join facebook page

Monday, 1 June 2015

19-5-2015 Daily kalerkantho- Gorar Dim-a

ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে
সোহানুর রহমান অনন্ত

বেলুনে ভেসে থাকুন : যেহেতু ভেসে থাকলে আপনাকে আর ভূমিকম্পের কবলে পড়তে হবে না। তাই বেলুন দিয়ে ভেসে থাকুন। এবার যত মাত্রার ভূমিকম্প হোক না কেন, আপনি থাকবেন নিরাপদ। তবে সমস্যা হলো, বেলুনে ভেসে ভেসে আবার ভূমিকম্পের দেশ জাপানে চলে যাইয়েন না। তাহলে চব্বিশ ঘণ্টাই কাঁপুনির ওপর থাকতে হবে।



মুখের ওপর বালিশ দিয়ে ঘুমান : যেহেতু রাতে ভূমিকম্প হলে আপনার টের পেতে অনেক সময় লেগে যাবে। তাই মাথার নিচে নয়, মুখের ওপর বালিশ দিয়ে ঘুমাতে পারেন। দরকার হলে একটার জায়গায় দুইটা বালিশ দিতে পারেন। এতে মুখের ওপর দেয়াল ধসে পড়লেও ক্ষতি হবার চান্স থাকবে না। দরকার হলে হেলমেট পরেও ঘুমাতে পারেন।



ড্যান্স শিখুন : ভাবছেন, এর সঙ্গে আবার ড্যান্স শেখার কী সম্পর্ক। কোনো না কোনো সম্পর্ক তো আছেই। ভূমিকম্প হলেই আমাদের মাথা ঘুরানি মারে। তাই ভূমিকম্প হতে দেখলেই ড্যান্স শুরু করে দেবেন। ব্যস, কোন দিক দিয়ে ভূমিকম্প হলো নিজেই টের পাবেন না।



বড় সিন্দুক বানান : মজবুত দেখে বড় মাপের একটা সিন্দুক বানান, যার মধ্যে আপনি অনায়াশে ঢুকে থাকতে পারবেন। ব্যস, ভূমিকম্প শুরু হলেই সিন্দুকের মধ্যে ঢুকে পড়ুন। আগে থেকেই সেখানে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। এবার আর কোনো চিন্তা নেই।



পায়ে স্প্রিং লাগান : এ পদ্ধতিতে ভূমিকম্প শুরু হলেই বাড়ির ছাদে উঠে পড়ুন। অবস্থা খারাপ দেখলে হয়তো আপনাকে ছাদ থেকে লাফ দিতে হতে পারে। আর সাধারণভাবে লাফ দিলে মরার চান্স শতভাগ। সুতরাং পায়ে যদি স্প্রিং লাগানো থাকে তাহলে আর কোনো ভয় নেই। যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লাফিয়ে পড়ুন।

18-05-2015 daily prothom alo rosh alo

Tuesday, 12 May 2015

11-05-2015 Daily somokal-ar pachall a amar idea
11-05-2015 daily banglades protidin rokomari rommo te

বৈবাহিক পরিবর্তন
সোহানুর রহমান অনন্ত

প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন : বিয়ে করলে প্রথমে আপনার কোন জিনিসটার পরিবর্তন আসবে। আপনি বুঝতে কিঞ্চিৎ লেট করলেও আমরা কিন্তু বুঝতে সময় নেব না। সবার প্রথমে আপনার ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচারটা পরিবর্তন হবে। মানে একজনের জায়গায় দুজন। সিঙ্গেলের জায়গায় ম্যারিড, তবে ফেসবুকে অন্য কারও সঙ্গে প্রেমসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে। এমনটা নাও দেখা যেতে পারে।



লেট লতিফ : বিয়ে করলে নতুন বউকে ছেড়ে অফিস যেতে কারোই ইচ্ছে করে না। তারপরও অফিস যেতে হয়, তবে সেটা সময়ের চেয়ে অসময়ে বেশি। মানে প্রতিদিনই লেট। আর বসের এক কথা। আপনি বিয়ে করার পর লেট লতিফ হবেন এটা সবাই একশ পার্সেন্ট বিশ্বাস করে।



গ্রেট চাপাবাজ : বিয়ে করলে একটু আকটু চাপাবাজি করবেনই। শশুরবাড়ির লোকজনদের কাছে, আপনি হেন-তেন কাবলি ডাবলি কত কিছু যে বলবেন। চাপা যে কম মারবেন না এটা আপনি সিউর না হলেও আমরা কিন্তু পুরোপুরি সিউর। তবে ননস্টপ চাপা মারার সময় একটু খেয়াল করবেন। হ্যাঁ বলতে গিয়ে হালুয়া রুটি বলে ফেললে সমস্যায় পড়তেই পারেন।



ভয়ানক কৃপণ : বিয়ের আগে আপনি বন্ধুদের নিয়ে টাকা পয়সা ধূমধাম উড়ালেও বিয়ের পর আপনি পকেটে হাত দিতে তিনবার ঢোক গিলবেন। বন্ধুদের দেখলে খরচ করা তো দূরের কথা উল্টো সংসারের অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছে টাকা চাইবেন। বিয়ের পর যে আপনি আসলেই কৃপণ হবেন সেটা বিশ্বাস করতেই হবে। নইলে বিয়ে করেই দেখুন!

সময় সচেতন : বিয়ের আগে অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকলেও বিয়ের পর আর সেটা হচ্ছে না। বউয়ের ভয়ে ১০টার মধ্যে আপনাকে ঘরে প্রবেশ করতে হবে। নয়তো কালবৈশাখীর আলামত দেখা শুরু করবেন। তবে ঘরে প্রবেশ করার আগে শার্ট ভালো করে চেক করে যান। ঢাকার আকাশে শুধু টাকাই উড়ে না লম্বা লম্বা চুলও উড়ে। আর সেটা যদি আপনার বউ শার্টে দেখে। থাক বাকিটা বলতে গেলে আমারই হার্টঅ্যাটাক হয়ে যাবে।

এক সকালে লোকটি কলিংবেল টেপার শব্দে ঘুম ভাঙে আমার....লোকটাকেই দেখেই কেন যেন খুব খারাপ লাগে...ছদ্দনামে লিখে ফেললাম তাকে নিয়ে আজকের অবকাশে .................লোকটার আরো কিছু ছবি আছে আমি কমেন্টে দিয়ে দিচ্ছি

একজন মজিবুর রহমান

প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি সুন্দর স্বপ্ন থাকে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে-শান্তিকে বেঁচে থাকা। কিন্তু কারো কারো জীবনে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। তেমনি একজন স্বপ্নভাঙা মানুষ মজিবুর রহমান। ষাটের কাছাকাছি বয়স, একসময়ের দাপটে মানুষটি এখন নিয়তির কাছে পরাজিত হয়ে মানুষের কাছে হাত পাতছে দু’টি টাকার জন্য। গাইবান্ধার ধানগড়া গ্রামে জন্ম তার। ধানের মিলে কাজ করে সংসার কোনো রকম চলছিল। ছেলে সন্তানের আশায় একে একে পাঁচটি মেয়ে হলো। অভাবের সংসারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে মেয়েদের পড়ানোর কথা চিন্তা করাও পাপ। একে একে মেয়েদের বিয়ে দেন, কেবল ছোট মেয়েটি পড়াশোনা করছিল। কারো স্বামী রিকশাচালক, কেউবা বাসের হেলপার অথবা ড্রাইভার। মেয়েরা সুখে থাকলেই তার সুখ। তবে সুখের দিন যেন একটি জ্বলন্ত মোমের মতো হালকা বাতাসেও নিভে যায়। তেমনি চালের মিলে কাজ করতে গিয়ে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার শরীরের নিচের অংশ পুড়ে যায়। এরপর শুরু হলো কষ্টের দিন। চিকিৎসার জন্য মিল থেকে যা দেয়া হতো তা খুবই কম, তাই নিজের সম্পত্তি আস্তে আস্তে বিক্রি করতে হলো। একটা সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণে মিলের চাকরিটাও হারালেন। চলে এলেন ঢাকায়। কাজলা মৃধাবাড়ি ময়লার রাস্তার পাশে একটি বাসা ভাড়া করলেন। চাকরি নিলেন নাইট গার্ডের। বেশ কিছু দিন কাজ করার পর হঠাৎ একদিন হার্ট অ্যাটাক হলো। মজিবুরের ভাগ্য আবারো নিয়ম পাল্টে দিলো। শরীর দুর্বল হওয়ায় চাকরি আর করতে পারলেন না। এ দিকে স্ত্রী ও ছোট মেয়েটি উপস থাকে। মেয়ের জামাইদের কাছেও হাত পাততে রাজি নন তিনি। ছোট মেয়েটি পড়াশোনা বাদ দিয়ে একটি জুতার কারখানায় কাজে লেগে গেল। আর মজিবুর রহমান শুরু করলেন ভিক্ষা করা। প্রতিদিন অনেকটা পথ হেঁটে ভিক্ষা করেন। যা জোটে তাতে কোনো রকম চলে যায়। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে গেলেও, জীবনের কাছে তিনি মাথা নত করেননি। এভাবেই মজিবুর নিজের নিয়তির সাথে খেলে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কে জানে এই খেলার শেষ কোথায়।

10-05-2015 অবকাশে মা দিবস স্পেশাল লেখা................

অফুরন্ত ভালোবাসায় মা

সোহানুর রহমান অনন্ত

মা ভালোবেসে আমাদের বড় করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তাকে ভালোবাসতে হবে সারা জীবন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি আমাদের অফুরান ভালোবাসা আর অশেষ শ্রদ্ধা। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত
মা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সব কষ্ট হাসিমুখে সয়ে যান, নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। সন্তানের সুখের জন্য নিজের সব সুখ বিলিয়ে দেন। আমরা প্রথম যে বুলি শিখি সেটাও মায়ের মুখ থেকে। পৃথিবীর কেউ আপনার মনের ভাষা বুঝতে না পারলেও মা আপনার মুখ দেখেই বলে দিতে পারবেন আপনি কষ্ট আছেন, না সুখে আছেন। আপনি যত বড়ই হন না কেন, মায়ের কাছে আপনি সেই ছোট শিশুর মতোই। আপনার বাড়ি ফিরতে দেড়ি হলে কিংবা ফোন বন্ধ থাকলে মায়ের চেয়ে বেশি কষ্ট আর কেউ পায় না। যখন আপনি দরজায় এসে দাঁড়াবেন মা-ই সবার আগে দৌড়ে গিয়ে বলবে খোকা এসেছিস, কত টেনশনে ছিলাম। মায়ের হাতের রান্না করা খাবার সব খাবারের ঊর্ধ্বে, যার কোনো তুলনা হয় না। আপনি হয়তো ভাবছেন মাকে শুধু নির্দিষ্ট একটা দিনে খুব বেশি ভালোবাসতে হবে কেন? মাকে তো প্রতিদিনই ভালোবাসা যায়, আলাদা করে একটি দিনের কী প্রয়োজন? প্রয়োজন আছে? এই ব্যস্ততম জীবনে সময়ের স্রোতে ভেসে হয়তো মাকে ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না। হয়তো মায়ের কী প্রয়োজন, তার শরীর ভালো কী খারাপ, তার কোনো খবর জানতে পারেননি। কিংবা আপনার মা হয়তো আপনার কাছে নেই অথবা বৃদ্ধাশ্রমে আপনার পথ চেয়ে চোখের পানি ফেলছে। তাই এই একটি দিন দুনিয়ার সব মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য উৎসর্গ করা হয়। হয়তো কখনো মাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারেননি আপনি তাকে কত ভালোবাসেন। বলতে পারেননি আপনার মনের জমে থাকা কষ্টের কথাগুলো। আর তাই মা দিবসে আপনি সারা দিন মায়ের সাথে কাটাতে পারেন। মায়েরা সব সময় সন্তানদের কাছে পেতে চায়। আপনি যদি মায়ের সাথে কিছুটা সময় কাটান, দেখবেন মা অনেক খুশি হবে। আর আপনার কাছেও বেশ ভালো লাগবে। যদি মা দূরে থাকে তবে ছুটে যান তার কাছে। চাইলে মাকে সারপ্রাইজও দিতে পারেন। আপনার এমন পাগলামো দেখে নিশ্চয়ই মা আনন্দিত হবেন। বিভিন্ন উপহার দিয়ে মাকে চমকে দিতে পারেন। কী উপহার দেবেন মাকে? ভিন্ন ধরনের কিছু দিতে চাইলে কোনো শিল্পীকে দিয়ে করিয়ে নিন মায়ের সুন্দর মুখের স্কেচ। চাইলে ফুল দিতে পারেন কিংবা একবাক্স চকোলেট। সুন্দর ফ্রেমের মধ্যে করে দিতে পারেন মায়ের কোনো সুন্দর মুহূর্তের ছবি আর যদি শাড়ি উপহার দিতে চান, তাহলে দেখুন মায়ের কোন ধরনের শাড়ি বেশি পছন্দ। আবার যদি মা বই পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে উপহার দিন মায়ের ভালো লাগে এমন কোনো বই। আর যদি মা গান শুনতে ভালোবাসেন, তাহলে কিনে ফেলুন তার পছন্দের গানের সিডি। নিতে পারেন মায়ের জন্য তার পছন্দের খাবারও। তবে মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় উপহার আর কিছুই নেই। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় সন্তানদের হারানোর পর জুলি ওয়ার্ড নামে এক মহিলা সব মাকে একত্র করেন এ জন্য যে, যাতে কোনো মায়ের সন্তান যেন অন্য মায়ের সন্তানদের হত্যা না করে। তিনি ৪ জুলাই মা দিবস পালনের প্রস্তাব রাখেন। তার প্রস্তাবনা বিবেচনা করে ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ২ জুলাই আমেরিকার ১৮টি অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালন করা হয়। কিন্তু কিছু দিন পরেই এই আয়োজন স্তিমিত হয়ে যায়। মে মাসের চতুর্থ রোববারকে মাদারিং সানডে হিসেবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতেরো শতকের কথা। মায়ের সাথে সময় দেয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। ব্রিটেনেই প্রথম শুরু হয় মা দিবস পালনের রেওয়াজ। তবে মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটায় মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, মা নিয়ে এই দিনটি প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা
থেকে সূত্রপাত হয়। গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেলের উদ্দেশে পালন করা হতো একটি উৎসব। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯১২ সালে আনা জার্ভিস মাদারস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিযশেন (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) গঠন করেন। এমনকি তিনিই ‘মে মাসের দ্বিতীয় রোববার’ আর ‘মা দিবস’ এই দু’টি শব্দের বহুল প্রচারণা চালাতে সম হন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস। খুব ঘটা করে পালন করা হয় এই দিনটি। কার্ডের দোকানগুলোতে, মাকে নিয়ে তৈরি করা অনেক কার্ড দেখা যায়। মা দিবস হলো মায়ের সম্মানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য বছরের একটি বিশেষ দিন। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই উদযাপিত হয়ে আসছে এ দিবস। সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই মার্চ, এপ্রিল বা মে মাসেই বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। তবে মাকে ভালোবাসার জন্য ৩৬৫ দিনই মা দিবস। বিভিন্ন দেশে অনেক উৎসব থাকলেও মা দিবস খুব জাঁকজমকভাবে পালন করে থাকে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বা দেশগুলোতে ব্রিটিশ প্রথানুযায়ী মা দিবস পালন হয়ে থাকে। প্রতি বছর ২৭ মে বলিভিয়ায় মা দিবস পালন করা হয়। মা দিবসটি চীন দেশে আগে ততটা জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে চীনাদের মনেও এই দিনটি ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে। এখন খুব জাঁকজমকভাবেই সেখানে মা দিবস পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে ১৯২২ সালে আলভারো ওব্রেগন সরকার মা দিবসের প্রচলন করে। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ সারা বিশ্বের প্রায় ৬০টির মতো দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার একসাথে মা দিবস পালিত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরেই। আমাদের দেশেও মা দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশি। মাকে নানা রকম উপহার দেয়া, মাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি চোখে পড়ার মতো। যারা প্রবাসে থাকে তারা হয়তো মায়ের কাছে আসতে পারেন না কিন্তু ফোনে ঠিকই মায়ের সাথে কথা বলেন। এভাবেই মা দিবস প্রতিটি সন্তানের কাছে মায়ের ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে সব মা যে এই দিনে ভালোবাসা পাচ্ছেন, এমনটাও কিন্তু নয়। যে মায়ের ভাষায় কথা বলছি, সেই মা-ই হয়তো বৃদ্ধাশ্রমে সন্তানের অপেক্ষায় পথের দিকে চেয়ে থাকে। হয়তো ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে কোনো মা তাকিয়ে থাকে হাজারো লোকের ভিড়ে যদি সন্তানকে একনজর দেখা যায়। মা দিবসেও হয়তো বৃদ্ধাশ্রমে তাদের দিন কাটে অন্য আট দশটা দিনের মতো। সত্যি বলতে, মায়ের প্রতি আজো আমাদের ভালোবাসাটা একটু কাঁচা রয়ে গেছে। মা থাকতেও তাকে দূরে সরিয়ে রাখা অনেকটা দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না বোঝার মতো। যার মা পৃথিবীতে নেই, সে যে কতটা অসহায় তার বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। আপনি ব্যবসায় লস করলে হয়তো, ভবিষ্যতে লাভবান হবেন। একটা চাকরি হারালে আরেকটা চাকরি পাবেন কিন্তু মা একবার জীবন থেকে হারিয়ে গেলে তাকে আর ফিরে পাবেন না। যদি সম্ভব হয় একটি দিনে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা মায়ের জন্য কিছু ফুল, ভালো কিছু খাবার নিয়ে তাদের সাথে সারা দিন কাটিয়ে দিন। নিঃসঙ্গ, অসহায় মায়েরা বহুদিন পর সন্তানদের দেখতে পেয়ে যে পরিমাণ খুশি হবেন, তাতে সারা বছর দেখা না করার কষ্টটা কিছুণের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তবে মাকে পাশে রাখা, তার সেবা করাই আমাদের কর্তব্য। মোটা মোটা বই পড়ে হয়তো আমাদের মাথাও একসময় মোটা হয়ে যায়, তাই মায়ের কথা ভুলে যাই খুব সহজে। তাই কৃত্রিমতা নয়; ভালোবাসতে হবে হৃদয়ের একান্ত গহিন থেকে। ভালোবাসতে হবে এক দিনে জন্য নয় বরং প্রতিদিন ও সার্বণিকভাবে। যেভাবে মা ভালোবেসে আমাদের বড় করে তুলেছেন ঠিক সেভাবেই তাকে ভালোবাসতে হবে সারা জীবন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি আমাদের অফুরান ভালোবাসা আর অশেষ শ্রদ্ধা

১০ মে ২০১৫ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন রোববার সাহিত্য পাতায়