রী নিয়া রওনা হইতাছি কোন দুঃখে?

ওরে নালায়েক, ঢাকার যানজট একবার পড়লে বিয়ে তো দূরের বিবাহ বার্ষিকীতেও পৌঁছাতে পারবি না।

আপনার এলাকা এত নোংরা, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলতে ফেলতে পাহাড় বানিয়ে ফেলেছে তারপরও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না?

এটাই তো সিস্টেমের খেইল, মানুষ পয়সা দিয়ে মাটির পাহাড় দেখতে যায়, কয়দিন পর ময়লার পাহাড় দেখতে আমার এলাকায় আইব। কী বুঝলেন!

নেতা আপনার ছোট ভাই তো রাস্তার পাশের সব গাছ কাইট্টা ফালাইছে, আপনি কিছু একটা করেন।

ও ঠিকই তো করছে, যে পরিমাণ ঝড়-তুফান হইতাছে তাতে কহন কার উপর গাছ ভাইঙা পড়ে... আমার ভাই তো দিল দরদি।

আমাদের শেষ প্রশ্ন ভাঙাচোরা রাস্তা নিরসনে আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?

কোনো পরিকল্পনা নাই, আপাতত আমি পরিবার-পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত।