join facebook page

Showing posts with label daily samokal-ar fun magazine (pachall). Show all posts
Showing posts with label daily samokal-ar fun magazine (pachall). Show all posts

Wednesday, 28 September 2016

আজ সমকালের প্যাঁচআল-এ

এখনকার সময় যদি নিউটনের মাথায় আপেল পড়ত!
সোহানুর রহমান অনন্ত

-অনলাইন নিউজ : ব্রেকিং নিউজ, এইমাত্র পাওয়া খবরে জানা গেছে, নিউটনের চুলের ওপর ক্রাশ খেয়ে আপেলের সুইসাইড। কেমতে সুইসাইড খাইলো, আপেলের রঙ কেমন ছিল যাবতীয় তথ্য ভিডিওসহ না দেখলে চরম মিস করবেন। একমাত্র আমরাই প্রথম নিউটনের মুখোমুখি জানতে পেরেছি। তিনি কেন আপেল গাছের নিচে গিয়ে বসেছিলেন, পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। নয় তো দূরে গিয়ে মুড়ি খান।

-সরকারি দল : তাল গাছ, বেল গাছ থাকতে আপেল পড়ল কেন? এটা সাবেক বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র মনে হচ্ছে। কেউ গাছ ধরে নাড়া দিল কি-না খতিয়ে দেখে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা সবসময়ই আপনাদের পাশে থাকতে চাই কিন্তু সাবেক বিরোধী দলের জন্য সেটা মাঝে মধ্যে সম্ভব হয় না। তবে এবার আর কোনো চক্রান্তকে মেনে নেওয়া হবে না। আমরা নিউটনের পাশে আছি।

-সাবেক বিরোধী দল : এই সরকার সামান্য ফল নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। সব ঘটনা আপনারা জানেন বন্ধুগণ। আসলে এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী না। সবকিছুতেই একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার পরিণাম আজ নিউটন ভোগ করল। আমরা ক্ষমতায় এলে আপেল গাছ কেটে কলা গাছ লাগাব, মুলা গাছ লাগাব। আর একটা আপেলও কারও মাথায় পড়বে না- কথা দিলাম বন্ধুগণ।

-এরশাদ : আচ্ছা, আপেল গাছের নিচে উনি কি একা বসেছিলেন নাকি সঙ্গে কোনো নারীও ছিল! যদি একা বসে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে লোকটা বোকা। আর যদি সঙ্গে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে বসেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি আমার মতোই বুদ্ধিমান!

-ফেসবুক ইউজার : নিউটনের মাথায় কীভাগে আপেল পড়ল? আপেল পড়ার সময় তিনি কোন দিকে তাকিয়ে ছিলেন? পড়তে হলে আমাদের পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গেই থাকুন। আছে এক্সকু্লসিভ ছবি। শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন ফ্রান্স।

-আপেল বিক্রেতা : কেমন যেন রহস্যের গন্ধ পাইতাছি। আমরা বসি লোকাল বাসের সিটে আর নিউটন গেছেন আপেল গাছের নিচে বসতে! আমার তো মনে হয় উনি আপেলে ফরমালিন মিশাইতে গেছেন। হে হে হে... আমরা যেমন মিশাই আর কি!

জ দৈনিক সমকালের প্যাঁচােলে

সাগর হরিলুট
মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংক খাতে নাকি সাগর চুরি ঘটেছে। সাগর চুরির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

প্রথম ব্যক্তি : বুঝলাম না, হুট করে বাপ-দাদার পেশা চুরি-ডাকাতি ছেড়ে দিবি? তোর কি সন্ত্রাসী হওয়ার শখ জাগছে?

দ্বিতীয় ব্যক্তি : আমাগো কি আর এখন কদর আছে। ব্যাংকার আর ঋণখেলাপি মিলে গোপনে সাগর লুট করে আর আমরা সারাজীবনে একটা ডোবাও লুট করতে পারলাম না, বড়ই পরিতাপ।

প্রথম ব্যক্তি : ছেলে ব্যাংক...।

দ্বিতীয় ব্যক্তি : কী কইলেন বেয়াই মশাই, ছেলে ব্যাংকার! এমন লুটেরা জামাই-ই তো আমি খুঁজতাছি। এই বিয়াতে আমার তো দূরের কথা আমার চৌদ্দগুষ্টিরও কারও অমত নাই।

প্রথম ব্যক্তি : আসলে বেয়াই সাহেব, আমি বলতে চাইছিলাম ছেলে ব্যাংক লুট নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক হিট খাইছে! শত শত লাইক কুড়াইছে। সেলিব্রেটি পোলা আমার।

প্রথম ব্যক্তি : মন্ত্রী চুরির সঙ্গে সাগরের উদাহরণ দিল কেন? মরুভূমি, এভারেস্টের কথাও তো বলতে পারত?

দ্বিতীয় ব্যক্তি : আসলে আমাদের দেশ নদীমাতৃক তো, তাই মন্ত্রীর সাগরের প্রতি একটা এক্সট্রা টান আছে।

প্রথম ব্যক্তি : আপনি এভাবে বিশ্বের ম্যাপ নিয়ে বসেছেন কেন, কোনো কাজ-কাম নাই নাকি?

দ্বিতীয় ব্যক্তি : আরে মিয়া এত টেনশন লইতাছেন কেন, ব্যাংক খাতে নাকি সাগর চুরি হইছে, তাই তো ম্যাপ দেখতাছি। আচমকা কোন সাগরটা গায়েব হয়ে গেল!

আজ ৬জুন ২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল এ

বিয়ে অতঃপর
সোহানুর রহমান অনন্ত

বউ আতঙ্ক
প্রথম ব্যক্তি : আমি প্রায় খেয়াল করি আপনি ঘরে ঢোকার সময় ফিসফিস করে একা কথা বলেন, এর কারণটা কি জানতে পারি?
দ্বিতীয় ব্যক্তি : তেমন কিছু না, বউয়ের সামনে কথা বলার সাহস নাই তো, তাই বাইরে থেকে ফিসফিস করে সব কথা শেষ করে যাই।

শুকিয়ে কাঠ
প্রথম ব্যক্তি : বিয়ের পর আপনি এমন শুকিয়ে যাচ্ছেন কেন ভাই, আগে তো ছোটখাটো একটা হাতি ছিলেন, খাওয়া-দাওয়া কি ছেড়ে দিলেন?

দ্বিতীয় ব্যক্তি : দুঃখের কথা আর কি কমু ভাই, খাওয়ার কিছু থাকলে তো খামু, বাজার থেকে যা আনি তা দিয়েই আপনার ভাবি রূপচর্চা শুরু করে।

বিলাই মারলেও সমস্যা
প্রথম বন্ধু : তোরে যে বলছিলাম বাসর রাইতে বিলাই মারতে, তুই কি সেই কাজটা করছিলি বন্ধু?
দ্বিতীয় ব্যক্তি : হারামি, তোর কথা শুনেই তো বিড়ালটা মেরে ধরা খাইছি, এখন তো ইঁদুর আমার প্যান্ট-জাইঙ্গা সব কেটে ফেলছে।

ফেসবুক নিয়ে সমস্যা
প্রথম ব্যক্তি : আপনার আর ভাবির ছবি এখন পর্যন্ত ফেসবুকে দেখলাম না, একটা সেলফি তুলে তো আপ করতে পারেন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি : শখ তো আমারও হয় কিন্তু আপনার ভাবি যখনই ছবি তোলার জন্য পার্লার থেকে সেজে আসে, তারে আঁতকা দেইখা পেতি্ন ভেবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি আমি!

আজ ৬জুন ২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল এ

মৌসুমি ফলের ভিন্ন ব্যবহার
সোহানুর রহমান অনন্ত

পুরস্কার হিসেবে কাঁঠাল : খেলায় পুরস্কার হিসেবে ট্রফি দেওয়া হয় বিজয়ী দলকে। যেহেতু কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল, আবার সাইজেও হেবি্ব বড়। তাই খেলার ট্রফির বদলে এই মৌসুমে বিজয়ী দলকে কাঁঠাল দেওয়া যেতে পারে। এতে যেমন ভিন্নতা আসবে আবার বিজয়ী দল চাইলেই কাঁঠাল খেয়ে পেটের ক্ষুধা মেটাতে পারবে।

বাড়ির বাউন্ডারিতে তারের বদলে আনারস : যেহেতু চোর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি যেন বাড়িতে ঢুকতে না পারে, তাই আমরা বাড়ির বাউন্ডারির দেয়ালে কাচ অথবা কাঁটাতার দিয়ে রাখি। এ ক্ষেত্রে কাঁটাতারের বদলে আনারস ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ আনারসের পাতাতেও কাঁটা আছে।

ক্রাইম কমাতে তরমুজ থেরাপি : সন্ত্রাসীকে রিমান্ডে নিলে যেমন ডিম থেরাপি দেওয়া হয়, তেমনি এই সিজনে ডিমের বদলে তরমুজ থেরাপি দেওয়া যেতে পারে। এটি সাইজেও ডিমের চেয়ে অনেক বড়। তাই তরমুজ থেরাপির ভয়ে অধিকাংশ ক্রাইম যে কমে যাবে এতে আমরা একশো পার্সেন্ট সিউর।

লিপস্টিকের বিকল্প হিসেবে জামের ব্যবহার : জাম দিয়ে লিপস্টিকের কাজ করতে পারে মেয়েরা। সবসময় লিপস্টিক সঙ্গে নাও থাকতে পারে। এই সিজনে পথের পাশেই জাম পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু জামে গাঢ় লাল রঙ হয়, তাই এটি ব্যবহার করা যেতেই পারে।

গেণ্ডারি দিয়ে সেলফি স্টিক : ইদানীং সেলফি রোগে ভুগছে পুরো জাতি। আর তাই সেলফি আরও সুন্দর করে তুলতে আপনার দরকার ভালো একটা সেলফি স্টিক। সে কারণেই সেলফি স্টিক হিসেবে গেণ্ডারি ব্যবহার করা যেতে পারে। অল্প খরচে শক্ত স্টিক দিয়ে আরামে কাজ চালিয়ে নিন।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2016/06/06/216521#sthash.rBQdGRkr.dpuf

আজ ১৬-৬-২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল এ

পাস করা ছেলেদের ছবি যেভাবে মিডিয়ায় আসবে
প্রতি বছরই ফল প্রকাশের পর মেয়েদের ছবি পত্রিকা এবং চ্যানেলগুলোয় আসে। এ ক্ষেত্রে ছেলেরা একেবারেই বঞ্চিত থাকে। কী করলে ছেলেদের ছবিও আসতে পারে, সেটাই জানিয়েছে সোহানুর রহমান অনন্ত

-ফটোগ্রাফারকে কুকুরের ভয় দেখিয়ে

১ম ছাত্র : ছবি তুলবেন কি-না বলেন, নইলে আমাদের পাগলু ডগি ছাইড়া দিলাম, কামড় দিলে কিন্তু আমগো দোষ নাই, ছো ছো ছো...!

ফটোগ্রাফার : ভাই ডর দেখায়েন না, আমি তো মেয়েদের ছবি তুলি না, কুত্তাটারে নিরাপদ দূরত্বে রাইখা পোজ দেন, ছবি তুলতাছি।

-ফেসবুক সেলিব্রেটি প্রস্তাব

১ম ছাত্র : কেউ আমার গাইরালা পেইজের অ্যাডমিন কিন্তু আমাদের ভাইব্রেদার, আপনারে ফেসবুক সেলিব্রেটি বানানো তো ওয়ান-টুর ব্যাপার।

ফটোগ্রাফার : আগে বলবেন না, আইজকা সারাদিন কেবল আপনাদের ছবিই তুলুম, আমার আইডি লিংকটা কেবল পেইজে শেয়ার দিয়েন।

- ১ম ছাত্র : আমি হইলাম ট্যাঙরা সামসু, তোর ক্যামেরায় যদি কোনো মাইয়া মানুষের ফটো দেখি তাইলে কিন্তু লেন্স আর তোরে তামাতামা কইরা দিমু।

ফটোগ্রাফার : আপনি কিচ্ছু চিন্তা কইরেন না ট্যাঙরা ভাই, দরকার হইলে আরও দু'জন ফটোগ্রাফার ভাড়া কইরা ছবি তুলুম। মোট কথা, বাদ যাবে না একটা ছেলেও।

-ছবি তোলা নিয়ে পত্রিকা অফিসের সামনে অনশন করা যেতে পারে

১ম ব্যক্তি : ছাত্র ভাইয়েরা, আপনারা তো ছবি দেওয়া নিয়ে আমরণ অনশন করতাছেন। তাইলে এমন খাওন উৎসব চলতাছে কেন?

ছাত্র : দূর বেকুব, আমরাই যদি না খেয়ে মরে যাই তাইলে ছবি কি ভূতের তুলবে! একটা শিঙ্গাড়া খাইয়া কাইট্টা পড়েন।

-টাকলু হয়ে সারপ্রাইজ দিন। পুরাই বিরল দৃশ্য!

ফটোগ্রাফার : এত এ পল্গাস পাওয়া টাকলু তো আমার দাদার জন্মেও দেখি নাই, পুরাই লুল হয়ে গেলাম।

ছাত্র : এইবার চিন্তা করেন, এই ছবি আপনার পেপারে ছাপা হলেই হিট খাইবো, কেবলার মতো দাঁড়াইয়া না থাইক্কা ছবি তুলেন।

০৯-০৫-২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল-এ

১০০% হালাল আজগুবি টি প স
সোহানুর রহমান অনন্ত

- ভাব নিতে চাইলে : যদি আপনি অতিমাত্রায় ভাব দেখাতে পছন্দ করেন, তাহলে যে কোনো সময় আপনার ভাব নিতে ইচ্ছে করতেই পারে। যদি ভাব নেওয়ার জন্য সামনে কাউকে না পান, তাহলে কাস্টমার কেয়ারে ফোন করুন। ব্যস, দেখবেন কীভাবে আপনাকে স্যার স্যার করে কথা বলে। অতএব আপনি যা-ই হোন না কেন এখানে কিন্তু আপনার ভাব ডাবল হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং ভাব ধরতেই পারেন।

-ফেসবুকে যেভাবে ফলোয়ার বাড়াবেন : প্রথমে আইডিটা কোনো সুন্দর মেয়ের নামে খুলুন, তারপর মিসরীয় কোনো মেয়ের পিক আপলোড করুন। আমাদের দেশে কিছু লুল ফেসবুক ইউজার আছে, এরা মেয়ের নাম দেখলেই লাইক মারতে থাকে। ব্যস, কয়েক দিনেই দেখবেন আপনার ফলোয়ার হাজার হাজার হয়ে গেছে। এবার নামটা এবং পিক চেঞ্জ করে রিয়েল জেন্ডারে আসুন।

-চাপা মারতে চাইলে : প্রথমে কাউকে হোটেলে নিয়ে খাওয়ান, ইচ্ছামতো খাওয়ান, না খাইতে চাইলেও খাওয়ান। খাওয়া শেষ হলে চাপা মারতে শুরু করুন। আপনার দাদা, কাকা এইডা-সেইডা ছিল। জানেন তো আমাদের কেউ খাওয়ালে তার সব কথাই আমরা হাসতে হাসতে বিশ্বাস করি। আশা করি, যাকে বলছেন তিনি মনোযোগ দিয়ে আপনার চাপা হজম করবে।

-প্রপ্রোজ করতে চাইলে : কোনো সুন্দরী মেয়েকে প্রপ্রোজ করার সময় অন্তত দুই হাত দূরে দাঁড়িয়ে প্রপ্রোজ করুন। ভাবছেন, কেন? আরে ভাই যদি মেয়েটির কাছে থাকেন তাহলে থাপ্পড় খেয়ে কানের নেটওয়ার্ক হারানোর আশঙ্কা আছে। তাই দুই হাত দূরে থাকলে অন্তত থাপ্পড় খাবেন না বলে আমরা বিশ্বাস করি।
http://bangla.samakal.net/2016/05/09/210905

18-4-2016 Daily somokal-er Pachall-e

বাঁশ

সম্প্রতি জানা গেছে, সরকারি অফিস নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ দেওয়া হয়েছে! চলুন জানা যাক, বাঁশ দিয়ে নতুন আর কী করা যায়। জানাচ্ছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

১ম ব্যক্তি : দিনদুপুরে পাগল হইছেন নাকি মিয়া, আমাকে আইক্কাওয়ালা বাঁশ দেখাচ্ছেন কেন?

২য় ব্যক্তি: এই বাঁশ হেবি্ব শক্ত। শুনলাম আজকাল অফিস নাকি রডের বদলে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ হয়, তাই বাঁশ বিক্রি করতে চলে আসলাম।

শ্বশুর : জামাই বাবাজি, তুমি বাঁশ বাগান দেখে এমন দৌড় মারতাছো কেন? আমি তো ডরানের কিছু দেখতাছি না।

জামাই : আসলে আব্বা হইছে কী, আমগো অফিস বাঁশ দিয়ে নির্মিত তো, তাই বাঁশ বাগান দেখলেই কেমন জানি অফিস অফিস মনে হয়।

১ম ব্যক্তি : ওই মিয়া, আপনার ফ্ল্যাটে তো রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার হইছে, এই বাড়ি তো মাথার ওপর ভেঙে পড়ব।

২য় ব্যক্তি : আগেই তো বলেছি স্যার, আমরা আপনাদের প্রকৃতির মাঝে রাখব, বাঁশ তো প্রকৃতির একটা অংশ স্যার।

১ম ব্যক্তি : ভাই, রডের ব্যবসা ছেড়ে হঠাৎ করে বাঁশের ব্যবসা শুরু করলেন?

২য় জন : এটা তো সহজ বিষয়, দেশে রডের চেয়ে বাঁশের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়তাছে। তাই রড আউট বাঁশ ইন।

১ম ব্যক্তি : বাঁশ বাগানে সিসি ক্যামেরা লাগাইতাছেন কোন দুঃখে, এখানে কোনো গুপ্তধন আছে নাকি?

২য় ব্যক্তি : তার চেয়েও বেশি কিছু আছে। আজকাল নাকি রডের বদলে বাঁশ দিয়া বিল্ডিং বানাইতাছে, তাই ব্যাম্বো গার্ডেনে সিকিউরিটি বাড়িয়ে দিলাম আর কি।

আজ ৭-২-২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল-এ মিনি রম্য................

আলাদিনের জিন ও কয়েকটি শিশু

সোহানুর রহমান অনন্ত

আলাদিনের জিন বার্থডে সেলিব্রেশন করতে বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছে। হঠাৎ মধ্যরাতে তার চোখে পড়ল একদল বাচ্চা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে তাদের সামনে গিয়ে বলল, 'ছোট্ট বন্ধু, তোমরা কেমন আছো?' বাচ্চাগুলো কেউ কোনো কথা বলল না। তাই দেখে জিন আবার বলল, 'বলো, তোমাদের কী চাই_ চকোলেট, খেলনা, নাকি হাওয়াই মিঠাই?'

বাচ্চারা এবারও কোনো কথা বলল না। জিন চিন্তিত মনে বলল, 'বুঝেছি, তোমাদের বাড়িতে যাওয়ার সাইকেল প্রয়োজন।' একজন বাচ্চা বলল, 'তুমি কে?'

'আমি আলাদিনের জিন।'

বাচ্চাগুলো আবার চুপ হয়ে গেল। জিন দাঁত বের করে হেসে বলল, 'তোমরা কি পথ হারিয়ে ফেলেছ?' বাচ্চাগুলো একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকাল। ওদের মধ্যে বয়সে একটু বড় একটা বাচ্চা এসে বলল, 'না, আমরা পথ হারাইনি।'

জিন নিশ্চিত হয়ে বলল, 'তাহলে চলো, তোমাদের দ্রুত বাড়িতে পেঁৗছে দিই।' বাচ্চাগুলো ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। সে দৃশ্য দেখে জিন আরও অবাক হলো, 'তোমরা বাড়ি যাবে না?' সবাই একসঙ্গে বলল, 'না।'

'না কেন বলো তো? তোমরা কেন বাড়িতে যেতে চাও না?'

'বাড়ি যেতে আমাদের ভয় করে।' এবার সত্যি জিনের মাথা খারাপ হওয়ার মতো অবস্থা হলো। বাচ্চাগুলো বলে কী! বাড়িতে যেতে ভয় করে, এটা আবার কেমন কথা হলো! জিন একটু ইজি হয়ে বলল, 'তোমাদের বাবা-মা চিন্তা করবে তোমাদের জন্য।' বয়সে বড় বাচ্চাটা সামনে এসে বলল, 'আমাদের ঘরে কোনো নিরাপত্তা নেই।'

'কী নেই?'

'নিরাপত্তা নেই, মানে আমরা ঘরে নিরাপদ না।'

'তোমরা ছোট মানুষ তাই বোঝো না, ঘরেই তো সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।'

'না, নিরাপদ না।'

'কেন নিরাপদ না?'

'কারণ বাসাতেই আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছি।'

'বুঝেছি, তোমাদের কোল ড্রিংকস প্রয়োজন। গরম পড়েছে তাই কী বলছ নিজেও বুঝতে পারছ না।' জিন ছু মন্তর দিয়ে একটা কোল্ড ড্রিংকস এনে ছেলেটির হাতে দিল। ছেলেটি রাগে-দুঃখে জিনের মুখের ওপর কোল্ড ড্রিংকস ছুড়ে মারল। তারপর সব শিশু একসঙ্গে চেঁচিয়ে বলল, 'আমাদের ঘরে চার দেয়ালের মধ্যেই আমাদের হত্যা করা হচ্ছে। আমাদের মা-বাবাকেও আমরা আর নিরাপদ মনে করতে পারছি না!' এক সঙ্গে এতগুলো কণ্ঠ রাতের অন্ধকারে অনেক দূর পর্যন্ত প্রতিধ্বনি হলো।

ছোট্ট একটা ছেলে একটা পেপার কাটিং এনে জিনের হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর ওরা সবাই জিনকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। জিন একমনে পড়ল নিউজগুলো। চোখে জল আসার মতো অবস্থা তার! সত্যি, মা-বাবার কাছেও সন্তান নিরাপদ নয়! অবিশ্বাস্য! তা ছাড়া কয়েকদিন আগেই বালুর নিচে পাওয়া গেছে কয়েকটি শিশুর লাশ। জিনের মনে পড়ে গেল সেই কথা।

সঙ্গে মনে পড়ল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার কথা। এসেছে নতুন শিশু; তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান। কিন্তু কোথায় ছাড়বে, নিজের ঘরেই শিশুরা এখন আর নিরাপদ নয়! জিন পেছনে ফিরে তাকাল। ততক্ষণে বাচ্চাগুলো অনেক দূরে চলে গেছে। নিষ্পাপ শিশুদের ছায়াগুলোও যেন ভয় পাচ্ছিল।

জিনের চোখটা ঝাপসা হয়ে এলো। সামনে তাকাতেই দেখল দলে দলে শিশুরা রাস্তার অন্ধকারে হেঁটে যাচ্ছে। ওদের চোখে-মুখে ভয়, হাজারো অজানা ভয়। শিশুদের এই অনিরাপদ দেশটিতে আর এক মিনিটও থাকল না আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের জিন। সেও উড়াল দিল। হ
- See more at: http://bangla.samakal.net/2016/03/07/197799#sthash.9WIU5hDE.dpuf

আজ ৭-২-২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যাঁচআল-এ................

গরমে কার অবদান বেশি?
গরম তো প্রায় এসে গেছে। চলুন দেখে আসি, গরমে কার বেশি অবদান। আর এমনটা নিয়ে যদি কোনো পুরস্কার দেওয়া হতো, তাহলে তারা কে কী বক্তব্য দিত, সেটাই জানাচ্ছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

ফ্রিজ : বন্ধুগণ, আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা বারো মাসই সেবা প্রদান করে থাকি। যদিও শীতকালে আমাদের ব্যবহার কম হয়। কিন্তু গরমকালে তো আমরা দম ফেলার টাইমও পাই না। আমরা আছি বলেই ঠাণ্ডা পানি খেয়ে কলিজা ঠাণ্ডা করেন, স্বস্তি পান। নইলে আপনাদের কী যে হতো। সুতরাং গরমে আমার অবদান সবচেয়ে বেশি।

হাতপাখা : বলদ ফ্রিজ অমন চিক্কুর পাইরা লাভ নাই। তুমি তো আছো আরেকজনের ঘাড়ের ওপর। কারেন্ট না থাকলে তো নিজেই গরমে অজ্ঞান হয়ে পড়ো। আর আমাকে দেখছো। আমি গরম বাতাসকে কনভার্ট করে ঠাণ্ডা করি। আমার জন্য কোনো কারেন্টের প্রয়োজন হয় না। অতএব এই গরমে তোমার চেয়ে আমার অবদান অনেক বেশি।

লেবুর শরবত : বললেই হলো, আমাদের শাখা যদি প্রতিটি রাস্তার পাশে না থাকত, তাহলে কী হতো একবার ভেবে দেখুন। আমাদের দাম অল্প কিন্তু আমরা প্রচণ্ড গরমে কলিজা ঠাণ্ডা করে থাকি। মানুষ আমাদের খাওয়ার জন্য লাইন দেয়। শুধু মানুষ না, মশা-মাছিও লাইন মারে। এইবার চিন্তা কইরা দেখেন, আমাদের জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে! অতএব এই গরমে আমাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

বিদ্যুৎ : তোমাদের কথা শুনলে হাসি পায়। গরমে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলাম আমি। আমি না থাকলে মানুষের মনে শান্তি থাকে না। আমার জন্যই তো ফ্রিজ, ফ্যান এগুলো চলতে পারে। এই গরমে আমার দেখা পাওয়া মানে, সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। তাই গরমে সবচেয়ে বেশি অবদান আমিই রাখি।

কুল পাউডার : কথা শুনে আর কী কইতাম! বিদ্যুৎ মিয়া, তুমি তো চোরের মতো পালিয়ে থাকো। তোমার অবদান হলো এক ঘণ্টার জন্য এসে ২ ঘণ্টার জন্য হারিয়ে যাওয়া। আমার কথা সবাই জানে, আমি একদিকে যেমন ঠাণ্ডা রাখি অন্যদিকে গরমের ঘামের গন্ধটাকেও ছড়াতে দিই না। তাই অবদানটা তো আমারই বেশি হইলো।

এসি : চুপ থাকো চুলকাইন্না পাইডার! তোমরা চুলাচুলি করে যা ইচ্ছে তাই বলো। গরমে আমার চেয়ে বেশি অবদান কেউই রাখে না। অফিস, বাড়ি, সব জায়গায় আমার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আমি বন্ধ থাকলে তো মানুষের চিল্লাপাল্লা শুরু হইয়া যায়। সুতরাং চিক্কুর পাইরা কোনো লাভ নাই। আমিই বেস্ট!

পানি : গরমে যে আমার অবদান সবচেয়ে বেশি এটা তো সবাই জানে। বেশি গরম লাগলেই সবাই আমাদের দিয়ে গোসল করে ঠাণ্ডা হয়। আমাকে পান করে শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করে। যে যত লেকচারই মারুক না কেন, আমার অবদান কইলাম সবার চাইতে বেশি।

আইসক্রিম : সবার বকবক তো শুনলাম। এইবার আমারটা শোনো, আমি কি গরমে অবদানটা কম রাখি! আমি যেমন স্বাদযুক্ত তেমন ঠাণ্ডাও। গরমে ঠাণ্ডার পাশাপাশি মানুষের মনও ভালো করতে পারি। তাইলে আমার অবদানটাই বা কম কিসের!

http://bangla.samakal.net/2016/03/07/197790

Wednesday, 2 March 2016

বই মেলা শ্যাষ!

সোহানুর রহমান অনন্ত

বইমেলার মাসে বিয়ে করলে এমনটা হতেই পারে!
১ম বন্ধু : দোস্ত, তুই হুট করে ফুটপাতে বইয়ের ব্যবসা শুরু করলি! তোদের না ফার্মের মুরগির ব্যবসা ছিল?

২য় বন্ধু : হ, এই মাসে বিয়ে করে বস্তায় বস্তায় বই উপহার পাইছি, তাই মুরগি বাদ দিয়া বইয়ের ব্যবসায় নাইমা পড়ছি।

শেষ সময়ে এমন বিরল ঘটনা ঘটতেই পারে!

ক্রেতা : কী ব্যাপার ভাই, লেখক অটোগ্রাফ না দিয়া কাতলা মাছের মতো চিৎ হয়ে পড়লো ক্যান?

প্রকাশক : পুরো বইমেলায় ওনার আত্মীয় ছাড়া আর কেউ বই কিনে নাই, আপনি প্রথম আম আদমি, উনার বই কিনলেন। এই খুশিতে বেচারা সেন্সলেস হয়ে গেছে!

এমন প্রশ্ন আসতেই পারে!

১ম ব্যক্তি : মেলা তো শেষ হয়ে গেল, তা এইবার বইমেলায় আপনার কি কোনো বই ছিল?

২য় ব্যক্তি : বইমেলায় আমার বই না থাকলেও বউ ছিল, মানে আমার বউ স্টলে সেলস গার্ল হিসেবে ছিল আর কি!

এশিয়া কাপ বনাম বউ সমস্যা!

সোহানুর রহমান অনন্ত

আমার বউ হিন্দি সিরিয়াল দেখে না, এটাকে সৌভাগ্য ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ সে হিন্দি সিরিয়াল না দেখলেও ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালগুলো ঠিকই দেখে। রিমোটের সাইজ বড় না হলে সেটাকে রকেট বানিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখত মে বি। এশিয়া কাপ খেলা শুরু হলেও রিমোট আমার দখলে আসেনি। আমার বউকে আমি ভয় পাই, শুধু আমি না আমার ধারণা ভূতও ভয় পায়। সেদিন বউকে বলেছিলাম বাপের বাড়ি থেকে এ কয়দিন ঘুরে আসো, অনেক দিন তো যাও না। বিষয়টা টের পেয়ে উল্টো আমাকে বলল, 'বউয়ের চেয়ে খেলা বড় হয়ে গেল! আরেকবার যদি এই কথা বলেছ তোমার...।'

বাকিটুকু আর শোনার দরকার নেই বন্ধুরা। আমি আরও কিছু একটা বলতে গিয়েও গিলে ফেললাম। কিছু না বলা থেকে যদি ভালো কিছু হয় তাহলে না বলাই ভালো। অফিস থেকে চিন্তিত মনে বাড়ি ফিরছি, তখনই মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। বাসায় গিয়ে বউকে বললাম, 'চলো একটা গেইম খেলি।'

'কী গেইম?' খেলায় চার-ছয় হলে যে আগে চিক্কুর দিতে পারবে তার পকেটে একশ' টাকা যাবে। এমন লোভনীয় প্রস্তাব বউ মেনে নেবে জানতাম। খেলা শুরু হওয়ার পরই ঘটল বিপত্তি, যেটা জানা ছিল না। ব্যাটসম্যান শট নেওয়ার আগেই বউ চিক্কুর দিয়ে ওঠে ছক্কককাআআআ...! এত জোরে চিক্কুর দেয় যে আশপাশের দুই-তিন বাড়ির লোকের কানের ওপর ঠাডা পড়ার মতো অবস্থা। একেকটা চার, ছক্কা হয় আর আমার ঘরে চলে ভূমিকম্প। কখন যেন খাট ভেঙে পড়ে সেই আতঙ্কে আছি আমি। কানে বালিশ চেপে ধরেও কাজ হয় না। একেই বলে উল্টা বুদ্ধির রিঅ্যাকশন। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশী এসে বলল, 'খেলা কি একা আপনারাই দেখতাছেন, আমরা দেখি না? এমন জোরে চিল্লান কেন?' আমি কোনো রকম বুঝিয়ে বিদায় করলাম। বউকে বললাম আর খেলা দেখার দরকার নাই। বউ বলল, 'না আজকেই তো ইনকাম করার দিন। অলরেডি এক হাজার টাকা পাওনা হয়ে গেছি।'

কাম সারছে! কী আর করার, বসে বসে বউয়ের চিক্কুর শুনতে লাগলাম। আর বাইরে পাবলিকের চিল্লানি। খেলা শেষ হতেই বউ মানিব্যাগ থেকে সব টাকা নিয়ে গেল। খেলা দেখা একেবার শিকায় উঠেছে আমার। রাগে-দুঃখে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। মাঝ রাতে হঠাৎ বউয়ের চিক্কুরে ঘুম ভাঙল ছক্ককককা...। লাফিয়ে উঠলাম বিছানায়, ঘুমের মধ্যেও চিল্লাইতাছে। কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। ঘুম থেকে জাগালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দেবে এখন। চিক্কুর হজম করতে না পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

মাঝ রাতের শহর এমনিতেই ফাঁকা থাকে। রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, হঠাৎ কে যেন নাম ধরে ডাকল। আশপাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। আবারও ডাকল, এবার ডর খেয়ে গেলাম। কান পেতে শুনলাম ডাকটা আম গাছ থেকে আসছে। কাছে যেতেই দেখি আমার বন্ধু আকবর। বলল, 'গাছে উঠে পড়।' উঠে পড়লাম চট করে। বন্ধুকে গিয়ে আমার দুঃখের কথা বলার আগেই ও নিজের দুঃখের কথা বলতে লাগল। খেলা দেখার জন্য আত্মীয়দের মধ্য থেকে সবচেয়ে বাচাল মহিলাকে বাসায় নিমন্ত্রণ করে এনেছিল।

ভেবেছিল বউ বাচালের সঙ্গে কথা বলবে আর এই সুযোগে সে খেলা দেখবে। কিন্তু হলো তার বিপরীত! খেলা শেষ হয়ে মাঝ রাত হয়ে গেলেও তাদের কথা শেষ হওয়ার নাম নেই। মাঝে মাঝে হো হো করে হেসে উঠে বাচাল মহিলা। বেশ কয়েকবার ডাকতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে আমার বন্ধুটি। তাই কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেছিল কিছুক্ষণ। মহিলা যখন হো হো করে হেসে উঠে তখন মনে হয় পুরো বাড়ি হো হো করে কাঁপছে। তাই বাধ্য হয়ে গাছে এসে ঘুমানোর ব্যবস্থা। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, 'তুই এত রাতে কী করিস?'

আমি হেসে বললাম, 'ছক্কা মারি। চল দু'জন মশার কামড় খেয়ে রাত পার করে দিই।'

'কেন তুই বাড়িতে যাবি না?'

হেসে বললাম, 'নাহ, বাড়িতে ছক্কা উৎসব চলছে। আজ রাতটা তোর সঙ্গে গাছের ডালেই কাটাব ভাবছি। গাছ থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেব! নে, ঘুমিয়ে পড়। সকালে আবার অফিসে যেতে হবে।' হ

শীতের অভিজ্ঞতা
সোহানুর রহমান অনন্ত

তেল শুধু অন্যকে নয় বরং শীতকালে নিজের গায়েও দিতে হয়

দোকানদার : ভাই, এক নম্বর সরিষার তেল। গায়ে মাখা মাত্র শীত ভয়ে পালাইব।
ক্রেতা : শীত পালাইব কি, তেলের দাম শুইনা অলরেডি আমার শীত নিহত হইয়া গেছে।

শীতকালে ছিনতাইকারীর কবলে পড়া মানেই...
সাংবাদিক : ভাই আপনি দেখি পুরাই হটম্যান! এই শীতের মধ্যেও খালি গায়ে দৌড়াচ্ছেন?
পথচারি: দূর মিয়া, কিয়ের হটম্যান, ছিনতাইকারী একলা পাইয়া সব খুইলা রাইখা দিছে, তাই ইজ্জত সুইসাইড করার আগে দৌড়াইতাছি।

শীতকালে হাত-পাও সেন্সলেস হয়
প্রথম বন্ধু : কী রে, তোর হাত গলার সঙ্গে এমন বেঁধে রেখেছিস কেন, নিশ্চয় পিকেটিং করতে গিয়া ধরা খাইছস?
দ্বিতীয় বন্ধু : আর বলিস না বন্ধু, ঠাণ্ডায় মনে হয় আমার হাত সেন্সলেস হয়ে গেছে।
অলসদের শীত মানেই মৃগীরোগ জেগে ওঠার লক্ষণ
প্রথম বন্ধু : গোসল করতে গেলে পানি দেখলেই আমার মৃগীরোগ উঠে যায়, উপায় থাকলে কইয়া ফালা।
দ্বিতীয় বন্ধু : তুই আসলেই একটা বেকুব, কম্বল গায়ে দিয়ে গোসল কর, তাইলে আর শীত লাগব না।

গা গরম করতে বা শীতকে জয় করতে নাচতে পারেন
সাংবাদিক : ভাই আপনি এমন কাঁপতাছেন কেন? আপনার মনে হয় অনেক শীত লাগতেছে।
পাবলিক : দূর মিয়া, আপনার চোখে কি গুলমরিচ পড়ছে নাকি? কাঁপতাছি কই, আমি তো গাংনামা স্টাইলে নাচের প্রাকটিস করতাছি।

বিয়া করার সিজন মানেই শীতকাল
প্রথম বন্ধু :দোস্ত শীতকালে এত বিয়ার ধুম পড়ে কেন? ব্যাখ্যা থাকলে কইয়া ফালা।
দ্বিতীয় বন্ধু : আমার তো মনে হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে অতিরিক্ত লেপ-কম্বল পাওয়ার আশায় শীতকালে এত বিয়ার ধুম পড়ে
জনগণের বন্ধু!

সম্প্রীতি একজন মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন পুলিশ জনগণের বন্ধু হতে সক্ষম হয়েছে! পুলিশ এবং জনগণের বন্ধুত্বের কিছু বিশেষ কাল্পনিক দিক নিয়ে হাজির হয়েছেন অনন্ত আকাশ (ছদ্দনাম)

বন্ধু যখন শত্রু
১ম পুলিশ : স্যার, ওই হালায় মনে হয় জন্মের কৃপণ! প্যান্টে কোনো পকেটই নাই, ইয়াবা কই রাখুম?
২য় পুলিশ : আরে বেকুব, দুইটা বাঁশডলা দিয়া মুখের মইধ্যে ঢুকাইয়া দে, বাকিটা থানায় নিয়া ব্যবস্থা করতাছি, বন্ধু হিসেবে একটা দায়িত্ব আছে না?
সবার বন্ধু
প্রেমিকা : কও কী! আমার বাপ আবার কবে থেইক্কা তোমার বন্ধু হইল? মাথাটা তো দেখছি পুরাই ঝিরঝিরা হয়ে গেছে!
প্রেমিক : হেইডা আমি কেমতে কমু। মন্ত্রীরে গিয়া জিগাও তোমার পুলিশ বাপ আমার কোন কালের বন্ধু আছিল!
এমন তো হতেই পারে
পাবলিক : স্যার, বন্ধু হইয়া বন্ধুরে সন্ত্রাসী বলে গ্রেফতার করতাছেন, আমি তো কিছুক্ষণ আগেই আপনার মোবাইলে মানি ট্রান্সফার করলাম।
পুলিশ : তাই নাকি, আমি তো তোমারে সন্ত্রাসী না সন্ন্যাসী বলতে চাইছিলাম, এত বড় চুল দেইখা কিঞ্চিৎ মিসটেক খাইছি! তুমি তো দেখতাছি পবিত্র পাবলিক।
মাইর চলছে চলবে
রাজনৈতিককর্মী : আমগোরে এমন কিলাইতাছেন কেন? সাবেক বিরোধী দলের কর্মী হলেও তো আমরা জনগণ এবং সে সূত্রে আপনাগো বন্ধু।
পুলিশ : এই জন্যই তো পিটাইতাছি! কয়েক বছর আগে এক বন্ধু আমার বউ নিয়া ভাইগা গেছে, সেই থেইক্কা বন্ধু নামটা শুনলেই...!
সবাই তো বন্ধু
স্ত্রী : তুমি নাকি পাশের বাড়ির ভাবিরে প্রত্যেক দিন বাইকে করে অফিস নিয়ে যাও, এইডা কি সত্যি কইতরের বাপ?
পুলিশ স্বামী : বেকুব মহিলা, শোনো নাই আমরা হইলাম জনগণের বন্ধু! বিরাট দায়িত্ব আমাদের, জনগণের সেবা করাই তো আমাদের কাজ!
গ্যাস নাই, যা করবেন?
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। আপনি এখন কী করবেন? সেটা নিয়েই গবেষণা করেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

সঅজুহাত দেখান :গ্যাসের অজুহাত দেখিয়ে অফিস থেকে ছুটি কাটান। কীভাবে? বলছি, বসকে বলুন গ্যাসের অভাবে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। শরীর একেবারে শুঁটকি হয়ে গেছে, অফিসে আসার শক্তি নাই। ক্ষুধায় মাথা কেমন ভনভন করে। যে কোনো মুহূর্তে চিৎ হয়ে পড়তে পারি। এখন আপনিই বলেন এই অবস্থায় কি অফিসে আসা ঠিক?
সঅতিথি হয়ে যান : যেহেতু শীতকাল চলছে, তাই একটা ফুলকপি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যান। যদি শ্বশুরবাড়ি গ্রামে হয় তাহলে তো কথাই নাই। গ্যাসের কোনো টেনশন নাই। আর ঢাকায় হলেও চিন্তার কারণ নাই। কারণ জামাইকে ভালো-মন্দ খাওয়ানোর জন্য ঠিকই শ্বশুরমশাই একটা ব্যবস্থা করবেন।
সলক্ষ রাখুন : শীতকালের কল্যাণে রাস্তার পাশে অনেকেই উত্তাপ নিতে আগুন জ্বালায়। চোখ-কান খোলা রাখুন। কোথাও আগুন জ্বলতে দেখলেই সেখান থেকে রান্নার কাজটা সেরে ফেলতে পারেন। গ্যাস নিয়ে কোনো টেনশন নাই।
সবিকল্প কিছু করুন : চায়নায় এক ধরনের চাল বের হয়েছে, যেটা পানিতে ভিজালেই ভাত হয়ে যায়। সুতরাং সেই চালটা কিনতে পারলে গ্যাস নিয়ে অন্তত আপনাকে মাথা খারাপ করতে হবে না।
সফলমূল খেয়ে বাঁচুন : আগের যুগের মানুষ ফলমূল খেয়ে বাঁচত। তাই আপনিও চাইলে ফলমূল খেয়ে বাঁচতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গ্যাস দিয়ে রান্না করতে হবে না। আর বাড়তি টেনশন করে চুলও সাদা করতে হবে না।
সএই সুযোগে ডায়েট কন্টোল করুন : যেহেতু গ্যাস নেই, রান্নাও নেই_ এই সুযোগে ডায়েট কন্টোল করুন। আর চিকনরা আরও চিকন হন। অন্তত স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল_ এটা ভুলে চিকনই সকল সুখের মূল এটা ভাবতে শুরু করুন।
আজ ২৫-১-২০১৬ দৈনিক সমকালের প্যঁাচালে.............

দলের যেভাবে ভাঙন রোধ করা যেতে পারে

বিরোধী দলে নতুন করে ভাঙন নিয়ে শুরু হয়েছে কানাঘুষা। কী করে এই ভাঙন থেকে দলকে বাঁচানো যায় তারই আজাইরা টিপস দিয়েছেন নিখিল বাংলা বেকার লেখক পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান অনন্ত

সফটওয়্যার পদ্ধতি
একটা বিশেষ চুলকানিময় সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে। তারপর দলের সবার সঙ্গে কানেক্ট করতে হবে। সফটওয়্যারটিতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। যাতে দলটি ভাঙতে গেলেই সবার মধ্যে তীব্র চুলকানি শুরু হয়। ব্যস, এমনটা করা যেতে পারলে অন্তত চুলকানির ভয়ে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে থাকবে।

চুম্বক পদ্ধতি
আমরা জানি এক চম্বুক আরেক চুম্বককে আকর্ষণ করে। এ পদ্ধতিতে সবার মধ্যে চুম্বক লাগিয়ে রাখতে হবে। যাতে কেউ কারও থেকে আলাদা হতে না পারে। আর এমনটা যদি করা যায় তাহলে দলটি ভাঙার আশঙ্কা কমে যাবে। সুতরাং দলকে মজবুত রাখতে চুম্বকের কোনো বিকল্প নেই।

পারফিউম পদ্ধতি
যারা টিভিতে চোখ রাখেন তারা অবশ্যই জানেন বিশেষ কিছু পারফিউমের বিজ্ঞাপন দেখায়। যেটা গায়ে মাখলেই দূরের মানুষও কাছে চলে আসে। সুতরাং সব সদস্যের মধ্যে মাঝে মাঝে পারফিউম মারা উৎসব করতে হবে। যাতে সবাই পাশাপাশি থাকে, দল ভাঙনের মুখে না পড়ে।

ফেভিকল পদ্ধতি
যেসব দল ভাঙনের মুখে পড়বে সেসব দলের নেতাকর্মীদের ফেভিকল লাগিয়ে আটকে দেওয়া উচিত। কারণ এই আঠা একবার লাগিয়ে দিলেই হলো, সহজে আর নেতারা একজন আরেকজনের কাছ থেকে আলাদা হতে পারবে না।

গান পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে দলের সবাইকে গান শিখতে হবে। ব্যস, কেউ যদি বিদ্রোহ করে তবে তাকে ফুলের মালা হাতে বরণ করে নিতে সবাই গান গাইবে, এসো এসো আমার ঘরে এসো...আমার ঘরে। ব্যস, এমন আবগে আপল্গুত হওয়া গান শোনার পর দলে ভাঙা তো দূরের কথা মরিচা পড়ারও আশঙ্কা নেই।

সেলফি পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে দলের সবাইকে সেলফি তোলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেহেতু সেলফি তুলতে হলে পাশাপাশি থাকতে হয়, আর পাশাপাশি থাকা মানেই দলের সবাই একত্রে থাকা। সুতরাং এটা বলাই যায় যে একত্রে থাকলে আর দল ভাঙার চান্স নেই।

কানে তুলা দেওয়া
যেহেতু আমাদের নেতা মাঝে মাঝে এটা সেটা বলে ফেলেন, সুতরাং তার কথা না শুনতে কানে তুলা সিস্টেম ফলো করা উচিত। তিনি সকালে মাছ দিয়ে ভাত খেয়েছেন বললে ধরে নিতে হবে বিকেলে বলবেন মাংস দিয়ে খেয়েছেন! সুতরাং মাঝে মাঝে কানে তুলা দিয়ে রাখতে হবে নেতাকর্মীদের। যাতে এসব আজগুবি কথা না শুনতে হয়। তার কথা যত কম শুনবে ততই নেতাকর্মীরা দলের সঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকবে।
একটি শীতের গল্প
সোহানুর রহমান অনন্ত
অলস সাহেব বউয়ের কিল খেয়ে গোসল করার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকলেন। টিভিতে তখন বিশুদ্ধ বাংলা ছবি চলছিল। পেট মোটা নায়িকাদের গান ভালোই লাগছিল তার কাছে। পানির সামনে যেতেই তার কাঁপুনিসহ হাঁপানি উঠে গেল। একটা আঙুল পানিতে লাগাতেই মনে হলো, কারেন্টে শক করেছে। ঠিক তখনই তার মাথায় একটা বুদ্ধি এসে গেল। তিনি বালতিবর্তি ঠাণ্ডা পানি নিয়ে গিয়ে বউয়ের গায়ে ঢেলে দিলেন। তখনই ঠাণ্ডায় বউ অজ্ঞান হয়ে গেল। অতঃপর তিনি সুখে-শান্তিতে, আরাম করে বসে টিভি দেখতে লাগলেন।

ব্যাচেলরদের মনের কথা
সোহানুর রহমান অনন্ত
ভাড়া নেওয়ার সময় যা ভাবে : বাড়িতে গ্যাস, পানি থাকুক আর না থাকুক বাড়িওয়ালার একটা সুন্দরী মেয়ে থাকলেই চলবে। যদি না থাকে তাহলে বাড়িওয়ালা ভাড়া দিতে চাইলেও ভাড়া নেব না। সুন্দরী মেয়ে থাকাটা সময়ের দাবি।
ঘর ভাড়া দিতে গেলে যা ভাবে : মাসের শেষে ঘর ভাড়া দিতে গেলে ব্যাচেলররা মনে মনে ভাবে, ভাড়া দেওয়ার জন্য একটা নির্ধারিত সময় ঠিক করে নিতে হবে। দরজার আড়াল থেকে টেরা চোখে দেখতে হবে কখন বাড়িওয়ালা নিচে হাঁটতে যায়। ব্যস, এই সুযোগে ওপরে গিয়ে দরজা নক করলেই সুন্দরী মেয়েটাই খুলবে। আর ভদ্রতার খাতিরে চা খাওয়ার অফার তো দেবেই।
রাত হলে যা ভাবে : রাতে মশারি টানাতে গিয়ে বারবার চিন্তা করবে বিয়েটা সামনের মাসেই করে ফেলব। এমন ডেঙ্গু মশা মার্কা জীবন আর ভালো লাগে না। বিয়ে করে ব্যাচেলর স্ট্যাটাস পাল্টাতেই হবে।
প্রেম করার আগে যা ভাবে : দূর! প্রেম কি মানুষ করে! অহেতুক সময় নষ্ট, টাকা নষ্ট। কিন্তু বন্ধুরা যখন গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরে তখন কলিজাটা এমন ছলাৎ ছলাৎ করে কেন। নাহ্ প্রেম একটা করতেই হবে।
প্রেম হয়ে গেলে যা ভাবে : আমারে কোন ভূতে কিলাইছিল, প্রেম যে কেন করলাম! গতকালই সেলারিটা পেয়েছি, আজই চাইনিজ, শপিংয়ে গিয়ে ফুতুর। নাকের কসম আর জীবনে প্রেম করুম না।
বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার আগে যা ভাবে : ধার তো মানুষই নেয়, নিমু আবার দিয়া দিমু কোনো ব্যাপার না। তা ছাড়া বন্ধুদের কাছ থেকে তো হেল্প আশা করতেই পারি। এইটা তো আমার নাগরিক অধিকার।
টাকা পেয়ে গেলে যা ভাবে : দূর হালায়! টেকা দেওয়ার সময় কেমন প্যানপ্যান করেছে। এই টাকা তিন বছর ঘুরিয়ে তারপর দিমু। বন্ধু হইয়া আমার লগে ফাইজলামি। এইবার দেখামু কত চাউলে কত ভাত!
ছবিতে সুন্দরী মেয়ে কমেন্ট দিলে : খাইছে! মেয়েটা এত যত্ন করে কমেন্ট দিল। একটু নক করে দেখি, যদি লাইগা যায়। বন্ধুদের তো বলতে পারব, সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে প্রেম হইছে।
বল্গক খেলে যা ভাবে : দূর! এইটা মনে হয় ফেইক আইডি। আজাইরা কথা নাই বার্তা নাই বল্গক মেরে দিল। আমার স্ট্যাটাস বুঝল না, পুরাই লুল হয়ে গেলাম।

আজ ২৮-১২-২০১৫ দৈনিক সমকালের প্যাঁচালে (এই রাশিফল দেখে কারো মাথা ঘুরান্টি খেলে নিজ দায়িত্বে জ্ঞান হারান)

কেমন যাবে নতুন বছর?
নতুন বছর কার কেমন কাটবে, ঠিক তার কাল্পনিক (আজগুবিও বলতে পারেন) একটা রাশিফল তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট জ্যোতিষী সোহানুর রহমান অনন্ত

মেষ : এই রাশির জাতকদের জন্য একটি সুসংবাদ হলো, অপরিচিত কারও সঙ্গে প্রেম হয়ে যেতে পারে। আলু চাষে ব্যাপক উন্নতি পেতে পারেন। দূরের যাত্রা শুভ। বউয়ের সঙ্গে ননস্টপ ঝগড়ার অবসান ঘটতে পারে। দিনের শেষে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার আশঙ্কা আছে।

বৃষ : স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে। অনেকেই আপনাকে কান পড়া, কান মলা দিতে পারে, সুতরাং এদের থেকে কানটাকে দূরে রাখুন। ব্যবসায় উন্নতি হলেও শপিংয়ে গিয়ে ব্যাপক ধরা খেতে পারেন।

মিথুন : হঠাৎ ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে যেতে পারে। সুতরাং পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় সাবধানে থাকুন। আনলিমিটেড খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। হঠাৎ বিয়ের অফার চলে আসতে পারে। তবে পালিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কা আছে। সংসারের ভেজাল কমবে। পুরনো সম্পর্ক সুপার গ্গ্নু ছাড়াই জোড়া লাগতে পারে।

কর্কট : ফেসবুকে প্রেম হতে পারে, তবে ফেক আইডি থেকে সাবধান। গৃহ নির্মাণ নিয়ে এলাকার ক্যাডারদের সঙ্গে গেঞ্জাম লাগতে পারে। তাই আগে থেকেই তাদের তবারক পাঠিয়ে দিন। ডেটিংয়ে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকার কাছে ধরা পড়তে পারেন। দূরের যাত্রা শুভ।

সিংহ : ঝামেলা ছাড়াই টিকিট পেয়ে যেতে পারেন। তবে সেটা লটারির না, বাসের টিকিট। ভালোলাগার মানুষটিকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করার সম্ভাবনা আছে। অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকলেও বউয়ের দ্বারা অর্থ ব্যয়ের মারাত্মক আশঙ্কা আছে।
কন্যা : এই রাশির মেয়েদের ফেসবুকে ফলোয়ার এবং লাইকার কোনো ঘোষণা ছাড়াই বেড়ে যেতে পারে। ছেলেদের গোপন এক হালি প্রেম ফাঁস হয়ে মাইনকা চিপায় পড়ার আশঙ্কা বেশি। আবেগের বশে বড় ধরনের ভুলে জড়িয়ে যেতে পারেন। স্বামি-স্ত্রীর মাঝে কলহ মিটবে। বিনিয়োগে সাফল্য আসতে পারে, তবে শেয়ারবাজার থেকে দূরে থাকুন।

তুলা : খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন (অস্থায়ী)। লোভে পড়ে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। অন্ধকারে সাবধানে চলুন, ঢাকনা খোলা ম্যানহোল আপনার যাত্রাভঙ্গ করতে পারে। বছরের মাঝামাঝি চাপাবাজিতে ধরা খেয়ে গণধোলাই খাওয়ার আশঙ্কা আছে।
বৃশ্চিক : মলম পার্টির কবলে পড়তে পারেন, দূরের যাত্রায় সাবধান। এই সিজনে বিয়ে করে ফ্রি লেপ-তোশক পেতে পারেন। ব্যবসা শুভ, রোমান্স শুভ, তবে মেয়েঘটিত কারণে স্ত্রীর সন্দেহের শিকার হতে পারেন। চাকরিতে ডিমোশন হওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা আছে।

ধনু : হঠাৎ রং নাম্বার থেকে জিনের বাদশা ফোন করে টাকা-পয়সা চাইতে পারে। প্রেমিকার সঙ্গে ব্রেকআপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে পুরনো পাওনা টাকা পেতে পারেন। অফিসে বসকে তেল মেরে বছরের মাঝামাঝিতে হালকা প্রমোশন পেতে পারেন।

মকর : আলাপ-আলোচনায় সমস্যার সমাধান হতে পারে। ফেসবুক হ্যাকারদের দখলে যাওয়ার আছে। বউয়ের সঙ্গে টিভি দেখা নিয়ে গেঞ্জাম লাগতে পারে। তাই সিরিয়াল দেখার অভ্যাস করুন। একাধিক প্রেমের অফার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছের দাম শুনে বছরের যে কোনো দিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

কুম্ভ : বছরের যে কোনো দিন জনসম্মুখে পাওনাদারের হাতে ধরা খেয়ে শরীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে পারেন। হবে হবে করে বিয়ের তারিখ বারবার পিছিয়ে যেতে পারে। গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার চান্স আছে। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করলে অর্থ ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা আছে। প্রেমিকার বান্ধবীর সঙ্গে হালকা সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

মীন : দিনের শেষে জেমসের গান গেয়ে প্রেমিকার রাগ ভাঙাতে হতে পারে। সুখবর শুনে আনন্দে হাঁপানি রোগ উঠে যেতে পারে। উত্তেজনা পরিহার করুন। বাবার পকেট কেটে অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। রোমান্স শুভ। বছরের শুরুতেই রাতে ঘুমের ঘোরে খাট থেকে পড়ে ঠ্যাং ভাঙার আশঙ্কা আছে।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2015/12/28/182419#sthash.vZUgQbD4.dpuf

২১-১২-২০১৫ আজকের সমকালের প্যাঁচালে

Wednesday, 16 December 2015

১৪-১২-২০১৫ দৈনিক সমকালের প্যাঁচালে

লাইফটা প্যাঁচময়!
এক বা একাধিক_ কোনটা থাকা ভালো, নাকি কিছু না থাকাই ভালো? তারই
কিঞ্চিৎ ব্যাখ্যা খুঁজতে চেষ্টা করেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

ষ গার্লফ্রেন্ড একটা থাকলে যা হয় : গার্লফ্রেন্ড যদি একটা থাকে তাহলে সারাক্ষণ ব্রেকআপ নিয়ে টেনশন। বন্ধুরা কথায় কথায় খোঁচা দিয়ে বলে, জীবনে একটারেই কেবল পটাইতে পারছস। মেয়েটা বেকুব বলেই তোর সঙ্গে প্রেম করে।
- একাধিক থাকলে : বেশি গার্লফ্রেন্ড থাকলে রিস্কের ওপর দিন কাটে। কখন কার সামনে কাকে নিয়ে ধরা খেতে হয় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। শেষে পাবলিক পেল্গসে চরিত্রের সনদপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই একাধিক প্রেম করলে ইজ্জত নিহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
- না থাকলে : না থাকলেও ব্যাপক সমস্যা। বন্ধুরা খোঁটা দিয়ে বলবে, তুই মানুষ, না কলাগাছ? একটা মেয়েকে পটাতে পারলি না! তোরে বন্ধু কইতেও আমার ঘাড়ের রগ টান খায়!
- বউ চিল্লা-পাল্লা না করলে যা হয় : স্বামী মুখ ঝামটা মেরে বলে, 'তোমার মতো বেকুব মহিলা আমি জীবনেও দেখি নাই। পাশের বাড়ির ভাবি তোমার পোলারে কানমলা দিল আর তুমি কিছুই কইলা না। এমন ডরাইন্না মাইয়া মানুষ লইয়া সংসার করুম ক্যামতে!'
বেশি চিল্লা-পাল্লা করলে : স্বামী বলে, 'ওরে বাপরে! এইবার অন্তত গলার সাউন্ডটা কমাও। কানের তো লোডশেডিং হইয়া যাইতাছে। গলা যেন চায়না মোবাইলের স্পিকার। মেয়ে মানুষের এই এক দোষ, সারাক্ষণ চিক্কুর-বাক্কুর না দিলে ভালোই লাগে না।
-টাকা ধার না চইলে যা হয় : আরে বেটা শুধু একবার মুখ দিয়ে বলে দেখবি। টাকার বন্যা বসাইয়া দিমু। আমরা খান আলী খান বংশের পোলাপান। আগেও খান পেছনেও খান। আমগো কাছে টাকার অভাব আছে নাকি। খালি বলি না, তোরা চাপা মনে করবি_ এই কারণে।
- চাইলে যা হয় : তোর টাকা লাগব আগে বলবি না। আমি তো গতকালই সব টাকা বাপজানরে দিয়া দিলাম। তুই আসলেই একটা গাধা! সকালে বললেও তোরে টাকা দিতে পারতাম। টাকা কি আমগো কাছে কম আছে?
-ফেরত না দিলে যা হয় : তুই আমার বন্ধু হয়েও টাকাটা এমন ঘুরাইতাছস; আগে জানলে টাকা তো দূরের কথা, এক টাকার কয়েনও তোকে দিতাম না। তুই আসলেই একটা পল্টিবাজ।
- প্রশংসা করলে যা হয় : যদি বেশি প্রশংসা করেন তাহলে আপনার গার্লফ্রেন্ড বলবে, ছেলেরা এমনই হয়; বুঝছো। মেয়েদের ফাঁদে ফেলতে প্রশংসা করে। কী ভাবছো, আমি কিছু বুঝি না তাই না! এই ক্লাস বহুত আগেই পাস করে আসছি। আজাইরা প্রশংসা করা বাদ দাও।
-না করলে : তুমি মানুষ, না রোবট! এত সুন্দর করে সেজে আসলাম আর কোনো কমেন্টই করতাছো না। আসলে তোমার ভেতরে আমারে নিয়ে কোনো ফিলিংস নাই। তুমি একটা হনুমান!
- অন্য কারও করলে :তুমি আমার চেয়ে আমার বান্ধবীরে বেশি সুন্দরী বললা! এই জন্যই তো বলি, আমার বান্ধবীর সামনে গেলে তুমি এমন ট্যারা হয়ে যাও কেন! আসলে তোমার চরিত্র বলে কিছু নাই। আগে জানলে প্রেম তো দূরের কথা, তোমারে আমার বাড়ির কুত্তা দিয়া দৌড়ানি খাওয়াতাম। আজ থেইক্কা ব্রেকআপ!