join facebook page

Tuesday, 12 May 2015

অনেক দিন পর প্রথম আলোতে লিখলাম আজ ১৫-০৩-২০১৫ দৈনিক প্রথম আলোর বন্ধুসভায়

নীল ক্যাফের ভালোবাসা
সোহানুর রহমান

আরিস সবে কফির কাপে চুমুক দিয়েছে। ঠিক এমন সময় নাবিলার মেসেজ এল।
-তোর কি আমার স্ট্যাটাস চুরি করা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই?
-আছে তো?
-আছে মানে?
-হ্যাঁ তোর স্ট্যাটাসে লাইক দেওয়া। এটাও তো একটা কাজ, কী বলিস? উত্তর দিয়ে আরিস মিটিমিটি হাসে।
-বুঝেছি তুই কথা প্যাঁচাবি, বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখ, আকাশে কী সুন্দর একটা চাঁদ।
-তুই তো কেবল চাঁদটাই দেখলি, চাঁদের মধ্যে কালো বর্ণে কি লেখা সেটা দেখলি না।
-কী লেখা?
-সেখানে লেখা নাবিলার নাকটা এভারেস্টের চেয়ে কম নয়। হা হা হা, হো হো।
-ইউ, তুই আমাকে পচালি, আমার নাক এভারেস্টের মতো? আমাকে যদি দেখতি তাহলে বুঝতি আমার নাক কত কিউট।
-একটা সেলফি তুলে পাঠিয়ে দে, দরকার হলে ফেসবুকে আপ করে পুরো দেশকে দেখাব।
-হয়েছে পাম মারিস না, আমি গেলাম।
-দোস্ত একটা পিক দে না, কতকাল আর এমন পিকচার বিহীন থাকবি।
-যতকাল পিকচার না দিচ্ছি ততকাল। নাবিলা ফেসবুক থেকে চলে যেতেই আরিস নাবিলার টাইমলাইনে ঢুকে। ফেসবুকে নাবিলার সঙ্গে পরিচয়। একসময় ভালো বন্ধুত্ব। আরিস মনে মনে ভাবল, আজব মেয়ে, কোনো ছবিই দেয়নি। তা ছাড়া সব ইনফরমেশনই অনলি মি করা। কেবল ডলের ছবি দেওয়া কতগুলো, বড় ডল ছোট ডল, অদ্ভুত। ইদানীং নাবিলাকে খুব ভাবছে আরিস। ফেসবুকে তো আরও অনেক বন্ধু আছে কিন্তু নাবিলা কেন? অচেনা একটা মেয়ে, যাকে কোনো দিন দেখেনি, এমনো তো হতে পারে আইডিটা ফেক। নাহ্ ফেক হতে পারে না, আরিস নিজেকে ধমক দেয়। আরিস দুষ্টুমি করেই নাবিলার ইনবক্সে টেক্সট করে।È‘নাবিলা আমি বোধ হয় তোর প্রেমে পড়ে গেছি, সারাক্ষণ কেবল তোকেই ভাবি, স্যরি তোমাকেই ভাবি। উত্তরের আশা করে লাভ নেই, আমি জানি তুমিও আমায় ভালোবাসো।’ দুষ্টুমি করে দিলেও কেমন যেন ভয় লাগছে। সারা রাত আর ফেসবুকে ঢোকেনি, তার পরদিনও না। তিন দিন পর ফেসবুকে ঢুকে শকট হলো আরিস। কোনো উত্তর দেয়নি নাবিলা, আরও অদ্ভুত ব্যাপার এই তিন দিন ফেসবুকে আর কোনো স্ট্যাটাসও দেয়নি ও। এমন তো কখনো হয় না। এরপর আরও অনেক দিন কেটে গেল। নাবিলা ফেসবুকে নেই, অকারণেই ওর টাইমলাইন ঘাঁটাঘাঁটি করে আরিস। অদেখা মেয়েটির জন্য এমন লাগছে কেন? তাহলে কি সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে নাবিলাকে? হয়তো বা...। আরিস অনেক ভেবে একটা টেক্সট করে নাবিলাকে। ‘প্রথমটা দুষ্টুমি হলেও এখন সিরিয়াস বলছি, আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি। তোমার শূন্যতা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, যে ফেসবুকে তুমি নেই, সেখানে আমার থাকাটাও বেমানান। আমি তোমার জন্য নীল ক্যাফেতে অপেক্ষা করব। আসবে কি না পুরোটাই তোমার ইচ্ছে...।’
এরপর প্রতিটি বিকেল যেন নীল ক্যাফের কাচের জানালাগুলোতে ভালোবাসার আলপনা আঁকত। আরও ১৫ দিন কেটে গেল কিন্তু নাবিলা আসেনি। এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে, আরিস ক্যাফেতে বসে আছে। ঝিরঝির বৃষ্টি তখনো পড়ছিল। ঠিক বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একটি মেয়ে প্রবেশ করল ক্যাফেতে। সোজা এসে বসল আরিসের সামনের চেয়ারটাতে। আরিস কিছু বলার আগেই বলল নাবিলা, ‘তোমার চুরি করা স্ট্যাটাসের একমাত্র মালিক।’ মুহূর্তেই আরিস যেন নিজেকে ফিরে পেল। নাবিলা...। ‘ইয়েস, কোনো সন্দেহ?’ ‘ফেসবুকে ছিলে না কেন?’ ‘তোমাকে বাজিয়ে দেখলাম, সত্যি ভালোবাস কি না,’ ‘কি বুঝলে?’ ‘বুঝলাম এখানে অন্তত চুরিটা নেই।’ এই বলে নাবিলা হেসে উঠল... আরিস তাকিয়ে রইল ওর মুগ্ধ করা মুখটির দিকে। বাইরে তখন বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।


weekly magazine robbar 08 march 2015 issue- shahitto patay amar golpo

0-3-2015 Daily Somokal-ar Suhriid-a amar lakha golpo>>><<<<<

অনুপমা
সোহানুর রহমান অনন্ত

আমাদের বাড়ির পাশেই কিরণ-মালার দীঘি। কীভাবে এই দীঘির নামকরণ হলো, এই দীঘির বয়সই বা কত, গ্রামের মানুষ বলতে পারে না। দীঘির ওপাশেই হিন্দুপাড়া। সন্ধ্যা হলেই কাঁসর ঘণ্টার শব্দ শোনা যায়। হিন্দুপাড়ার ঠিক মাঝখানেই ছিল অনুপমাদের বাড়ি। বেশ গোছানো একটি পরিবার। অনুপমার বড় ভাই বকুল ঘোষের সঙ্গে ছিল আমার ভালো সম্পর্ক। প্রায়ই দু'জন একসঙ্গে বাজারে মুনসুরের দোকানে বসে চা খাই। বকুলদার সঙ্গে সব সময় একটি রেডিও থাকত। গ্রামের সাধারণ কৃষকেরা সুযোগ পেলেই ধরে বসত রেডিওর খবর শোনার জন্য। দেশের অবস্থা একেবারে ভালো না। পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর গুলি করছে নির্বিচারে। চারদিকে আতঙ্ক।
একেবারে অজো পাড়ার এক গ্রামে জন্ম আমার। তবে এই অজপাড়াগাঁয়েরও একটি সৌন্দর্য রয়েছে। আর তা হলো অনুপমা। পুরো নাম অনুপমা ঘোষ। গ্রামের আট-দশটা মেয়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। যেমন গায়ের রঙ তেমন চেহারা। কথা বলার ধরনটাও মিষ্টি। বেশ কয়েকটা বিয়ের সম্বন্ধ এসে ভেঙে গেছে। পাত্র যৌতুক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। মাঝে মাঝেই বকুলদা আফসোসের সঙ্গে বলে, বোনটার জন্য একখান সুপাত্র পেলাম না! এই বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি কেবল শুনে যাই, কোনো উত্তর দিই না।
সন্ধ্যা হলেই অনুপমাদের বাড়ি গিয়ে উঠি বকুলদার খোঁজে। আর ঠিক সেই সময়টিতেই চোখাচোখি হয় অনুপমার সঙ্গে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখের পাপড়ি দুটি আর এক হয় না। এক কাপ চা আর মুড়ি খেতেই হয়। অনুপমার বাবা শয্যাশায়ী। এককালে বেশ নাম করা
সোনার ব্যবসায়ী ছিলেন। কালের বিবর্তনে এখন সেসব কিছুই নেই। অনুপমার কাকা নিতাই ঘোষ। মাঝে মাঝে আমাকে দেখলে তাকিয়ে থাকেন। তিনি যে আমার এ বাড়িতে আসা পছন্দ করেন না, সেটা ঢের বোঝা যায় চাহনি দেখে। অবশ্য এতে দোষের কিছু নেই। একজন মুসলিম ছেলে হিন্দুবাড়িতে এলে মানুষ আড়চোখে দেখতেই পারে। সেদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘোষবাড়িতে প্রবেশ করলাম। পুরো বাড়ি অন্ধকারে ঢাকা। উঠোনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার বকুলদার নাম ধরে ডাকলাম। কোনো সাড়া-শব্দ নেই। ফিরে যাব কি-না ভাবছি এমন সময় অনুপমা বলে উঠল, দাদা তো সদরে গেছে। আসমানের যা অবস্থা, তাতে আজ আর ফিরবে না বোধ হয়। সদরে দাদার বন্ধু তুষার দত্তের বাড়িতেই থেকে যাবে হয়তো। আমি কিছুই বললাম না। ফিরে যাবার জন্য পা বাড়াব এমন সময় অনুপমা বলল, দাঁড়িয়ে না থেকে ভেতরে এসে বসেন। ভিজে যাচ্ছেন তো। আমি ছাতাটা রেখে ভেতরে গিয়ে বসলাম। অনুপমা একটা গামছা এনে বলল, মাথাটা মুছে নিন, ঠাণ্ডা লেগে যাবে। ওর ঠোঁটের মুচকি হাসিতে ছোট্ট তিলটা নেচে উঠছে। হারিকেনের হালকা আলোয় অনুপমার মুখটা সত্যি বেশ সুন্দর লাগছে। আমি তাকিয়ে রইলাম অপলক দৃষ্টিতে।
২.
বৃষ্টি কমে এলে ছাতাটা নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম। বকুলদা আমাকে দেখে বলল, শুনেছিস?
কী?
পাকবাহিনী নাকি গ্রামের মানুষদের ওপর হামলা শুরু করেছে। কথাটা শুনে চমকে গেলাম আমি। ভেতর থেকে বাবা বেরিয়ে এলেন। সর্বনাশ! এখন কী হবে? বকুলদা আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বলল, শোন, গ্রাম থেকে অনেকে মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিং নিতে যাইতাছে। সবকিছু ঠিক করে রেখেছি, আমিও চলে যাব। এখন তুই যাবি কি-না বল? আমি কী করব ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। একদিকে অনুপমার ভালোবাসা অন্যদিকে দেশরক্ষা। শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম, আজ রাতেই আমরা ট্রেনিং নিতে চলে যাব। সন্ধ্যায় আর একবার গেলাম
ঘোষবাড়িতে। অনুপমা আজ একটি শাড়ি পরেছে। দেশের এই খারাপ সময়ের মাঝেও অনুপমার মুখটা দেখলে শান্তি পাই। নাহ্; ভালোবাসার কথাটা আর বলা যাবে না অনুপমাকে। আগে দেশ স্বাধীন করি, তারপর বলব। ফেরার সময় একবার তাকিয়েছিলাম অনুপমার দিকে। ঠিক সেদিনের মতো আজও আমার চলে আসার দিকে তাকিয়ে আছে। তবে আজ হাসি নেই। মলিন একটি মুখ। হয়তো অনুপমাও শুনতে চেয়েছিল আমার মুখের না-বলা সেই কথাটুকু। আর তাকিয়ে থাকতে পারলাম না। মাঝরাতে আমরা বেশ কয়েকজন বেরিয়ে পড়লাম। বাবা অবশ্য বেশ কয়েকবার বলেছেন, দরকার নেই যুদ্ধে যাওয়ার। তার চেয়ে বরং আমরা ইন্ডিয়া চলে যাই। সেখানে আমাদের দুরসম্পর্কের একজন চাচা থাকে। কিন্তু দেশপ্রেমের কাছে সেদিন সবকিছুই মিছে হয়ে গিয়েছিল। অন্ধকারে কিরণ-মালার দীঘির পাড় ধরে আমরা হেঁটে চললাম। দীঘির জলে তখন আধা মেঘে ঢাকা চাঁদটা ভেসে আছে।
৩.
যুদ্ধ চলা অবস্থায় খুব মনে পড়ত অনুপমার কথা। চুপিচপি ঘোষবাড়িতে ঢুকে অনুপমার ঘরের দরজায় টোকা দিলাম।
কে? ফিসফিস করে বললাম, আমি। অনুপমা কণ্ঠ চিনতে পেরে দরজা খুলে দেয়। আমাকে দেখে হয়তো চমকে গেছে। আমি তাকিয়ে রইলাম ভালোবাসার মুখটির দিকে। অনুপমা মুচকি হাসলো।
দাদা কেমন আছে?
ভালো আছে।
আচ্ছা দেশ কবে স্বাধীন হইব?
হবে, খুব তাড়াতাড়ি। একটা কথা ছিল।
কী কথা?
নাহ্, এখন বলব না। যেদিন দেশ স্বাধীন করতে পারব সেদিন বলব।
ততদিনে যদি দেরি হয়ে যায়?
হবে না, আমি ফিরে আসবই। চাঁদের এক টুকরো আলো এসে পড়েছে অনুপমার মুখের উপর। আচ্ছা আমি এখন যাই_ বলে ফেরার জন্য পা বাড়ালাম। এই প্রথম অনুপমার চোখে জল দেখলাম। চাঁদের হালকা আলোয় এক একটি ফোঁটা জ্বলজ্বল করছে। কষ্টটাকে মনে চাপা দিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম। পেছনে আর তাকাতে পারলাম না।
৪.
চারদিকে বিজয়ের খবর শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তানি বাহিনী এখন দিশেহারা। তবুও আমরা থেমে না গিয়ে আক্রমণ চালিয়ে গেলাম। অবশেষে শত্রুপক্ষকে শেষ করে স্কুলটি দখল করলাম। স্কুলের প্রতিটি রুমেই অনেক বাঙালির লাশ পড়ে আছে। সবাই একেকটি রুম দেখতে লাগলাম, কেউ বেঁচে আছে কিনা। একটি রুমে ঢুকতেই দেখলাম রুমটা অন্ধকার। হঠাৎ মনে হলো, একটা মানুষের দেহ মেঝেয় পড়ে আছে। পকেট থেকে ম্যাচটা বের করে এক নিঃশ্বাসে কাঠি জ্বালালাম। সামনে যা দেখলাম তাতে আমি কিছুক্ষণের জন্য পাথর। আগুনটা জ্বলতে জ্বলতে আঙুলে এসে আঘাত করেছে। চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু জল। অন্ধকারে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। চোখের ভুল নয়তো? আরও একটি কাঠি জ্বালালাম সাহস করে। হ্যাঁ সত্যি। ওই তো আমার অনুপমার অর্ধনগ্ন লাশ পড়ে আছে। নরপিশাচরা শকুনের মতো শেষ করেছে আমার ভালোবাসাকে। হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে লাগলাম। মনে পড়ে গেল অনুপমার কথা। সত্যি কি দেরি করে ফেললাম আমি?
৫.
চারদিকে চূড়ান্ত বিজয়ের আনন্দ। অনেক রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিরণ-মালার দীঘির জলে পা ভিজিয়ে আমি বসে আছি। দীঘির ওপারে শ্মশানে দাহ করা হয়েছে অনুপমাকে। আমার অশ্রু ঝরে পড়ে দীঘির জলে। বকুলদা এসে পাশে বসল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল, এ আমার কী হলো রে ভাই? গ্রামের একজনের মুখে শুনলাম, কিছু রাজাকার জানতে পারে আমি মুক্তিযুদ্ধে গেছি। ব্যস, পাকিস্তানি বাহিনীকে খবর দিয়ে গ্রামে নিয়ে আসে। বাড়ি এসে প্রথমে বাবাকে হত্যা করে এবং অনুপমাকে তুলে নিয়ে যায়। আমি শুনে গেলাম কথাগুলো। কোনো উত্তর দিলাম না। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি শ্মশানের দিকে। বকুলদা পাশে কেঁদেই চলল। আমার হৃদয়টাও কাঁদছিল কিন্তুবকুলদা সে কান্না দেখতে পায়নি।

Tuesday, 31 March 2015

৯-০৩-২০১৫ দৈনিক সমকালের প্যাঁচালে আমার লেখা আইডিয়া...........পড়ে হাসি না আসলে আমি দায়ী নই
৮-০৩-২০১৫ দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় আমার লেখা এক্সক্লুসিভ আইডিয়া, আঁকা কুমন থক্কু সুমন
আজ ০৮-০৩-২০১৫ দৈনিক নয়াদিগন্তে অবকাশ পাতায় আমার লেখা বসন্ত নিয়ে

এখন বসন্ত

সোহানুর রহমান অনন্ত

প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপ পায় বসন্ত এলে। শীতে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বসন্তের ছোঁয়ায় সেজে ওঠে অপরূপ সাজে। পাতা ঝরার দিন শেষে গাছের ডালে ডালে উঁকি দেয় নতুন কচি সবুজ পাতা। প্রকৃতির মাঝে রঙ মাখাতে ব্যস্ত থাকে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া। লিখেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত

বসন্ত মানেই শীতের আনুষ্ঠানিক বিদায়। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা আয়োজনের মাঝে বরণ করে নেয় এর প্রথম দিনটিকে। পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে তরুণ, আর বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোঁপায় ফুল এবং কপালে টিপ পরে তরুণীরা। হাতে থাকে বাহারি রঙের চুড়ি। আর সেই রঙের ছোঁয়ায় প্রতিটি পথ যেন ছন্দময় হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে প্রেমপাগল মন যেন বসন্তকে নিয়েই স্বপ্ন দেখেছে। বসন্তের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যায় না গ্রাম্যজীবনও। আমের মুকুলের সৌরভে আর পিঠাপুলির মিষ্টিঘ্রাণে গ্রামে বসন্তের আমেজ একটু বেশিই ধরা পড়ে। বসন্তকে তারা আরো নিবিড়ভাবে বরণ করে। বসন্তের প্রথম দিনটি আমার পয়লা ফাল্গুন উৎসব হিসেবে পালন করি। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। এর পর তিনি নতুন বছরকে কেন্দ্র করে সবার জন্য ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। বাঙালিদের প্রাণের উৎসব। এর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য, বাঙালি সত্তা। ১৯৫২ সালের ৮ ফাগুন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পলাশরাঙা দিনে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিলেন রফিক, বরকতসহ আরো অনেকে। আর এই বসন্তেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। তাই প্রত্যেক বাঙালির মনে গেঁথে আছে এই বসন্ত।
প্রকৃতি এক ভিন্ন রূপ পায় বসন্ত এলে। শীতে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতি বসন্তের ছোঁয়ায় সেজে ওঠে অপরূপ সাজে। পাতা ঝরার দিন শেষে গাছের ডালে ডালে উঁকি দেয় নতুন কচি সবুজ পাতা। প্রকৃতির মাঝে রঙ মাখাতে ব্যস্ত থাকে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া। প্রিয়ার মনের মতোই যেন সবুজে ভরে ওঠে অরণ্য। যত দূর চোখ যায়, কেবল সবুজ আর সবুজ। বসন্ত শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও দোলা দেয়। বসন্ত মানে মনের পূর্ণতা, নিবির এক আকাক্সার মিলন। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে বহুদূর হেঁটে যাওয়া। চোখে চোখ রেখে, কল্পলোকের ছবি আঁকা। বসন্তের রঙ মনকে আনমনা করে দেয়। কোকিলের কুহুকুহু সুর যেন বিষের বাঁশির মতো বেজে ওঠে বিরহী হৃদয়ে। কনকনে ঠাণ্ডা না থাকলেও মাঝে মাঝে শীতল হাওয়া শরীর জুড়িয়ে দিয়ে যায়। শহরে এর প্রভাব তেমন না দেখা গেলেও গ্রামে এর সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। বসন্ত এলেই গ্রামের হাটে মেলা বসে। যাত্রাপালা অথবা সার্কাস পার্টি আসে দূর-দূরান্ত থেকে। বসন্ত প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে ভিন্ন অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই তাকে বলা হয় ঋতুরাজ। কত শত কবিতা, গান কবিরা লিখে গেছেন এই বসন্ত নিয়ে, তার কোনো হিসাব নেই। প্রেমিকার মিষ্টি হাসির মতোই বসন্ত আলোড়ন তোলে, ঢেউ তোলে মনের সমুদ্রে, শিহরণ জাগায়। সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে শিশিরের অলঙ্করণ নজর কাড়ে। মেঘমুক্ত আকাশে ওড়ে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। শেষ রাতে শোনা যায় টিনের চালে টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া শিশিরের শব্দ। প্রকৃতির সাথে সাথে বসন্তে জেগে ওঠে প্রতিটি প্রাণ, আর হারিয়ে যেতে চায় অজানার মাঝে। া
sranontojugantor@gmail.com




রহস্য পত্রিকা মার্চ ২০১৫ চলতি সংখ্যায় আমার লেখা হরর গল্প (চোর